আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সত্যবাণী:
দীর্ঘদিন ধরে চলা স্নায়ুযুদ্ধ ও আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর, সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তে দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতা এবং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার এই চরম উত্তেজনা এখন কেবল কূটনৈতিক বাগাড়ম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
উত্তেজনার মূল কারণ ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ক্রমাগত ড্রোন ও রকেট হামলা এবং এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগনের দাবি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে ইরান সরাসরি এই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের একপেশে নীতিই এই অঞ্চলের মূল অশান্তির কারণ। তেহরানের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থে আঘাত আসলে তারা মার্কিন বাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।
লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া
সামরিক দিক থেকে রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরে দুই দেশের নৌবাহিনীর অবস্থান এখন যুদ্ধংদেহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পঞ্চম নৌবহরকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে এবং মিত্রদের নিয়ে টহল জোরদার করেছে। জবাবে ইরানও তাদের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ড্রিল (সামরিক মহড়া) প্রদর্শন করে ওয়াশিংটনকে শক্তির বার্তা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, ফলে এখানে সামান্যতম সংঘাতও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও যুদ্ধ পরিস্থিতি
এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা। চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই মুহূর্তে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে তাতে ইসরায়েল, লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য জড়িয়ে পড়বে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আপাতত দুই পক্ষই একে অপরকে মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে যেকোনো এক পক্ষের সামান্য ভুল হিসাব-নিকাশ বা আকস্মিক কোনো হামলা এই অঞ্চলের বারুদে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও এএফপি (সংক্ষেপিত)।







Leave a Reply