ভ্রমণ

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৯)

  সিউল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টার একটা মিনি জেলখানায় পরিনত হয়েছিলো। এখনও তেমন আছে কি না জানিনা। ওই সময় দেখেছিলাম অপরাধ সংঘটনকারী বা অবৈধ অবস্থানকারী বিভিন্ন দেশের পাগলাটে লোকজনের এক গারদখানা।   ‘১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের পর সন্দেহের দৃষ্টিতে ছিলো ভারতীয় ও শ্রীলংকান তামিলরা। সে কারণে শ্রীলংকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘লিবারেশন টাইগার্স অব […]

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৯) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৮)

‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিমানমতো দেড় বা দুইটা মুরগি রান্না করে রেখে দিতাম। ফ্রিজে না রাখলেও মাইনাস শীতের কারণে তা নষ্ট হতো না। অন্যদিকে রাইস কুকার কোনোদিন বিদ্যুৎ থেকে বিযুক্ত করতাম না’।   ‘কোরিয়াতে কোনো সিদ্ধ চাউলের প্রচলন নাই। বাজারে যে আতপ চাউল পাওয়া যেতো তা কাচের মতো ঝকঝক করতো। ভাতও হতো খুব মোলায়েম এবং খেতে

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৮) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৭)

কোরিয়াতে যেখানে সেখানে চা পাওয়া যায় না। ফুটপাতের উপর বিভিন্ন স্থানে ইগলু আইসক্রিমের বক্সের মতো দেখতে একপ্রকার বক্স বসানো থাকে। কোনো ব্রিক্রেতা নেই। বক্সে কয়েন ড্রপ করে যার যেমন খুশি ঠান্ডা বা গরম চা, কফি, কোল্ড ড্রিংকস পান করতে হয়। চা পিয়াসী বাঙালি হিসেবে একদিন এক বক্সে এক পেয়ালা গড়ম চায়ের জন্যে কয়েন ড্রপ করলাম।

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৭) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৬)

  দক্ষিণ কোরিয়ায় মহিলা মালিকের নীটিং ফাক্টরিতে ভালোই কাটছিলো। ফ্যাক্টরিতে কর্মরত মহিলা পুরুষ সবাই আমাকে খুব আন্তরিকতার সাথেই সমাদর করতো। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই এক বিপত্তি শুরু হলো। কম বেতনে মহিলা ওপারেটর দিয়ে দিনে কাজ করাতো আর আমাকে দিয়ে কন্টিনিউ রাতে কাজ করাতে শুরু করলো। অজুহাত দিতো, ‘তোমার পারমিট নেই, দিনে পুলিশ এসে উতপাৎ

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৬) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৫)

কোরিয়াতে ‍সারাদিন কাজের অবসরে শীতের মধ্যে নিজের রুমে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। তবে রুমে টিভি থাকায় একটু বিনোদনের সুযোগ ছি্লো। ১৯৯২ সালেই সে দেশে প্রায় ৫০ টি টিভি চ্যানেল চালু ছিল। তারমধ্যে আমেরিকার দু’টি এবং জাপানের একটি, বাকি সবগুলো তাদের নিজস্ব। আমাদের দেশে তখনও পর্যন্ত একমাত্র বিটিভিই ভরসা। ‘টিভির বিভিন্ন

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৫) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৪)

১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় পর্যন্ত আমাদের দেশে মোটা ইরি চাউলের দাম ছিলো প্রতি কেজি ০৬ টাকা। আমি যখন কোরিয়া যাই অর্থাৎ ১৯৯২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তা বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রতি কেজি ১২ টাকায় পৌঁছে। কোরিয়াতে গিয়ে দেখলাম সে দেশে সর্বনিম্ন চাউলের দাম ৪৫ টাকা প্রতি কেজি। ভাবলাম যে দেশে আয় রোজগার বেশি সে দেশে কি

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৪) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৩)

সিউল শহরে বাসে চলার সময় একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি। শহর বা শহরতলিতে লোকাল হিসেবেও অতি উন্নতমানের বাস চলাচল করে। ‘শহরের ট্যক্সিকাবগুলোও দেখেছি আমাদের দেশের তখনকার অভিজাতশ্রেণীর প্রাইভেট কারগুলোর চেয়েও উন্নত’।   বাস স্টপেজগুলোতে যাত্রীরা একে একে এসে লাইন ধরে দাড়াচ্ছে। অল্পক্ষণ পর পর বাস আসছে। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে বাসে উঠছে, কোন হুড়োহুড়ি নেই। একটায় যেতে না

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১৩) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১২)

‘কোরিয়াতে মাত্র ৪ টি ঋতু। শীত, গ্রীষ্ম, শরৎ, হেমন্ত। তবে সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বছরের প্রায় আটমাসই কমবেশি শীত থাকে। সিউল যাওয়ার সময় সর্বদা বিদেশ ভ্রমণে অভ্যাস্ত আমার মালিক বলে দিলেন শীতের কাপড় সাথে নিতে। ভাবলাম এসময়ে এতো শীত তো আর হবেনা, ব্যাগেও জায়গা হচ্ছিল না তাই একটিমাত্র বুকফারা হাফ সোয়েটার নিয়েছিলাম সাথে। সিউলে যাওয়ার

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১২) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১১)

  নিজের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় সহ একটি সাইডব্যাগ এবং একটি ব্রীফকেইস ছাড়া তেমন কোনো ভারী লাগেজ আমার সাথে ছিলোনা। শিউল বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আমার সিরিয়ালে যে ট্যাক্সিক্যাবটি এসে দাঁড়ালো তাতে ওঠার সময় ড্রাইভার একটু আশ্চর্য এবং খুশিও হলো, কারণ তেমন লাগেজও নেই যাত্রীও আমি একা। কিন্তু আমার একটু ভয় লাগছিলো, না জানি

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১১) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১০)

‘হংকং এয়ারপোর্টে ৩-৪ ঘন্টা অবস্থানকালীন কয়েকটা বিষয় নজরে এসেছিলো। কতো দেশ থেকে কতো মানুষ যে ওই রুটে যাতায়াত করে তার শেষ নেই। তবে আমাদের দেশে মানব পাচারে নিয়োজিত গাইডনাম্নী দালালদের দৌড়াত্য দেখে অবাক লাগলো’।   এক গাইড ১১ জন ‘মফিজ’ নিয়ে যাচ্ছে গ্রিসে। ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগ থেকেই তাদেরকে দেখছিলাম একসাথে জটলা পাকিয়ে কথাবার্তা

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১০) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৯)

  ‘আকাশে শান্তির নীড়’ নীতিবাক্য(motto) ধারণকারী, শান্তির প্রতীক বলাকা মনোগ্রামে শোভামন্ডিত বাংলাদেশ বিমানের সার্ভিস ততো ভাল না অথচ ভাড়া বেশি সে কারণে ঢাকা থেকে ‘ড্রাগন এয়ার’ এর টিকেট কেটেছিলাম ঢাকা-শিউল-ঢাকা ৩৮,০০০/- টাকায়। ড্রাগন এয়ারের ১৭৫ আসনের ছোট্ট বিমান হংকং পর্যন্ত নিয়ে নামিয়ে দিলো। সেখান থেকে ব্যাঙ্কক থেকে ছেড়ে আসা ‘ক্যাথে প্যাসিফিক’ বিমানে আমাকে শিউল যেতে

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৯) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৮)

  কোলকাতার শম্ভূনাথ হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে পরের দিনই যথারীতি শিয়ালদা থেকে ট্রেনে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু বিপত্তি বাধে গেদে এসে।   ‘অনেক চেষ্টা তদবির আর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবশেষে দীর্ঘ ৪৩ বছর পর পূনরায় ঢাকা-কোলকাতা রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ৪৩ বছর আগে ছিল ট্রেন ও ষ্টীমারে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাতায়াত। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৮) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৭)

বন্ধুদের ভ্রমণের গল্প শোনাতে গিয়ে প্রাসংগিকভাবেই ভ্রমণের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েরও আলোকপাত করছি। পর্ব-৬ এ চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার মধ্যকার তুলনামূলক ব্যবধান নিয়ে আলাপ করেছিলাম। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই ব্যবধানের জন্যে দায়ী নয় । দায়ী গোটা সমাজ ব্যবস্থা। ১৯৭১ সালে কল্যানী মুক্তিবাহিনী ট্র্যান্জিট ক্যাম্পে দেখেছি ভারতীয় পুলিশ কিংবা বিএসএফ-এর সদস্যরা

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৭) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৬)

ব্রিটিশ আমলে কোলকাতা হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় বাঙালি বিচারপতি ছিলেন শম্ভুনাথ পন্ডিত। আগে কখনও তার নাম শুনেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু কোলকাতায় দেখলাম সে খুব নামকরা এবং সবার কাছে সমান সন্মানীয় ও স্মরণীয়। তারই নামানুসারে সরকারী হাসপাতাল ‘শম্ভুনাথ হাসপাতাল’।   মাত্র ২ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দু’জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখালাম। একজন ভিনদেশী নাগরিক হয়েই এ

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৬) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৫)

  দর্শনা-গেদে বর্ডার অতিক্রম করার সময় কয়েকটি বিষয় নজরে এসেছিলো। ‘বাংলাদেশি মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ভারতের অভ্যান্তরে ২-৩ কিলোমিটার ভিতরেও কাজ করে, কিন্তু ভারতীয় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের অভ্যান্তরে কাজ করে না। বর্ডারে ইমিগ্রেশন কাজে সহায়তা করার জন্য উভয়পাশেই কিছু লোক কাজ করে। তারা অনভ্যস্ত বা নতুন লোকদের ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করে দেয়। বিনিময়ে ৫০-১০০ টাকা নেয়। এদের

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৫) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৪)

গেদে ষ্টেশনের অদূরেই বিএসএফ চেকপোষ্ট। ইমিগ্রেশন অফিস ষ্টেশনের একদম সাথে। পরন্ত বেলায় বিএসএফ চেকপোষ্টে যখন পৌঁছলাম, দেখলাম একটা ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে ষ্টেশনে। দর্শনা-গেদে বর্ডারে তেমন ভিড় হয়না। কিন্তু বিএসএফ-এর চেকিং শেষে ইমিগ্রেশনের কাজ করার সময় চোখের সামনেই টেনটি ছেড়ে দিলো। সেটাই ছিলো পূর্বোল্লেখিত মেইল ট্রেন।   ১৯৭১ সালে কোলকাতায় তৎকালিন বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস এবং গঙ্গা নদীর

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৪) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৩)

একটি লোকাল ট্রেন এক ষ্টেশনে মাত্র ১৫ সেকেন্ড বিরতি দেয় অনেকে শুনে হয়তো অবাকই হচ্ছেন। বিষয়টি আমারও বোধগম্যের বাইরে ছিল। ২০০৯-এ কোলকাতা বেড়িয়ে এসে অনুমান নির্ভর একটা সময় ধরে নিয়েছিলাম যে বিরতির সময়টা হয়তো ১ মিনিট হবে। সে ধারণা থেকে অনেকের কাছে গল্পও করেছিলাম। কিন্তু মনে হচ্ছিল গল্পটা কেউ বিশ্বাস করছে না। সেটা বুঝতে পেরেই

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-৩) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-২)

মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে আমি অসুস্থ অবস্থায় কল্যানী ট্র্যানজিট ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন ছিলাম। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই ১৬ই ডিসেম্বর’ ১৯৭১ কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হওয়ায় বিজয়োল্লাসে অসুস্থ শরীর নিয়েই মাতৃভূমির উদ্যেশ্যে যাত্রা করি। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ায় ভেবেছিলাম এতোদিনের লালিত বাসনা পূর্ণ করবো অর্থাৎ রানাঘাট-দর্শনা হয়ে রেলপথে দেশে যাবো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা যাতে অবাধে চলাচল করতে না পারে সেজন্যে পাক-বাহিনী রেলপথের প্রায়

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-২) Read More »

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১)

  ভূমিকাঃ “২০১৪ সালে খেয়ালের বসে “গরীবের ভ্রমণ বিলাস” শিরোনামে সম্পূর্ণ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে জীবনে যেসব জায়গায় গিয়েছি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ধারাবাহিকভাবে কয়েক পর্বে একটি ভ্রমণ কাহিনী লিখেছিলাম। লেখাটি শিরোনামের মতোই ‘নগন্য’। তবে অনেকেই পড়ে উৎসাহ ব্যক্ত করতেন। অনেকে বই আকারে প্রকাশেরও পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু আমি লেখক নই, তাই এ সামান্য ঘটনা নিয়ে

গরীবের ভ্রমণ বিলাস (পর্ব-১) Read More »

Scroll to Top