গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই যে, কখনো কখনো সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামই অসাধারণ সাফল্যের গল্পে পরিণত হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এমনই এক আলোচিত নাম হলেন কলিতা মাঝি। একসময় যিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন, আজ তিনি রাজ্যের একজন মন্ত্রী।
কলিতা মাঝির জন্ম ও বেড়ে ওঠা অত্যন্ত সাধারণ একটি পরিবারে। আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকার মতো আয় করে তিনি স্বামী ও সন্তানসহ সংসার পরিচালনা করতেন। তাঁর স্বামী পেশায় একজন প্লাম্বার।
তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত হওয়ার ফলে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূল স্তরের কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করার মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আউসগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাঁর এই জয় শুধু একটি রাজনৈতিক বিজয় ছিল না; এটি ছিল সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সামাজিক উত্থানের এক প্রতীকী ঘটনা। একসময়ের গৃহপরিচারিকা নির্বাচনে এক লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে কলিতা মাঝি প্রমাণ করেছেন যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু ধনী বা প্রভাবশালী পরিবারের উত্তরাধিকার নয়; সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেও নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে।
কলিতা মাঝির জীবনগাথা সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—অর্থনৈতিক দারিদ্র্য কিংবা সামাজিক অবস্থান কোনো মানুষের স্বপ্নকে চিরদিন আটকে রাখতে পারে না। কঠোর পরিশ্রম, মানুষের পাশে থাকা এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে একজন গৃহপরিচারিকাও একদিন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তাঁর গল্প শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
সূত্রঃ
১। www.ndtv.com
২। The Federal
৩। Moneycontrol
আরও পড়ুনঃ গৃহ পরিচারিকা থেকে লেখিকা







Leave a Reply