বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাসে এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আবেগ, রাজনীতি ও বিতর্ক এত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যে সেখানে সত্য ও প্রচারের সীমারেখা অনেক সময় অস্পষ্ট হয়ে যায়। জাতীয় রক্ষীবাহিনী নিয়ে বিতর্ক তার অন্যতম উদাহরণ।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে রক্ষীবাহিনী ছিল রাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে সমালোচিত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে ভুল বোঝাবুঝির একটি প্রতিষ্ঠান। একদিকে এই বাহিনীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গঠিত এক জরুরি রাষ্ট্রীয় শক্তি বলা হয়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষরা একে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে অভিযুক্ত করে।
কিন্তু যে সময়ে রক্ষীবাহিনী গঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের বাস্তবতা না বুঝলে এই বাহিনীকে বিচার করা সম্ভব নয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও রাষ্ট্রটি কার্যত ভেঙে পড়া অবস্থায় ছিল। প্রশাসন ছিল দুর্বল, পুলিশ বাহিনী প্রায় অকার্যকর, সেনাবাহিনী তখনও পুনর্গঠনের পর্যায়ে, আর গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ছড়িয়ে ছিল।
মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ অস্ত্র জমা দিলেও অনেকেই দেয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র দল, আঞ্চলিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী, সর্বহারা পার্টি, নকশাল ইত্যাদির নামের অন্তরালে একদল সুবিধাবাদী দ্বারা গঠিত ডাকাতচক্র এবং রাজনৈতিক সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের অনেক অঞ্চলে সরকার নামমাত্র ছিল, বাস্তবে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীরাই নিয়ন্ত্রণ করত। ডাকাতি, অপহরণ, খুন, গুদাম লুট, ট্রেন ও লঞ্চে হামলা—এসব ছিল নিয়মিত ঘটনা।
এই অবস্থায় সরকার উপলব্ধি করে যে শুধু পুলিশ বা নবগঠিত সেনাবাহিনী দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। সেনাবাহিনী তখনও যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা—দুই দিকেই চাপ ছিল। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয় একটি বিশেষ আধাসামরিক বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত গতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস ও নাশকতা দমন এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। এইভাবেই প্যারা মিলিটারী বা মিলিশিয়া বাহিনী হিসেবে জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সংক্ষেপে JRB)-এর জন্ম।
প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রক্ষীবাহিনী গঠিত হয়। পরবর্তীতে এর কলেবর বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রেও নতুন ভর্তির সময় মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। বলা চলে রক্ষীবাহিনীর প্রায় সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় সবাই যুদ্ধের ময়দান থেকে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, শৃঙ্খলা ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে যুদ্ধোত্তর মানসিক ক্লান্তি, ক্ষোভ ও কঠোরতা ছিল। যাঁরা যুদ্ধের সময় জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই স্বাধীনতার পর দেশের বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। তাঁরা মনে করতেন, যুদ্ধ করে যে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে, সেই দেশকে আবার অরাজকতার হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। ফলে রক্ষীবাহিনীর অনেক সদস্য নিজেদেরকে শুধু একটি বাহিনীর সদস্য নয়, বরং রাষ্ট্র রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বের অংশ বলে মনে করতেন।
প্রথম দিকে রক্ষীবাহিনীর কাজ ছিল অস্ত্র উদ্ধার, ডাকাত ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা। বহু এলাকায় তারা বাস্তবেই আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। কিছু অঞ্চলে যেখানে পুলিশ যেতে সাহস পেত না, সেখানে রক্ষীবাহিনী অভিযান চালাত। নদীপথ, সীমান্ত এলাকা এবং প্রত্যন্ত গ্রামে তাদের কার্যক্রম ছিল বেশি। অনেক সাধারণ মানুষ সে সময় রক্ষীবাহিনীকে স্বস্তির প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। কারণ তারা অন্তত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি অনুভব করেছিল।
কিন্তু খুব দ্রুত এই বাহিনীকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। এর প্রধান কারণ ছিল, রক্ষীবাহিনীর কাজের পরিধি ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। সে সময় দেশে জাসদ, সর্বহারা পার্টি, বিভিন্ন বামপন্থী গোষ্ঠী ও চরমপন্থী সংগঠন সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা ছিল অস্ত্রধারী। তারা সরকারি স্থাপনা আক্রমণ করত, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটাত। সরকার এসবকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখত। ফলে রক্ষীবাহিনীকে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে হয়।
এখানেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহার করছে। গ্রেফতার, নির্যাতন, নিখোঁজ, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি ও বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই দাবি করেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে রক্ষীবাহিনী অতিরিক্ত কঠোরতা দেখিয়েছে। সেই সময়কার বহু রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ, পত্রিকা এবং পরবর্তী বইপত্রে রক্ষীবাহিনীকে ভয়ের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলোর সবকিছু সমানভাবে সত্য ছিল কি না, সেটি নিয়ে আজও বিতর্ক আছে। কারণ স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রচার ছিল অত্যন্ত তীব্র। একটি পক্ষ রক্ষীবাহিনীকে রাষ্ট্ররক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দেখেছে, অন্য পক্ষ একে রাজনৈতিক নিপীড়নের যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। বাস্তবতা সম্ভবত মাঝামাঝি কোথাও।
রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তার একটি অংশ হয়তো সত্য ছিল। কারণ কোনো নতুন রাষ্ট্রে, বিশেষ করে যুদ্ধোত্তর বিশৃঙ্খলার মধ্যে গড়ে ওঠা একটি বাহিনীর মধ্যে অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং জবাবদিহিতার অভাব থাকলে অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সদস্য নিজেদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগও করেছে বলে শোনা গেছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্যি যে রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে বহু গল্প সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতিরঞ্জিত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনেকেই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে রক্ষীবাহিনীকে একতরফাভাবে কালো চিত্রে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে গেলে রক্ষীবাহিনীকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যেন দেশের সমস্ত অন্যায়ের জন্য শুধু এই বাহিনীই দায়ী ছিল। অথচ সে সময়ের অস্থিরতা, অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর উত্থান, প্রশাসনিক দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বসংকট—এসব বিষয় অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল জবাবদিহির অভাব। একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী যদি আইনের ঊর্ধ্বে চলে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা হারায়। রক্ষীবাহিনীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা থাকলেও বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার হতো না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ জমতে থাকে। সরকারও অনেক সময় এই ক্ষোভকে গুরুত্ব দেয়নি। এর ফলেই রক্ষীবাহিনীর ভাবমূর্তি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে এই লেখকের সাথে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতার বর্ণনার আলোকে জানা যায়, রক্ষীবাহিনীর সদস্যরাও কোনো সিভিল ওফেন্স করলে তাদেরকেও সেনাবাহিনীর মতো সামরিক আদালতের মাধ্যমে বিচার করা হতো। অপরাধের মাত্রা বেশি হলে চাকরিচ্যুত কিংবা সিভিল কোর্টে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হতো।
অনেকে রক্ষীবাহিনীর প্রশিক্ষণের ঘাটতির কথা বললেও, প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, রক্ষীবাহিনীকে সেনাবাহিনীর মতো কঠোর প্রশিক্ষণের পর প্রস্তুত করা হতো। প্রাথমিক অবস্থায় যারা স্বল্প প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলো, তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে যথযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নানা জনের উস্কানীতে ও নানা গুজবে রক্ষীবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল না। সেনাবাহিনীর একটি অংশ মনে করত, রক্ষীবাহিনীকে অযথা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা মনে করতেন, তাঁরা সরাসরি রাষ্ট্র রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। এই দূরত্ব পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে এই মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভাজনও একটি কারণ ছিল।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের সব সময় শেখনো হতো, সেনাবাহিনীর পরে রক্ষীবাহিনীর অবস্থান এবং সেভাবেই পদমর্যাদার বিন্যাস অনুযায়ী সিনিয়রকে সম্মান করতে হবে। সেনাবাহিনীকে ‘বড়ভাই’ সুলভ দৃষ্টিতে দেখতে হবে। উল্লেখ্য, রক্ষীবাহিনীর হাই কমান্ড, অর্থাৎ মহা-পরিচলক বিজিবির মত সেনাবাহিনী থেকেই পদায়ন করা হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর ভাগ্যও নির্ধারিত হয়ে যায়। নতুন ক্ষমতাকাঠামো এই বাহিনীকে আর রাখতে চায়নি। উপযুক্ততা অনুযায়ী এর সদস্যদেরকে সেনবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিতে আত্মীকরণ করার কথা বলা হয়। তবে পরবর্তীতে রক্ষীবাহিনীর সকল সস্যকে সেনাবাহিনীতে আত্মীকরণ করা হয়।
এভাবেই বিলুপ্ত হয় রক্ষীবাহিনী। সেনাবাহিনীতে আত্মীকৃত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়মশৃংখলার কারণে এর ভেতরে কোনো রেষারেষি বা বৈষম্যের কথা শোনা না গেলেও, মানুষের মাঝে এর নাম থেকে যায়—কখনো ভয়, কখনো বিতর্ক, কখনো ভুল বোঝাবুঝি, আবার কখনো রাষ্ট্ররক্ষার একটি অসমাপ্ত প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে।
আজ রক্ষীবাহিনীকে বিচার করতে গেলে একপাক্ষিক হওয়া উচিত নয়। একে শুধু নায়ক বললেও ভুল হবে, শুধু খলনায়ক বললেও ভুল হবে। এই বাহিনীর মধ্যে যেমন ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেম, রাষ্ট্রকে রক্ষা করার আন্তরিক চেষ্টা এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, তেমনি ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ। ইতিহাসের কঠিন সত্য হলো, যুদ্ধোত্তর রাষ্ট্রে অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে গড়া প্রতিষ্ঠানও ভুল পথে চলে যেতে পারে, যদি সেখানে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত না হয়।
রক্ষীবাহিনীর ইতিহাস তাই শুধু একটি বাহিনীর ইতিহাস নয়। এটি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, ক্ষমতার রাজনীতি, নিরাপত্তা সংকট এবং আদর্শ বনাম বাস্তবতার সংঘাতের ইতিহাস। এই ইতিহাসকে বুঝতে হলে আবেগ নয়, বরং সময়ের বাস্তবতা, রাষ্ট্রের দুর্বলতা এবং মানুষের অভিজ্ঞতা—সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে, রক্ষীবাহিনী নিয়ে যে বিতর্ক তা কি সত্য, না সম্পূর্ণ মিথ্যা; বরং বাংলাদেশের এক অস্থির সময়ের জটিল ও অসম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি।
( রক্ষীবাহিনীর একজন সদস্যের জবানীতে তার অভিজ্ঞতা আলোকে এ বিষয়ে আরেকটি প্রবন্ধ লেখা হবে )







Leave a Reply