সায়মা ওয়াজেদ পুতুল — বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে এবং একজন পরিচিত মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ — ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (SEARO) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এই পদের জন্য WHO সদস্য দেশগুলোর সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তাঁর নাম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে স্বীকৃত হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১০টি দেশের মধ্যে তিনি ৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি WHO তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) পুতুলের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি WHO-র আঞ্চলিক পরিচালক পদের জন্য ভুল তথ্য জমা দিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
ছুটিতে পাঠানো হওয়ার পর থেকে পুতুল WHO-র আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্বে সক্রিয়ভাবে নেই। তার স্থলে WHO-র সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথরিনা বোয়েহমি ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি যথারীতি পরিচালক হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
পুনর্বহালের উদ্যোগ জোরালো
সাম্প্রতিক সংবাদে জানা গেছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলকে আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরালো হচ্ছে, বিশেষ করে ভারতের নেতৃত্বে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট ১০টি সদস্য দেশের মধ্যে কমপক্ষে ছয়টি দেশ এখন তাকে পুনর্বহালের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং WHO-র প্রশাসনিক স্তরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস আগামী ১৭–১৯ ডিসেম্বর তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামিটে এই পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সংগঠন-নিয়ম বনাম রাজনৈতিক চাপ
এই উদ্যোগ এবং সমর্থনের পেছনে কিছু আন্তর্জাতিক সদস্য দেশ যুক্তি দিচ্ছে যে একজন নির্বাচিত আঞ্চলিক পরিচালককে ছুটিতে পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ফিরিয়ে না আনার সিদ্ধান্ত সংস্থার অভ্যন্তরীণ নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, এবং SEARO-র কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তাকে দায়িত্বে রাখা উচিত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার WHO-র প্রতি অনুরোধ করেছে যে পুতুলের মাধ্যমে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ না করে সরাসরি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হোক, কারণ দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের WHO-তে পুনযোগদান নিয়ে যে উদ্যোগ তৈরি হয়েছে তা শুধু স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। ভারতের মতো দেশগুলো তার পুনর্বহালে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, অন্যদিকে যাবতীয় অভিযোগ ও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তার অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে।
WHO-র ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত এই বিতর্ককে নতুন দিক দিতে পারে।
সূত্রঃ
World Health Organization, The Daily Star, The Daily Ittefaq, ns2.amadershomoy.com








Leave a Reply