রাডারের একটি ভুল রিপোর্টে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রায় শুরু হয়ে যাচ্ছিলো

সোভিয়েত রাডার বিভ্রান্তি ও স্ট্যানিস্লাভ পেট্রোভঃ একজন কর্মকর্তার ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত বিশ্বকে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিলো। ১৯৮৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। শীতল যুদ্ধ তখন তুঙ্গে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই পরাশক্তির মধ্যে অবিশ্বাস, উত্তেজনা ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা চরমে। সে রাতে সোভিয়েত আগাম সতর্কতা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্ট্যানিস্লাভ পেট্রোভ (Stanislav Petrov)। হঠাৎ […]

সোভিয়েত রাডার বিভ্রান্তি ও স্ট্যানিস্লাভ পেট্রোভঃ একজন কর্মকর্তার ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত বিশ্বকে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিলো।

১৯৮৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। শীতল যুদ্ধ তখন তুঙ্গে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই পরাশক্তির মধ্যে অবিশ্বাস, উত্তেজনা ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা চরমে।

সে রাতে সোভিয়েত আগাম সতর্কতা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্ট্যানিস্লাভ পেট্রোভ (Stanislav Petrov)। হঠাৎ রাডার ও স্যাটেলাইট সতর্কবার্তা দেখালো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তঃমহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। প্রথমে একটি, পরে মোট পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আসছে বলে সিস্টেম জানায়।

প্রটোকল অনুযায়ী, এ তথ্য সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হতো। আর সোভিয়েত সামরিক নীতিতে এমন সতর্কবার্তা মানেই হতে পারতো পাল্টা পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি। অর্থাৎ কয়েক মিনিটের ভুল সিদ্ধান্তেই শুরু হয়ে যেতে পারতো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

কিন্তু পেট্রোভ সন্দেহ করলেন। তাঁর যুক্তি ছিল—যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র প্রথম আঘাত হানতে চাইতো, তবে মাত্র পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতো না; বরং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে নিক্ষেপ করতো। উপরন্তু, স্থলভিত্তিক রাডার এখনো হামলার নিশ্চিত প্রমাণ দিচ্ছে না।

তিনি ঝুঁকি নিলেন। রিপোর্টটিকে “ভুল সংকেত” হিসেবে চিহ্নিত করলেন। কয়েক মিনিটের উৎকণ্ঠা শেষে দেখা গেলো—সেটি সত্যিই ছিলো স্যাটেলাইটের প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি। সূর্যের আলো মেঘের ওপর প্রতিফলিত হয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভ্রান্ত সংকেত তৈরি করেছিলো।

একজন কর্মকর্তার ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত বিশ্বকে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিলো। পরে এই ঘটনাকে ইতিহাসে “মানব বিবেচনার জয়” হিসেবে দেখা হয়।

স্ট্যানিস্লাভ পেট্রোভ প্রমাণ করেছিলেন—যন্ত্র যত উন্নতই হোক, চূড়ান্ত মুহূর্তে মানবিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতাই ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ রুশ নৌবাহিনীর আত্মঘাতী কৌশলগত ভুলঃ ভুল আদেশে ডুবে যায় পুরো নৌবহর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top