০৩ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাতের শেষভাগে ভেনিজুয়েলার আশেপাশেই অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে সামরিক হেলিকপটার আসে। সকল নিরাপত্তা ভেদ করে হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা দড়ি বেয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নেমে পড়ে। প্রাসাদ থেকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যায়, সাথে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও। প্রথমে তাদের নেয়া হয় যুদ্ধজাহাজে। সেখান থেকে স্পেশাল সামরিক বিমানে নেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে।
ভেনিজুয়েলা, একসময় Latin America-র একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ ছিলো। গত দেড় যুগ ধরে দেশটি গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে আটকে রয়েছে। দেশটির সম্পদ-ভিত্তিক অর্থনীতি যখন ক্রমেই ধ্বংসের দিকে গিয়েছিলো এবং জনজীবন কঠিন হয়ে উঠছিলো, তখন রাজনীতিও উভয়দিকে বিতর্ক ও সংঘাতে আবদ্ধ হয়।
এই পটভূমির ওপর বসে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে একটি মার্কিন সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা — বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় ধাক্কা।
ভেনিজুয়েলার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ
(১) বিশ্বের অন্যতম বড় তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক নীতি ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়।
(২) মুদ্রাস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
(৩) ২০২৪ ও ২০২৫ এর নির্বাচনের পর বিরোধীরা বলেছে যে নির্বাচন ছিল অনিয়মে ভরপুর। নির্বাচনে হেরে গিয়েও মাদুরো ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।
(৪) যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভেনিজুয়েলাকে মাদক পাচার ও অপরাধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত করেছে।
এই সব চাপ মিলিয়ে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ঢুকে পড়ে।
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপুল সামরিক হামলা চালায় ভেনিজুয়েলায়। এই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সরকার ভার্চুয়ালি দেশটি পরিচালনা করবে।
এ অভিযানকে “Operation Absolute Resolve” নাম দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে নিকট অতীতে পানামার নেতা নরিয়েগাকে আটক করার অভিযান-এর মতো উল্লেখ করা হচ্ছে।
এই হামলায় যুক্তি হিসেবে মার্কিন প্রশাসন বলেছে যে মাদুরো নেতৃত্বাধীন সরকার মাদক চক্র ও অপরাধ সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল এবং সেই ইস্যু মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আক্রমণের তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী এবং মাদুরো সমর্থকরা দাবি করেছে “এটি অযাচিত সামরিক আগ্রাসন এবং আক্রমণ” বলে প্রতিবাদ করেছে।
মাদুরো সরকার বলেছে অস্ত্রের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও দেশীয় সংবিধানের বিরুদ্ধ।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে:
(১) জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন এটি একটি “দূর্ভাগ্যজনক ও বিপজ্জনক উদাহরণ” এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান থাকা দরকার।
(২) অনেক দেশ মনে করছে এটি UN Charter অনুযায়ী আর্টিকেল 2(4) লঙ্ঘন, যা কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করে।
(৩) ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া ও কিউবা সহ কয়েকটি দেশ এই হামলাকে অর্থহীন সামরিক আগ্রাসন বলে কঠোর ভাবে সমালোচনা করেছে।
মার্কিন প্রশাসন এই আক্রমণকে যথারীতি স্বরূপে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তি দেখিয়েছে, এটি নৃ-নিরাপত্তা ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযানের一 অংশ। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই কারণটিকে যথেষ্ট বৈধ ভিত্তি নয় বলে ব্যাখ্যা করছেন।
মাদুরোর পতনের পর বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো, যিনি ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত, তিনি দেশ পরিচালনার জন্য সরাসরি এগিয়ে আসার সম্ভাবনা সূচিত হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, মাচাদো দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। তার প্রতি প্রয়োজনীয় জনসমর্থন নেই এবং তার কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
যুক্তরাষ্ট্র কেনো এই পদক্ষেপ নিলো
প্রকাশ্যে মাদক পাচারের অভিযোগ তুললেও এর ভেতরের খবর অন্য। ভেনিজুয়েলায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের খনি, যা আরব দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে। তথ্যমতে তেল মজুদের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল। খনিটি আবিস্কার ও উত্তোলনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার দাবি, এই তেল আবিস্কার করেছি আমরা, অতএব, এর মালিকও আমরা। এর উৎপাদন বিক্রয়লব্ধ মুনাফা আমাদের। কিন্তু আমেরিকার এই কাজে বাধ সাধেন মাদুরো। তিনি আমেরিকান কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
ট্রাম্প নিজেই বেশ কয়েকবার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বের কোনো সরকারের সময়ে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে ব্যাপক অংশ নিয়েছিল। কিন্তু ভেনিজুয়েলা সরকার শিল্পটি জাতীয়করণ এবং ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে যখন ধ্বংসের পথে, তখন তা মার্কিন অংশীদারদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে তাদের “মার্কিন শ্রম ও দক্ষতায় তেল শিল্প তৈরি হয়েছিলো” এবং সেটি ভেনিজুয়েলার স্বৈরাচারী শাসন পরিচালনা করে ভুল পথে নিয়ে গেছে।
এই রকম ভাষ্য দিয়ে ট্রাম্প সরকার তেল খাতটি নিতে তার পদক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করছে—যদিও আন্তর্জাতিক আইনবিদরা বলছেন এটি আইনের দিক থেকে ভিত্তিহীন দাবি।
তেলের ওপর ব্লকেড এবং চাপ
মার্কিন প্রশাসন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল যে তারা ভেনিজুয়েলার সমস্ত তেল ট্যাঙ্কার এবং জাহাজগুলোর ওপর “টোটাল ব্লকেড” আরোপ করেছে, যাতে দেশটি সে তেল বাজারে বিক্রি বা রপ্তানি করতে না পারে।
ভেনিজুয়েলা এই ব্লকেডকে “অযৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এই ব্লকেড ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তেলের মূল্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশ্বব্যাপী সম্প্রতি ওঠানামা দেখা দিচ্ছে।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, তেলের অবকাঠামো সংস্কার করবে এবং ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মার্কিন স্বার্থে তেল সরবরাহ কাঠামোকে উন্নত করতে হবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এটি সহজ কাজ নয়। ভেনিজুয়েলার তেল খাতের অবকাঠামো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণে দশ বছরেরও বেশি সময় এবং বড় বিনিয়োগ লাগবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত দাবি ও বাস্তবতা
ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ভেনিজুয়েলার তেল “মার্কিনদের মালিকানা” দাবি করতে পারে না, কারণ আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাধিকার দেয় প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে তুলনা দেওয়া হয়েছে যে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন বিনিয়োগ ছিলো বিপুল এবং সেই বিনিয়োগকে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প “লুকিয়ে নিয়েছে”। এই যুক্তিটিকে অনেক আইনজ্ঞ কর্তৃক রাজনৈতিক ভাষ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, আইনি ভিত্তি হিসেবে নয়।
ভেনিজুয়েলা–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত
মাদুরো প্রশাসনকে মার্কিন সরকার বরাবরই একনায়কতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রতারণার মূল উদ্যোক্তা বলে অভিযোগ করেছে। উভয়পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি ও রাজনৈতিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
মার্কিন আদালত দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো ও তাঁর প্রশাসনের কিছু সদস্যকে ড্রাগ–টেররিজম ও পাচারের অভিযোগে বিচার করার চেষ্টা করেছে।
এই উত্তেজনা ক্রমশ কূটনৈতিক স্তর থেকে সামরিক স্তরে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়ায়:
(১) মার্কিন সেনাবাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড়ো মহড়া ও জাহাজ মোতায়েন করে।
(২) ২০২৫ সালের শেষের দিকে মার্কিন বাহিনী ড্রোন হামলা ও নৌ অভিযান চালায়, যাকে তারা ড্রাগ চালান রোধের অংশ বলে বলে দাবি করে।
(৩) ৩৫টিরও বেশি নৌ ও বিমান অস্ত্র চালানো হয় বলে মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়।
এই চাপের ধারাবাহিক দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ‘অপারেশন রেজোলিউশন অ্যাবসলুট’ নামে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি একটি বড়ো সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী হঠাৎ অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গভীরভাবে অবস্থান নেয়। সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে হামলায় শহরে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমান দেখা গেছে।
ভোরে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দ্রুত নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসন জানায়, মাদুরোর বিরুদ্ধে ড্রাগ–টাররিজম, সন্ত্রাস, ও মানবপথে আমেরিকায় মাদক তৈরি ও সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিচার মুখোমুখি হবেন।
এদিকে চীন ও রাশিয়া মাদুরোকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আমেরিকার পদক্ষেপকে আইনগতভাবে অসঙ্গত বলেছে।
অনেক মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ এটিকে অগ্রহণযোগ্য সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি অনুযায়ী কিছু দেশ ও রাজনৈতিক নেতারা ভেনিজুয়েলার স্বৈরাচারী শাসনের অবসানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে আইনের সীমা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।
আইনি ও নৈতিক প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন:
(১) মাদক বা নিরাপত্তা বিষয়ক যুক্তি আইনি পরিসরে যথেষ্ট নয়—কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের নেতা একমাত্র আন্তর্জাতিক মামলা বা আন্তর্জাতিক আদালতে কাজ অনুযায়ী আটক হওয়া উচিত।
(২) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অনুমোদন নেই।
(৩) এমন কাজ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সদৃশ হস্তক্ষেপের বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করতে পারে।
এটি একটি জটিল এবং বহুমাত্রিক আইনি নীতিগত প্রশ্ন উদ্রেক করেছে।
সর্বশেষ
(১) ভেনিজুয়েলার সুপ্রীম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্টকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে, যদিও তাঁর ক্ষমতা প্রশ্নের মুখে।
(২) দেশটির রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। জাতীয় সংঘাত, রাজনৈতিক বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ সহিংসতার সম্ভাবনা বাড়ছে।
(৩) আন্তর্জাতিক সমাজ শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইছে।
(৪) কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে, ঘরোয়া আন্দোলন, অস্ত্রধারী প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক যুদ্ধের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, বিশেষত যদি জনগণ নতুন সরকারের প্রতি বিশ্বাস না রাখে।
উপসংহার
ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু এক দেশের সংকট নয়—এটি আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব, শক্তি রাজনীতি ও আধুনিক নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে গ্লোবাল স্তরে একটি বিতর্কিত নয়া অধ্যায়ের সূচনা।
মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ, মাদুরো প্রশাসনের পতন, ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটা একটি বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক শান্তি এনে দিতে পারে—কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্বৈরাচার, অর্থনৈতিক ধ্বংস ও আন্তর্জাতিক আইনি সংকটের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা জটিল হবে।
এই ঘটনা অন্য যে কোনো শক্তিধর রাষ্ট্র তাদের নিকট শত্রুর প্রতি ব্যবস্থা নেয়ার অযুহাত দাঁড় করানো সহজ করে তোলে।
সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পথ হবে একটি ব্যাপক রাজনৈতিক সংলাপ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ উত্তোরণ, যা ভেনিজুয়েলার জনগণকে ক্ষমতার অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে।








Leave a Reply