যুক্তরাষ্ট্রে ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’ বা সরকার অচলাবস্থা মূলত তখন ঘটে যখন কংগ্রেস সময়মতো সরকারের বাজেট অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়। অর্থাৎ, সরকারি দপ্তরগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পেলে তাদের কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
কেন এই শাটডাউন?
সাম্প্রতিক শাটডাউনের মূল কারণ হলো রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট নিয়ে তীব্র মতভেদ। রিপাবলিকানরা সরকারি ব্যয় কমাতে চান—বিশেষ করে সামাজিক সেবা, অভিবাসন ও ইউক্রেন সহায়তা খাতে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এসব খাতে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। এই মতবিরোধের কারণেই বাজেট বিল কংগ্রেসে পাস না হওয়ায় ‘শাটডাউন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর ফলে কী সমস্যা হচ্ছে?
শাটডাউনের ফলে অনেক সরকারি দপ্তর কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
- প্রায় ২০ লাখ সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়া ঘরে বসে আছেন বা সীমিত কাজে যুক্ত।
- জাতীয় উদ্যান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পাসপোর্ট অফিসসহ নানা সরকারি সেবা স্থগিত।
- অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত; শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ভোক্তা আস্থার ঘাটতি।
- আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দায় কার?
রাজনৈতিকভাবে উভয় দল একে অপরকে দায়ী করছে। তবে বাস্তবে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বড় ভূমিকা রেখেছে। দলটির চরমপন্থী অংশ সরকারি ব্যয় কমানো ও বাইডেন প্রশাসনের নীতিতে বাধা দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, ফলে সমঝোতার পথ বন্ধ হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
- অর্থনৈতিকভাবে: দীর্ঘ শাটডাউন হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।
- রাজনৈতিকভাবে: ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি উভয় দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- আন্তর্জাতিকভাবে: ডলারের স্থিতিশীলতা ও মার্কিন নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
উপসংহার
যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি তাদের রাজনৈতিক মেরুকরণের গভীর চিত্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়—গণতান্ত্রিক সমাজে আপস ও বোঝাপড়ার সংস্কৃতি হারালে রাষ্ট্রযন্ত্রও থমকে যেতে পারে।








Leave a Reply