২০২৪ সালের জুলাই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গুলি—একজন নিহত, কয়েকজন আহত, আর গুলিবর্ষণকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস স্নাইপারের গুলিতে নিহত। কয়েক মিনিটের ঘটনায় বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রশ্নবোধক অবস্থান।
ঘটনার পরপরই এফবিআই তদন্তে নামে। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই প্রকাশ্যে আসে আরও বড় বিতর্ক—ক্রুকসের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ে এফবিআই কি সত্য বলছে? নাকি লুকোচ্ছে?
সরকারি বিবরণ — এফবিআই কী জানিয়েছে?
এফবিআই বলেছে—
- তারা ক্রুকসের বহু ডিভাইস ও ৩৫টির মতো অনলাইন অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেছে।
- একটি পুরনো সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে শত শত মন্তব্যও পাওয়া গেছে।
- এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ক্রুকস একাই কাজ করেছে।
- কোনো ম্যানিফেস্টো, স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা নেটওয়ার্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ তাদের বক্তব্য সরল: ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ছিল, কিন্তু সেখান থেকে উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়নি।
টাকার কার্লসনের অভিযোগ — “এফবিআই মিথ্যা বলেছে”
অন্যদিকে সাংবাদিক টাকার কার্লসন দাবি করছেন—
- এফবিআই নাকি প্রথমে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে ক্রুকসের কোনো অনলাইন উপস্থিতি পাওয়া যায় না।
- কিন্তু কার্লসন বলছেন, তার কাছে ক্রুকসের পোস্ট ও অ্যাকাউন্টের প্রমাণ আছে।
- এই তথ্য লুকানোর উদ্দেশ্য কী—সেটি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এফবিআই পাল্টা বলেছে—তারা কখনো বলেনি যে ক্রুকসের কোনো অনলাইন ফুটপ্রিন্ট নেই।
তবুও জনমনে সংশয় রয়ে গেছে: তথ্য কি গোপন করা হয়েছে, নাকি ভুলভাবে বোঝা হয়েছে?
তাহলে আসল প্রশ্ন — লুকোনোর দরকারটা কেন?
যদি সত্যিই ক্রুকসের অনলাইন উপস্থিতি এফবিআই কম দেখিয়ে থাকে, তবে এর পেছনে সম্ভাব্য কারণগুলো কী হতে পারে?
| সম্ভাব্য কারণ | কেন তা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে |
| রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা | একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ওপর হামলা—স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। অতিরিক্ত তথ্য জনমতকে উত্তপ্ত করতে পারে। |
| তদন্ত চলমান | ডিজিটাল ট্রেস প্রকাশ পেলে সহযোগী বা উৎস পালাতে বা প্রমাণ নষ্ট করতে পারে। |
| অস্পষ্ট বা যাচাই না হওয়া তথ্য | অ্যাকাউন্ট থাকলেই যে তা উদ্দেশ্য প্রমাণ করে—তা নয়। ভুল সিদ্ধান্ত জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। |
| প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ও দায় এড়ানো | যদি নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ পায় তবে তা গোয়েন্দা সংস্থার ওপর বড় আঘাত। তথ্য সংযত করা হতে পারে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল। |
সংক্ষেপে—অনলাইন ফুটপ্রিন্ট ছিল কি না, সেটা বড় প্রশ্ন নয়; কেন সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি বা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি—প্রশ্নটা সেখানেই।
ঘটনাটি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?
তথ্য দুটি স্পষ্ট—
১) থমাস ক্রুকসের কিছু অনলাইন উপস্থিতি ছিল — এফবিআই নিজেই পরবর্তীতে তা স্বীকার করেছে।
২) জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল চিত্র এখনও প্রকাশ হয়নি।
এখনও অস্পষ্ট—
- ক্রুকসের সমস্ত অ্যাকাউন্ট এফবিআই নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেছে কি না
- তার পোস্টগুলো উদ্দেশ্য বা মতাদর্শের পরিচয় দেয় কি না
- সে সত্যিই একা কাজ করেছে নাকি কেউ প্রভাবিত করেছে
যতদিন পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর মিলবে না, সন্দেহ ও ব্যাখ্যাহীনতা থেকেই যাবে।
উপসংহার
এফবিআই ও কার্লসনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ থাকলেও মূল রহস্য একই জায়গায় দাঁড়িয়ে—তথ্য আংশিক।
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ছিল, তবে কতটা, কী রকম, এবং কেন তা গোপন বা আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
এ কারণেই আজও প্রশ্নটা রয়ে গেছে—
থমাস ক্রুকসের অনলাইন পোস্টগুলি যদি সত্যিই ছিল, তবে সেগুলো আড়াল করার দরকার পড়ল কেন?
কিসের ভয়ে বা স্বার্থে তথ্য ধরে রাখা হলো?
এ প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে—এটা কেবল তদন্তগত সীমাবদ্ধতা, নাকি আদতে বড় কোনো সত্য চাপা পড়ে আছে।
সূত্রঃ Newsweek








Leave a Reply