ফক্স নিউজের সাংবাদিক কোর্টনি ফ্রিয়েল ২০২০ সাল প্রকাশ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সময় তাকে “অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব” দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে ঘটলেও, এসব বিষয় আমেরিকান রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে।
ফ্রিয়েল তার স্মৃতিকথা ‘Tonight at 10: Kicking Booze and Breaking News’–এ লিখেছেন, ট্রাম্প একাধিকবার তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত আলাপ জমাতে চাইতেন এবং এক পর্যায়ে বলেন, “আমরা দুজন চুমু খেতে পারি।”
এটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা প্রথম অভিযোগ নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত ২৫ জন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অনুপযুক্ত মন্তব্য, বা অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্প বরাবরই এসব অভিযোগ “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই জনমত বিভক্ত হয়েছে।
রাজনীতিতে ট্রাম্পের শক্তি যেমন বিশাল, বিতর্কও তেমনই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার জনপ্রিয়তা গড়ে উঠেছে “বিরোধিতার বিপরীতে”— সমর্থকদের চোখে তিনি একজন ‘বুলডোজার’ রাজনীতিক, যিনি আমলাতন্ত্র ও ‘মিথ্যা শুদ্ধাচার’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই আত্মবিশ্বাস প্রায়ই রূপ নেয় অহংকার ও নারী–অবজ্ঞায়।
নারী সাংবাদিক ও ক্ষমতার রাজনীতি
কোর্টনি ফ্রিয়েলের অভিজ্ঞতা শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি প্রতিফলিত করে মিডিয়া–রাজনীতি সম্পর্কের ভেতরের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। ট্রাম্পের মতো এক ধনকুবের ব্যবসায়ী, যিনি পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হন, তার কাছ থেকে অশোভন আচরণ নারী সাংবাদিকদের জন্য শুধু নৈতিক নয়, পেশাগত ঝুঁকিও তৈরি করে।
ট্রাম্প নিজেও বহুবার বলেছেন, তিনি “মিডিয়া ভালোবাসেন না, কিন্তু মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জানেন।” তার আচরণ অনেক সময় সংবাদমাধ্যমের ভেতরে এক ধরণের ‘বিতর্ক-নির্ভর প্রচারণা’ সৃষ্টি করে, যা ট্রাম্প বরাবরই নিজের সুবিধায় ব্যবহার করেছেন।
আমেরিকান সমাজে #MeToo আন্দোলনের পর থেকে নারীদের প্রতি ক্ষমতাধর পুরুষদের আচরণ নিয়ে সংবেদনশীলতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরে এখনও অনেকেই এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে মনে করেন। ফলে বিষয়টি নৈতিকতার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক আকার নিয়েছে।
তবে কোর্টনি ফ্রিয়েলের বক্তব্য নতুনভাবে সামনে আনছে সেই পুরনো প্রশ্ন—
“একজন নেতার ব্যক্তিগত নৈতিকতা কি জনজীবনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করে?”
অনেকের মতে, ট্রাম্পের নীতি ও আচরণের এই দ্বৈততা আজকের আমেরিকার রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতি যেন এক অন্তহীন নাটক—যেখানে ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা, এবং বিতর্ক একে অপরের পরিপূরক। নারী সাংবাদিককে দেওয়া আপত্তিকর প্রস্তাব সেই নাটকের আরেক অধ্যায় মাত্র।
কোর্টনি ফ্রিয়েলের অভিজ্ঞতা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনবে না, কিন্তু এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— ক্ষমতা যখন নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে, তখন নেতৃত্ব আর নেতৃত্ব থাকে না; তা হয়ে যায় প্রভাবের প্রদর্শন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক








Leave a Reply