দক্ষিণ এশিয়া আবারও অস্থির সময় পার করছে। একদিকে ভারত–পাকিস্তানের পুরনো শত্রুতা, অন্যদিকে আফগানিস্তান–পাকিস্তানের সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এক নতুন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মুখে। প্রশ্ন এখন, যুদ্ধের ছায়া কোথায় ঘন হবে আগে?
ভারত–পাকিস্তান: পুরনো শত্রুতার শীতল আগুন
ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ও শত্রুতার সম্পর্কে জড়িত। কাশ্মীর ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত অনুপ্রবেশ—সবকিছুই দু’দেশের সম্পর্ককে উত্তপ্ত রাখে।
তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, কারণ দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং জানে, যুদ্ধ মানে আত্মঘাতী বিপর্যয়। ভারত বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে মনোযোগী; তাই তারা সংঘাত এড়াতে চায়।
আফগানিস্তান–পাকিস্তান: নতুন সংঘাতের কেন্দ্র
অন্যদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। “ডুরান্ড লাইন” নিয়ে মতবিরোধ, সীমান্তে গুলিবিনিময়, এবং পাকিস্তানবিরোধী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর উপস্থিতি উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ, আর ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে—তালেবান TTP-কে আশ্রয় দিচ্ছে। এই অবিশ্বাসের দেয়াল যদি না ভাঙে, তাহলে আফগান–পাকিস্তান সংঘাত বাস্তব রূপ নিতে পারে।
আমেরিকার ভূমিকা: পর্দার আড়ালের কৌশল
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি সংঘাতেই তাদের স্বার্থ জড়িত।
- আফগানিস্তানে: তারা চায় চীন বা রাশিয়ার প্রভাব কম থাকুক।
- পাকিস্তানে: ইসলামাবাদকে চীনের কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়।
- ভারতের সঙ্গে: সামরিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক জোরদার করে “চীন-বিরোধী জোট” শক্তিশালী করছে।
যদি আফগান–পাকিস্তান সংঘাত শুরু হয়, আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে, তবে সেটি হবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়।
ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা আপাতত কম, কিন্তু আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাতের ঝুঁকি বাস্তব। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত পরাশক্তিদের ভূরাজনৈতিক খেলাকে আরও তীব্র করে তুলছে। আর সেই খেলায় সর্বাধিক লাভবান হতে পারে আমেরিকাই।








Leave a Reply