✍️ ড. আউনজুমান এ. ইসলাম ও এস. এম. ফায়াজ হোসেন
সোর্স: The Australia Today
শেখ হাসিনার অর্জনের আলমারি শুধু পূর্ণ নয় — তা এক কঠোর সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের স্মারক।
ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার, জাতিসংঘের Champions of the Earth Award থেকে শুরু করে মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার—এই স্বীকৃতিগুলো একেকটি মাইলফলক, যা তার ত্যাগ ও সংকল্পের পথকে চিহ্নিত করে।
এসব পুরস্কার কেবল পদক নয়; এগুলো সেই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা, যিনি সংকটে দাঁড়িয়ে থেকেছেন—অসহায়দের আশ্রয় দিয়েছেন, গণতন্ত্র রক্ষা করেছেন, নারীর ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে স্থাপন করেছেন।
কিন্তু এই প্রশংসার মাঝেও এক বৈপরীত্য রয়ে গেছে—বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে তাকে সম্মান জানিয়েছে, সেখানে কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে চিত্রিত করেছে ভিন্ন রঙে—বিকাশের বদলে নাটক, বাস্তবতার বদলে সংবেদনশীলতা দিয়ে। তবুও, প্রতিটি ঝড় ও সমালোচনার মধ্যেও হাসিনা দৃঢ় থেকেছেন—তালি পাওয়ার জন্য নয়, বরং সেই জাতির ভবিষ্যতের জন্য, যেটি তিনি গড়ে তুলেছেন জীবন দিয়ে।
স্বৈরশাসক না স্থিতিশীলতার স্থপতি?
অনেকে শেখ হাসিনাকে “স্বৈরাচারী” বলেন—কিন্তু এই শব্দ তার বাস্তবতাকে ধরতে পারে না।
তিনি এমন এক বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, সামরিক অভ্যুত্থান ও উগ্রবাদের ক্ষত তখনও তাজা।
অন্যরা যেখানে পিছু হটেছেন, তিনি সেখানে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ় পায়ে।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু টিকে থাকেনি, বরং স্বপ্ন দেখতে শিখেছে।
মাথাপিছু আয় তিনগুণ হয়েছে, দারিদ্র্য কমেছে, সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা গেছে।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসের উত্থানের সময় তিনি কেবল প্রতিরোধই করেননি—উগ্রবাদকে ভেঙে দিয়েছেন।
পদ্মা সেতু বিশ্বের অবিশ্বাসকে অগ্রাহ্য করে গড়ে ওঠেছে—এক নারীর অনমনীয় বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেননি—একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তাকে কেউ কঠোর বলেন, কেউ একনায়ক; কিন্তু বাস্তবে এটি রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব—যা কেবল শক্ত হাতে নয়, গভীর হৃদয় দিয়েও পরিচালিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা কেবল বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেননি, তিনি বাংলাদেশকে বয়ে এনেছেন নিজের কাঁধে।
কূটনৈতিক প্রজ্ঞা: হাসিনার পররাষ্ট্রনীতি
যখন বিশ্ব বিভক্তি ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে, শেখ হাসিনা সেখানে এক দৃঢ়, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
তার নীতি বঙ্গবন্ধুর “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়”—এই দর্শনের বাস্তব রূপ।
ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া—সব শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা এক সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সাফল্য।
বিমসটেক, সার্ক, জলবায়ু কূটনীতি কিংবা রোহিঙ্গা সংকট—সবক্ষেত্রেই তিনি মানবিকতা ও বাস্তবতার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।
জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ পাওয়া ছিল তার নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
“তথ্য অনুসন্ধান” না “পক্ষপাত”?
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ছিল এক জটিল সময়।
শেখ হাসিনা ছাত্রদের প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করে তাদের মামলায় সহায়তাও দেন।
কিন্তু দ্রুত মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে—যে তিনি নাকি শিক্ষার্থীদের “রাজাকার” বলেছেন।
এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ না থাকলেও তা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সীমিতভাবে বাহিনী মোতায়েন করা হয়, হতাহতের ঘটনা ঘটে, এবং হাসিনা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যম এই দিকটি উপেক্ষা করে কেবল “অত্যাচারী সরকার”-এর গল্পকেই গুরুত্ব দেয়।
সিএনএন ও আল জাজিরা যাচাই ছাড়াই অডিও ক্লিপ প্রচার করে—যা সাংবাদিকতার মৌল নীতির পরিপন্থী।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ: আইনি প্রক্রিয়া না দ্বিচারিতা?
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বর্তমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন,
যেখানে শেখ হাসিনা ও সহ-আসামিদের একই আইনজীবী দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যম এতে নীরব থেকেছে।
অন্যদিকে, ইউনুস-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মৃত্যুবরণ বা নির্যাতনের ঘটনাগুলোতেও তারা প্রায় নীরব—এটাই দ্বিচারিতা।
“স্ট্রংম্যান” তুলনার বাইরে
শেখ হাসিনা গাদ্দাফি বা সাদ্দাম নন।
দেশে নির্বাচন হয়, প্রতিবাদ হয়, আদালত কাজ করে—যদিও তা নিখুঁত নয়।
তার কঠোর সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় জাতির স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, ক্ষমতার নয়।
কিন্তু পশ্চিমা বিশ্লেষণ এই প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে কেবল নাটকীয়তা খোঁজে।
মূল প্রশ্ন
শেখ হাসিনা কি সমালোচনার ঊর্ধ্বে? — না।
কিন্তু পশ্চিমা সমালোচনা কি ন্যায্য ও তথ্যনির্ভর? — তাও নয়।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টিকে ছিল পর-ঔপনিবেশিক বাস্তবতায়,
উগ্রবাদ, জলবায়ু সংকট ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মাঝেও উন্নয়নের পথে এগিয়েছে।
যদি পশ্চিমা বিশ্ব তার নেতৃত্বের সমালোচনা করে,
তা যেন হয় তথ্য ও প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে—
কারণ এখানে কেবল একজন নেত্রীর নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক সততার।
সূত্র: The Australia Today
👉 “Sheikh Hasina: The woman who carried Bangladesh through chaos, now tried by the court of Western opinion”








Leave a Reply