অপরিচিত ধর্মের আলোকে – ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহ (ইয়াযিদি ধর্ম)

ইয়াযিদি ধর্ম (Yazidism)

ইয়াযিদি ধর্ম মধ্যপ্রাচ্যের এক প্রাচীন ও বিতর্কিত বিশ্বাসব্যবস্থা। এর অনুসারীদের ইয়াযিদি বলা হয়, যারা মূলত ইরাকের উত্তরাঞ্চল, সিরিয়া, তুরস্ক ও কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে বসবাস করে।

ধর্মটির শেকড়ে রয়েছে প্রাচীন মেসোপটেমীয়, জরথুস্ত্রীয়, খ্রিস্টীয় ইসলামি প্রভাবের মিশ্রণ। এজন্য একে অনেক সময় আধাইব্রাহিমীয় ধর্ম হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ইয়াযিদিরা বিশ্বাস করেন মেলেক তাউস নামক “ময়ূর ফেরেশতা” তাদের আধ্যাত্মিক নেতা। বাইরের দৃষ্টিতে এই বিশ্বাসকে অনেকে ভুলভাবে “শয়তানপূজা” বলে আখ্যা দিয়েছে, তবে ইয়াযিদিরা নিজেদেরকে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত মনে করে।

মূল বৈশিষ্ট্য

  • ইয়াযিদি ধর্মে কোনো লিখিত কোরআন বা বাইবেলের মতো ধর্মগ্রন্থ নেই।
  • প্রার্থনা, আচার-অনুষ্ঠান ও মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে ধর্মচর্চা চলে।
  • তাদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র লালিশ মন্দির, ইরাকে অবস্থিত।
  • ইয়াযিদিরা কঠোরভাবে নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ করে (endogamy)।

ইতিহাসে নানা সময়ে ইয়াযিদিরা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বিশেষ করে ইরাকে আইএস-এর হাতে তারা ব্যাপক গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে।

বর্তমান অবস্থা

ইয়াযিদিদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন, কারণ তারা পৃথিবীর বহু দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির কারণে অনেক সময় তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে। তবে গবেষণা ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ীঃ

  • মোট জনসংখ্যা আনুমানিক থেকে ১০ লক্ষ (৭০০,০০০ – ১,০০০,০০০)
  • এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইয়াযিদি আছে ইরাকে (প্রায় ৪–লক্ষ) – মূলত নিনেভেহ প্রদেশে, সিঞ্জার (Sinjar) ও লালিশ অঞ্চলে।
  • সিরিয়া, তুরস্ক ইরান–এ ছোট ছোট সম্প্রদায় আছে।
  • ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানিতে ২ লক্ষের বেশি ইয়াযিদি অভিবাসী বসবাস করছে।

অর্থাৎ, মূল আবাসভূমি ইরাক হলেও আজকে ইয়াযিদি প্রবাসী সম্প্রদায়ও খুবই শক্তিশালী।

আরো পড়ুনঃ

1 thought on “অপরিচিত ধর্মের আলোকে – ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহ (ইয়াযিদি ধর্ম)”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top