ইন্দাস সভ্যতার বিস্ময়কর নগর পরিকল্পনা
আধুনিক শহরের সবচেয়ে বড় পরিচয়—পরিকল্পিত নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই ব্যবস্থার সূচনা আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগেই হয়েছিলো। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন ইন্দাস সভ্যতা ছিলো পৃথিবীর প্রথম দিকের নগরসভ্যতা, যেখানে উন্নত ও সুশৃঙ্খল নর্দমা ব্যবস্থা চালু ছিলো।
কোন কোন নগরে এই ব্যবস্থা ছিলো
প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দেখা যায়—মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, ধোলাভিরা ও লোথাল—এই সব নগরে ছিলো সমন্বিত নর্দমা ব্যবস্থা। শুধু কেন্দ্রীয় এলাকায় নয়, প্রায় প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে নর্দমার সংযোগ ছিলো।
ঘর থেকে শহর—পরিকল্পনার ছক
প্রায় সব বাড়িতে ছিলো আলাদা গোসলখানা ও শৌচব্যবস্থা। সেখানকার ময়লা পানি সরাসরি রাস্তায় পড়তো না। বরং ঢালু নালার মাধ্যমে তা গিয়ে পড়তো ইটের তৈরি প্রধান নর্দমায়। এই নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কারের সুবিধার জন্য ঢাকনাযুক্ত ছিলো।
প্রযুক্তি নয়, বুদ্ধির জয়
ইন্দাস সভ্যতার মানুষদের কাছে আধুনিক যন্ত্র ছিলো না। তবু তারা জানতো—পানি কোন দিকে প্রবাহিত হবে, কীভাবে দুর্গন্ধ ও রোগ প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে নালার রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব, এটি ছিল স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও নগর পরিকল্পনার যুগান্তকারী ধারণা।
ইউরোপের আগে হাজার বছর
যখন ইউরোপের বহু শহরে খোলা নর্দমা ও রাস্তায় ময়লা ফেলা হতো, তখন ইন্দাস সভ্যতায় ঢাকা নর্দমা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা চালু ছিল। এমনকি মধ্যযুগীয় ইউরোপেও এই মানের নর্দমা ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা
এই ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা ইঙ্গিত দেয়—ইন্দাস সভ্যতায় ছিলো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও শাসনব্যবস্থা। ব্যক্তিগত ঘর থেকে শুরু করে পুরো শহর—সবকিছুই ছিলো এক ছকে গড়া।
বর্সতমান ময়ের জন্য শিক্ষা
ইন্দাস সভ্যতা আমাদের শেখায়—সভ্যতা শুধু উঁচু ভবন বা বড় প্রযুক্তি নয়। পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও পরিকল্পিত জীবনব্যবস্থাই প্রকৃত অগ্রগতি। পাঁচ হাজার বছর আগের এই ধারণা আজও আধুনিক শহরগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক।
সূত্রঃ ইন্টারনেট








Leave a Reply