যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবার ইমপিচমেন্ট শব্দটি ঘুরে ফিরে আসছে। কিন্তু এই আলোচনায় সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নটি তুলেছেন প্রখ্যাত কলামিস্ট Clarence Page—
ইমপিচমেন্টকে আসলে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন কে?
উত্তরটি সরল: ডোনাল্ড ট্রাম্প—একজন প্রেসিডেন্ট যিনি এই প্রক্রিয়া দু’বার দেখে এসেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল।
ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে, তা নতুন করে ইমপিচমেন্টের প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু এই ভয় কোনো কল্পনা নয়; এটি অভিজ্ঞতা-প্রসুত।
দু’বারের অভিজ্ঞতা, তবু আতঙ্ক কেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার ইমপিচড হয়েছেন।
২০১৯ সালে ইউক্রেন ইস্যু এবং ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিল হামলার পর—দু’বারই তিনি সেনেটে রক্ষা পান। তবু এই ইতিহাসই আজ তাকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক করে তুলেছে।
Clarence Page-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প জানেন—
ইমপিচমেন্ট শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি রাজনৈতিক বৈধতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এটি নির্বাচনী প্রচার, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্ব—সবকিছুকেই দুর্বল করে দেয়।
এই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে এবং দলীয় পরিসরে বারবার সতর্ক করছেন—কংগ্রেসে বিরোধীরা শক্তিশালী হলে “যেকোনো অজুহাতে” ইমপিচমেন্টের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভেনিজুয়েলা অভিযান: মূল ট্রিগার
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদন ছিলো কি না, সেটিই মূল বিতর্ক।
ডেমোক্র্যাটদের একাংশের অভিযোগ—
এটি যুদ্ধ ক্ষমতার রেজুলিউশন এবং সংবিধানের ক্ষমতার ভারসাম্য লঙ্ঘন করেছে।
এই জায়গাতেই ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গ ফের আলোচনায় আসে। কারণ প্রশ্নটা সামরিক সাফল্য নয়, প্রশ্নটা হলো—
প্রেসিডেন্ট কি এককভাবে বিদেশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
ফেডারেল জাজদের স্পষ্ট বার্তা
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন ফেডারেল বিচারকরা।
ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—
(১) প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত আইনের ঊর্ধ্বে নয়
(২) জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আদালতের নজরদারি এড়ানো যাবে না
(৩) নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা আদালতের এখতিয়ার
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
কোনো বিচারকের রায় পছন্দ না হলে তাকে ইমপিচমেন্টের হুমকি দেওয়া সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি আগেও সতর্ক করে বলেছেন,
বিচারকদের সিদ্ধান্তের জবাব আসে আপিলের মাধ্যমে, ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে নয়।
এই বার্তা সরাসরি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের বিরোধিতা করে।
ইমপিচমেন্ট: বাস্তব নাকি চাপের কৌশল?
বাস্তবতা হলো—
ইমপিচমেন্ট সফল করতে হলে হাউস ও সেনেট—দু’জায়গাতেই রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান শক্তির ভারসাম্যে তা সহজ নয়।
তবু Clarence Page মনে করিয়ে দেন,
ট্রাম্পের ভয় দেখায়—তিনি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
কারণ তিনি জানেন,
একটি ইমপিচমেন্ট প্রচেষ্টা সফল হোক বা ব্যর্থ—
এর রাজনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য।
শেষ কথা
ইমপিচমেন্টের আলোচনা যতই রাজনৈতিক শব্দযুদ্ধ মনে হোক, এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গভীর প্রশ্ন—
যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার সীমা কোথায় শেষ হয়?
ভেনিজুয়েলা অভিযান, কংগ্রেসের ভূমিকা, ফেডারেল বিচারকদের নির্দেশনা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে অভিজ্ঞতা আর ভয় একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে।
Clarence Page-এর ভাষায়—
যে মানুষটি ইমপিচমেন্টকে সবচেয়ে ভালো চেনে,
সে-ই আজ সেটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।
সূত্রঃ Time Magazine, Chicago Tribune








Leave a Reply