আজকাল অনলাইন প্রতারণা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে নতুন কৌশলে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন আগেই আমি নিজে এমন এক ঘটনার শিকার হতে বসেছিলাম—যদিও শেষমেশ সচেতন থাকার কারণেই বেঁচে গেছি। ঘটনাটি শেয়ার করছি, যেন অন্যরাও সতর্ক থাকতে পারেন।
প্রথম ফোন: বিকাশের দোকানদার সেজে
তিন–চার দিন আগে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলো। অপর প্রান্তে এক ভদ্রলোক বললেন—
প্রতারক: ভাই, আমি বিকাশের দোকানদার। আমার কর্মচারী ভুল করে আপনার নম্বরে ৫১০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। টাকাটা দয়া করে ফেরত দেন।
আমি: ঠিক আছে, আগে দেখি টাকা এসেছে কিনা। যদি এসে থাকে, অবশ্যই ফেরত দেব।
কিছুক্ষণ পর আবার ফোন।
প্রতারক: ভাই, আসলে টাকাটা অন্য নম্বরে গিয়েছিল। তারা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু আমার কর্মচারী ভুল করে আপনার নম্বর বিকাশে কমপ্লেন করায় এখন বিকাশ আপনার নম্বর আর আমাদের দোকানের নম্বর দুটোই বন্ধ করে দিয়েছে। বিকাশ থেকে যদি ফোন দেয়, দয়া করে একটু বলবেন যেন আমাদের দোকানের নম্বর চালু করে দেয়। আমরা এখন কাস্টমার লেনদেনই করতে পারছি না।
শুনে আমি একটু সন্দেহ করলেও কিছু বলিনি।
দ্বিতীয় ফোন: বিকাশ অফিস থেকে বলছে
কিছুক্ষণ পরেই আরেকটা ফোন। স্ক্রিনে লেখা উঠল “bKash”, কিন্তু নম্বরটা ছিল বাংলালিংকের।
২য় প্রতারক: আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি। আপনার নম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আপনি কি চালু করতে চান?
আমি: হ্যাঁ, তবে আগে যাচাই করে দেখি।
প্রতারক: আপনি কি এখন লাইনে থেকে মেসেজ দেখতে পারেন? একটা ওটিপি যাবে, সেটি বললে সঙ্গে সঙ্গে আপনার নম্বর চালু হয়ে যাবে।
এমন সময় সত্যিই একটা মেসেজ এলো:
“আপনার বিকাশ নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। চালু করতে বিকাশে যোগাযোগ করুন।”
মেসেজে একটি ওটিপি নম্বর ছিল। তখনই আমার সন্দেহ আরও পোক্ত হলো।
আমি: আমি পরে বিষয়টা দেখি।
প্রতারক (চাপ দিয়ে): তাহলে আপনার নম্বর বন্ধই থাকবে!
আমি (শান্তভাবে): থাকুক।
নম্বর দুটি ব্লক করে দেয়ায় এখানে দিতে পারলাম না।
তৃতীয় ফোন: এবার ডাচ–বাংলা ব্যাংক
আজ (২২ অক্টোবর ২০২৫) আবার ফোন এলো, নম্বর: +8809658001325।
প্রতারক: আপনি কি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একাউন্টধারী? আপনার উত্তরাধিকারী তথ্য আপডেট না করায় একাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আমি: না, এমন কোনো মেসেজ তো পাইনি।
প্রতারক: তাহলে আপনি কি একাউন্টটি চালু করতে চান?
আমি: আগে চেক করে দেখি, তারপর জানাচ্ছি।
প্রতারক: তাহলে তিন মাস পরে মতিঝিল হেড অফিসে গিয়ে একাউন্ট চালু করতে হবে। একাউন্ট তিন মাস বন্ধ থাকবে।
এবার আর ধৈর্য ধরতে পারলাম না।
আমি (রাগে): এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? তিন মাস ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ থাকবে! তুমি ফোন রাখো, আমি নিজেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তারপরই ফোনটা কেটে যায়।
শেষ কথা
এই পুরো ঘটনায় আমি বুঝেছি—এরা সবাই দক্ষ প্রতারক, যারা একের পর এক বিশ্বাসযোগ্য গল্প বানিয়ে ফেলে। কিন্তু মূল কৌশল একটাই—ওটিপি বা অ্যাকাউন্ট তথ্য আদায় করে নেওয়া। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্রাকের কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করে জানা গেলো, এরকম আরো দুয়েকজন আমাকে জানিয়েছে ব্যাপারটা- ওরা প্রতারক!
আজকের দিনে সচেতন না থাকলে, যে কেউ এই ফাঁদে পড়তে পারে। তাই একটা কথাই বলব—
“যেখানে সন্দেহ, সেখানেই থামুন। যাচাই করুন, তারপরই উত্তর দিন।”








Leave a Reply