নস্ত্রাদামুস
নস্ত্রাদামুস (Nostradamus) ছিলেন ১৬শ শতকের একজন ফরাসি জ্যোতিষী ও চিকিৎসক। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Les Prophéties-এ চার লাইনের কবিতা (Quatrain) আকারে ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী লেখা আছে।
গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো:
নস্ত্রাদামুস কোথাও সরাসরি “২০২৬ সাল” উল্লেখ করেননি।
২০২৬ নিয়ে যা বলা হয়, তার সবই আধুনিক ব্যাখ্যা ও মিলিয়ে দেখার চেষ্টা।
২০২৬ সাল সম্পর্কে নস্ত্রাদামুসকে ঘিরে প্রচলিত ব্যাখ্যা
(১) প্রভাবশালী ব্যক্তির আকস্মিক পতন
একটি কোয়াট্রেইনে বলা আছে—
“দিনের বেলায় বজ্রাঘাতে এক মহান ব্যক্তি পতিত হবে।”
অনেকে এটিকে ২০২৬ সালের আশেপাশে-
কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক, রাজা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হত্যা, আকস্মিক মৃত্যু বা ক্ষমতা হারানোর ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তবে এখানে নাম, দেশ বা সময়—কিছুই নির্দিষ্ট নেই।
(২) সমুদ্রকেন্দ্রিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত
নস্ত্রাদামুসের বহু কবিতায় সমুদ্র, নৌযুদ্ধ, আগুন ও ধোঁয়ার উল্লেখ আছে।
আধুনিক বিশ্লেষকরা মনে করেন— ২০২৬-এর কাছাকাছি দক্ষিণ চীন সাগর, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপ ঘিরে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ঘটতে পারে।
কিন্তু এটাকে বিশ্বযুদ্ধ বলার মতো স্পষ্টতা নেই।
(৩) প্রযুক্তি ও মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ
কিছু কবিতায় “যন্ত্র”, “লোহা”, “মানুষের ইচ্ছাশক্তি হারানো”—এমন ইঙ্গিত আছে।
এগুলোকে আজকের দিনেঃ
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
- ডিজিটাল নজরদারি
- প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ-এর রূপক হিসেবে দেখা হয়।
বাস্তব মূল্যায়ন
নস্ত্রাদামুসের লেখা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। একই কবিতা দিয়ে বহু সময়ের ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়, তাই ২০২৬ নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু দাবি করা ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল।
বাবা ভাঙ্গা
বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga) ছিলেন বুলগেরিয়ার এক অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা। তিনি ১৯৯৬ সালে মারা যান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
বাবা ভাঙ্গার কোনো নিজস্ব লিখিত ভবিষ্যদ্বাণীর বই নেই।
তাঁর নামে যা প্রচলিত, সবই— অন্য মানুষের স্মৃতিচারণ, সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেটভিত্তিক দাবি।
২০২৬ সাল সম্পর্কে বাবা ভাঙ্গাকে ঘিরে প্রচলিত কথা
(১) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) আধিপত্য
প্রচলিত দাবিতে বলা হয়— ২০২৬ সালের মধ্যে মানুষ:
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে AI-এর উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হবে
- চাকরি, বিচার, যুদ্ধ—সবখানেই প্রযুক্তির প্রভাব বাড়বে
- মানুষের স্বাধীন চিন্তা সংকুচিত হবে
অনেকে এটিকে আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
(২) বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বাবা ভাঙ্গার নামে বলা হয়—
- ভয়াবহ ভূমিকম্প
- বড় বন্যা
- অস্বাভাবিক আবহাওয়া
২০২৬ সালের আশেপাশে মানুষকে চরম সংকটে ফেলতে পারে।
এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়।
(৩) বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট
কিছু সূত্রে দাবি করা হয়— ২০২৬ সালে দেখা দিতে পারেঃ
- ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা
- নগদ অর্থের সংকট
- বৈশ্বিক মন্দা
তবে এই দাবির কোনো প্রাথমিক প্রমাণ নেই।
(৪) ভিনগ্রহী বা অজানা সত্তার প্রসঙ্গ
সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি হলো—
২০২৬ সালের দিকে মানুষ নাকি এলিয়েনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত বা মহাকাশে অজানা কোনো সিগন্যাল পেতে পারে।
তবে এটি পুরোপুরি অনুমান ও গুজবভিত্তিক।
বাস্তব মূল্যায়ন
- বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভরযোগ্য উৎস নেই
- মৃত্যুর পর তাঁর নাম ব্যবহার করে বহু ভুয়া দাবি ছড়িয়েছে
- অনেক ভবিষ্যদ্বাণী “ঘটনার পরে মিলিয়ে নেওয়া” (post-fact interpretation)
শেষ কথা
- নস্ত্রাদামুস ও বাবা ভাঙ্গা—কেউই নিশ্চিতভাবে ২০২৬ সাল সম্পর্কে স্পষ্ট ভবিষ্যৎ বলেননি
- বর্তমান ভয়, প্রযুক্তি, যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটকে পুরনো অস্পষ্ট কথার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়
- এগুলোকে ইতিহাস বা রাজনীতির বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের মানসিক ভয় ও কৌতূহলের প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত
সূত্রঃ ইন্টারনেট








Leave a Reply