ইতিহাসে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নাম আসে সাহস, কৌশল এবং সামরিক প্রতিভার প্রতীক হিসেবে। ইউরোপ কাঁপানো এই সম্রাট যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন ভয়হীন, দৃঢ় এবং অসাধারণ নেতৃত্বের অধিকারী। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিজীবনে একটি অদ্ভুত দুর্বলতার কথা ইতিহাসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে—তিনি নাকি বিড়ালকে ভয় পেতেন।
নেপোলিয়নের ‘বিড়ালভীতি’—ইতিহাসে কী লেখা আছে?
ইউরোপীয় জীবনীকারদের অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে নেপোলিয়ন ছিলেন “ailurophobic”—অর্থাৎ বিড়ালভীতিতে আক্রান্ত।
তাঁর জীবন নিয়ে রচিত কয়েকটি পুরনো গ্রন্থে বলা হয়, কোথাও হঠাৎ বিড়াল দেখা গেলে নেপোলিয়নের আচরণ বদলে যেত; কখনও অস্বস্তিকর, কখনও ভীত–সন্ত্রস্ত।
এই ঘটনাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের নেপোলিয়নের চরিত্রের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে—যে মানুষ কামান–তোপের সামনে দাঁড়াতে পারে, সে আবার নরম একটি প্রাণী দেখে পিছিয়ে যায়!
ভয়ের কারণ কী ছিল?
এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর ইতিহাস দেয় না। তবে গবেষকদের মধ্যে কিছু ধারণা রয়েছে—
- শিশুকালের অভিজ্ঞতা: কেউ কেউ মনে করেন শৈশবে কোনো খারাপ ঘটনা এই ভয়ের জন্ম দিতে পারে।
- অন্তর্মুখী স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া: ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের মধ্যেও অনেক সময় অস্বাভাবিক ফোবিয়া দেখা যায়—নেপোলিয়নের ক্ষেত্রে হয়তো সেটাই ঘটেছিল।
এগুলো অনুমান মাত্র; নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই।
বিরোধী মতও আছে
সব ইতিহাসবিদই অবশ্য নেপোলিয়নের বিড়ালভীতি মেনে নেন না। তাদের যুক্তি হলো—
- বিড়ালভীতির পক্ষে শক্ত নথিবদ্ধ প্রমাণ নেই।
- নেপোলিয়নকে মানবিক বা দুর্বল দেখাতে অনেক রচনায় অতিরঞ্জন হয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁর ভাবমূর্তি নরম করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন গল্প চালিয়ে দিতে পারে।
তবুও এই কাহিনীটি ইতিহাসে এতবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে যে এর জনপ্রিয়তা নিজেই একটি ঐতিহাসিক তথ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাসের মানুষেরাও মানুষই
নেপোলিয়নের বিড়ালভীতি সত্য বা অতিরঞ্জন—যাই হোক, এটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়:
ইতিহাসের নির্মাতা ব্যক্তিরাও আমাদের মতো মানুষ—তাদেরও ভয়, দুর্বলতা, এবং ব্যক্তিগত অস্বস্তি থাকে।
একজন মহাসেনাপতির জীবনে এই ছোট্ট তথ্যটুকু তাই ইতিহাসকে আরও মানবিক, আরও জীবন্ত করে তোলে।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কে ছিলেন?
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৫ আগস্ট ১৭৬৯ – ০৫ মে ১৮২১) কে ছিলেন তা আমরা কমবেশি জানি। বর্ণ্যাঢ্য কর্মজীবনের প্রথমে তিনি ছিলেন একজন ফরাসি সামরিক কর্মী ও কূটনীতিবিদ। তিনি ফরাসি বিপ্লবের সময় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৭৯৬ থেকে ১৮১৫ পর্যন্ত তিনি ইউরোপজুড়ে একাধিক সফল সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৭৯৯ থেকে ১৮০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রথম কনসাল ছিলেন। পরে ১৮০৪ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ফরাসি সম্রাট ছিলেন। তারপর ১৮১৫ সালেও তিনি ১০০ দিনের জন্য ফরাসি সম্রাট ছিলেন, যা “একশো দিনের শাসন” বলে পরিচিত।








Leave a Reply