ইতিহাসে এমন এক রাজার কথা প্রচলিত আছে, যিনি জীবনে প্রায় কখনোই স্নান করতেন না। শুধু তাই নয়—তিনি বিশ্বাস করতেন, শরীর ধোয়া ঈশ্বরের দেওয়া স্বাভাবিক প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে যাওয়া, এমনকি তা পাপ বা ক্ষতিকর।
ইংল্যান্ডের এই রাজার নাম ছিলো রাজা জেমস প্রথম (James I of England)—যিনি একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডের রাজা জেমস ষষ্ঠও ছিলেন।
সমসাময়িক দরবারি ও বিদেশি কূটনীতিকদের বর্ণনায় স্নান নিয়ে তার ধারণা সম্পর্কে যা পাওয়া যায়—তিনি প্রায় কখনো গোসল করতেন না। তিনি মনে করতেন, পানি শরীরের রন্ধ্র খুলে দেয়, ফলে রোগ ঢুকে পড়ে। পরিষ্কার থাকার চেয়ে “স্বাভাবিক গন্ধ”কেই তিনি নিরাপদ ভাবতেন। ফলে তিনি শুধু পোশাক বদলাতেন, কিন্তু শরীর ধোয়াকে এড়িয়ে চলতেন।
তার দরবারের বাস্তবতাসম্পর্কে সমসাময়িকরা লিখেছেন—
(১) রাজপ্রাসাদে তীব্র দুর্গন্ধ থাকতো।
(২) রাজা নিজেই ছিলেন অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন।
(৩) অনেক বিদেশি অতিথি তার কাছাকাছি বসতে অস্বস্তি বোধ করতেন।
একজন ফরাসি দূত পর্যন্ত লিখেছিলেন—“রাজা যেন পরিচ্ছন্নতাকে ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন।”
১৬–১৭ শতকে ইউরোপীয়দের মানসিকতায় নিয়মিত গোসল স্বাস্থ্যকর—এই ধারণা ছিল না।প্লেগ ও সংক্রমণের ভয়ে পানি এড়িয়ে চলা হতো।অনেক ধর্মীয় ব্যাখ্যায় শরীরকে “অতিরিক্ত যত্ন” দেওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো।তবু একজন রাজার ক্ষেত্রে এমন চরম অনাগ্রহ ছিল ব্যতিক্রমী।
আজ যে পরিচ্ছন্নতাকে আমরা সভ্যতার মাপকাঠি ধরি, এক সময় তা ছিল ভয়, কুসংস্কার ও ধর্মীয় ভ্রান্ত ধারণার শিকার।
ক্ষমতা মানুষকে আধুনিক করে না—জ্ঞান ও বোধই মানুষকে বদলায়। এ কারণেই ইংল্যান্ডের এই রাজা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন—একজন শাসক হিসেবে নয়, বরং এমন একজন মানুষ হিসেবে, যিনি স্নানকেই ভয় পেতেন।








Leave a Reply