- আতাউর রহমান খান
ভূমিকা
“পথের পাঁচালী”—বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস। রচনাকাল ১৯২৯ সাল। সেই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৬৫ সালে সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করেছিলেন অনবদ্য চলচ্চিত্র।
আরও আছে—এক সময় আনোয়ারা সৈয়দ হক পথের পাঁচালী শিরোনামে পত্রিকায় কলাম লিখতেন। ৫০-৫২ বছর আগে নিয়মিত পড়তাম সেই কলাম। আজ আর মনে নেই কোন পত্রিকায়—দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বাংলা, নাকি ইত্তেফাক।
যাই হোক, আমি লেখক নই—গরিবানা হালে ফেসবুকে এবং সময় পেলে ব্লগে দুই-চার লাইন লিখি। “পথের পাঁচালী” নামটি আমার প্রিয় হলেও ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই নিজের লেখার নাম দিয়েছি “গরীবের পাঁচালী”—যেমন “গরীবের ভ্রমণ বিলাস” শিরোনামে ভ্রমণকাহিনী লেখি।
শহরের পথে জ্যামের ঘটনা
বেলা সাড়ে ১১টায় (১০ অক্টোবর ২০২৫) সেগুনবাগিচা কমিশনার ভবনে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছিলাম। দূরত্ব মাত্র ১.৮ কিলোমিটার—হেঁটে গেলে ২৫ মিনিট লাগে। কিন্তু মোটরসাইকেলে লাগলো ৩৫ মিনিট! ফেরত আসার সময়ও তাই।
রোদ না থাকলে হেঁটেই যেতাম; আজকাল স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে প্রতিদিন ২–৪ কিলোমিটার এমনিতেই হাঁটি।
ঢাকার রাস্তায় এখন চলাচল মানেই একপ্রকার যুদ্ধ। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালক আর অসংযত রিকশাচালকদের জন্য যানবাহনেও শান্তি নেই, পায়ে হেঁটেও নেই।
শান্তিনগর ফ্লাইওভার শেষ হওয়ার মোড়ে সব সময় জ্যাম লেগেই থাকে। আজ তো মনে হলো—পুরো ঢাকাই একসাথে বেরিয়ে পড়েছে, যেন কাল কারও সময় থাকবে না!
হঠাৎ ধাক্কা
জ্যামে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ পেছন থেকে এক মোটরসাইকেল ধাক্কা দিল। ঘাড় ফিরিয়ে তাকাতেই সে জোড়হাতে বিনয় দেখালো—এমনটাও আজকাল বিরল।
এর মধ্যেই বাম পাশ দিয়ে এক রিকশাওয়ালা তার রিকশার ডান চাকা আমার বাঁ পায়ের ওপর দিয়েই চালিয়ে দিল। চিৎকার করে তাকাতেই দেখি—সে জিহ্বা বের করে তাকিয়ে আছে!
দুজন যাত্রীসহ চাকা পায়ের ওপর দিয়ে গেছে, পায়ে ছিল নরম জুতা—ব্যথা তীব্র। বললাম,
“জিভ বের করে দেখালেই আমার ব্যথা সারবে?”
সে নির্বিকার! মনে হলো, রাস্তাটা যেন এখন তাদেরই রাজত্ব।
রিকশা–মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের দাবি
আজকাল ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেল আর রিকশার জন্য চলাচল দুর্বিষহ। মোটরসাইকেলের জন্য BRTA’র রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, কিন্তু রিকশার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
অথচ তারাই এখন লাইসেন্সধারী চালকদের টেক্কা দিয়ে চলে।
তাই সময় এসেছে রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের। কারণ, এক ডিপার্ট্মেন্ট দিয়ে সামলানো সম্ভব না। নাম হতে পারে BRTA’র আওলে BRCA – Bangladesh Rickshaw Controlling Authority।
প্রশাসনিক উদাসীনতা
গত কয়েক বছর ধরে লেখালেখির মাধ্যমে এই প্রস্তাব তুলে ধরছি—কিন্তু কাজ “হয় হয় করে” হয়নি। পরিকল্পনার অভাবে রামপুরা রোডে রিকশা বন্ধের ঘোষণাতেই নাকানি–চুবানি খেতে হয়েছিল বিগত সরকারকে।
এখন তো এমন কোনো সরকারই নেই, যারা নাগরিকের বাস্তব সমস্যাগুলো শুনে ব্যবস্থা নেবে। তাই দাবি জানানো মানে—নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।
তবুও বলে রাখলাম—
যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না গড়ে তোলা হয়, অচিরেই রিকশার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পড়বে ঢাকার নাগরিক জীবন। তখন ঘর থেকে বেরোনোটাই হয়ে উঠবে এক দুরূহ সাধনা।
উপসংহার
এ শহর একদিন “মসজিদের শহর” নামে পরিচিত ছিল। এখন “হর্নের শহর”, “জ্যামের শহর” আর “রিকশার রাজত্ব” বলে ডাকাই স্বাভাবিক মনে হয়।
তবুও, নাগরিকের আশা শেষ নয়। যদি পরিকল্পিতভাবে BRTA’র মতো একটি রিকশা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BRCA) গঠিত হয়,
তবে হয়তো ঢাকাকে আবারও চলাচলের উপযোগী শহরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।








Leave a Reply