![]() |
| মোবাইল ফোনে ধারণকৃত(২০১৬) |
পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরেরদিন গেলাম দিল্লির সালতানাতের
রাজধানী দূর্গ লাল কেল্লা দেখতে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ
দিল্লির লাল কেল্লা দেখতে যান। সেখানে দিল্লির বাদশারা কিভাবে অবস্থান করতেন, পেছন
দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা। প্রাসাদের ভিতরে দেওয়ান-ই-আম (সম্রাটের সিংহাসন,
যেখানে সম্রাট প্রজাদের সাথে দেখা দিতেন), দেওয়ান-ই-খাস, রং মহল ইত্যাদি।
প্রাসাদটি বর্তমানকালের মতো বৈদ্যুতিক তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বাদেই গ্রীস্মকালে যেভাবে তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে সেভাবেই নির্মিত।
![]() |
| লাল কেল্লার পাশে ছোটছেলে পাভেল(২০১৬) |
কেল্লা মানে দূর্গ। দিল্লির লাল কেল্লা সম্রা্টের সিংহাসন ও সম্রাট
পরিবারের বাসস্থান। স্বাভাবিকভাবেই বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এবং
প্র্যোজনীয় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সমস্ত ব্যবস্থাই সেখানে ছিলো। কেল্লাটি সমতল
ভূমি থেকে উঁচু।
![]() |
| লাল কেল্লার রঙ মহলের কাছে আমি, স্ত্রী ও ছোটছেলে |
দিল্লি জামে মসজিদ পরিদর্শণ
দিল্লি জামে মসজিদেও প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজার হাজার
দর্শণার্থী আসেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম, মসজিদ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য
উন্মুক্ত। মসজিদের সামনেই উন্মুক্ত একটি বিশাল লেকের মতো অজুখানা আছে। তার চারপাশে বসে
বিশ্রাম করারও ব্যবস্থা আছে। মুসলিম যারা তারা যথারীতি অজু করে প্রবেশ করছে।
মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে সবাই মসজিদের নয়নাভিরাম কারুকার্য
দেখছে, কেউ ছবি তুলছে, ভিডিও করছে। কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে নামাজের ওয়াক্ত না হলেও
নফল নামাজ পড়ে মনে স্মৃতি এঁকে রাখছে। আমিও দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করলাম। তারপর
বেরিয়ে বিশাল মসজিদ চত্তর ঘুরে দেখলাম।
![]() |
| দিল্লি জামে মসজিদের আঙ্গিনায় স্ত্রী ও বৌমা (ছোটছেলের স্ত্রী) |
মসজিদের পাশে অবস্থিত অধিকাংশ রেস্টুরেন্টই মুসলিম খাদ্য,
বিশেষ করে গরুর মাংশের নানা আইটেম নজরে পড়লো। আমরাও এক রেস্টুরেন্টে গরুর মাংশ
দিয়ে আহার করেছিলাম।
আজমীরের উদ্দেশ্যে দিল্লি ত্যাগ
আমাদের
ভ্রমণ সূচী অনুযায়ী পরের দিনের প্ল্যান আজমীর যাওয়া। উদ্দেশ্য, আজমীর শরীফ দরগাহ
জিয়ারত করা। দিল্লি জামে মসজিদ দেখে হোটেলে ফেরার পথে ঢুকলাম ট্রেন ষ্টেশনে
(সম্ভবত নিউ দিল্লি ট্রেন স্টেশন)। পরেরদিন সকালের ভালো একটি ট্রেন, যেটা আগে
থেকেই অনলাইনে সিডিউল জেনে নিয়েছিলাম। ট্রেনের নাম মনে নেই, তবে দিল্লি থেকে ৬
ঘন্টায় আজমীর পৌঁছে। ওটাই ওই লাইনে চলাচলকারী বিশেষ ট্রেন।
ভারতে
ভ্রমণ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যা টের পেয়েছি, তা হলো—ট্রেনের সময় যত ঘনিয়ে আসে,
ভাড়া তত বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালে চীন ভ্রমণের সময়ও একই নিয়ম দেখেছি। ২০১৬ সালে ভারতে
সেটা টের পেয়েছি হাওড়া থেকে দিল্লি যাওয়ার সময়। কলকাতা থেকে আমাদের সহযাত্রী হয়
একটি পরিবার যারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আমাদের সহযাত্রী হয়। হাওড়া ষ্টেশনে গিয়ে
সরাসরি টিকেট করতে তাদের লেগেছিলো জনপ্রতি ২৪০০ রুপি, যেটা আমরা বাংলাদেশে থাকতেই
অনলাইনে কিনেছিলাম ১৬০০ রুপিতে। দিল্লি-আজমীর টিকেট কেনার সময় একই অবস্থা। জনপ্রতি
৭০০ রুপির টিকেট কিনতে হলো ১০৫০ রুপিতে।
ট্রেন
জার্নিতে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা বিমান জার্নিতে পাওয়া যায় না, যদি সেটা দ্রুতগামী
ট্রেন হয়। দিল্লি থেকে আজমীর জার্নিটা খুব আনন্দদায়ক ছিলো। ভারতে লোকসংখ্যা যেমন
বেশি, ভূমিও অনেক বেশি। ট্রেনে যাওয়ার সময় মাইলের পর মাইল উন্মুক্ত প্রান্তর,
ধানক্ষেত, ছোট ছোট গ্রাম দেখে মন জুড়িয়ে যায়।
আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে যায়। দুপুর
একটা-দেড়টা নাগাদ আমরা আজমীর পৌঁছলাম। ট্রেন ষ্টেশন থেকে ট্যাক্সি নিয়ে ড্রাইভারকে ভালো
একটি রেস্টুরেন্টের কাছে নামিয়ে দেয়ার কথা বলতেই সোৎসাহে মাজারের কাছাকাছি একটি
রেষ্টুরেন্টে নামিয়ে দিলো। আগেই বলেছি দালালদের কথা। যে হোটেলে নামিয়ে দিলো
সেখানেও ড্রাইভারের কমিশন আছে। যাইহোক, দাম বেশি হলেও রেস্টুরেন্টের খাবার বেশ
সুস্বাদু ছিলো। বিখ্যাত হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানী দিয়ে সেদিনের মধ্যহ্নভোজ সেরে হোটেলে
উঠে লাগেজ রেখে বেরিয়ে পড়লাম মাজার দেখতে।












Leave a Reply