যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক তুলসী গাবার্ড-এর AmFest-2025 (American Festival-2025)-এ ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তৃতার উদ্ধৃতাংশঃ
“আমাদের স্বাধীনতার প্রতি এমন একটি হুমকি রয়েছে, যা নিয়ে খুব কমই যথেষ্ট আলোচনা করা হয়। আর সেটিই হলো-আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য নিকট ও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় হুমকি। আর সেই হুমকি টি হলো ইসলামপন্থী (Islamist) মতাদর্শ।
এই মতাদর্শ এমন মানুষের দ্বারা প্রচারিত, যারা স্বাধীনতার ধারণাতেই বিশ্বাসী নয়। তাদের দর্শন আমাদের সংবিধান ও বিল অব রাইটসের মূল ভিত্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আমাদের রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে এই বিশ্বাসে যে, স্রষ্টা স্বয়ং মানুষকে কিছু অবিচ্ছেদ্য অধিকার দিয়েছেন, জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার এবং সুখের সন্ধানের অধিকার।
চার্লি এই সত্যটি গভীরভাবে বুঝেছিলেন। তিনি এই হুমকির কথা এমন ভাষায় বলেছিলেন, যা খুব কম মানুষই সাহস করে বলেছেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন-এটি কেবল নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি স্বাধীনতার অস্তিত্বের প্রশ্ন।
(প্রসঙ্গতঃ চার্লি ক্রিক ছিলেন আমেরিকান ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী, উদ্যোক্তা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০১২ সালে রক্ষণশীল ছাত্র সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ (টিপিইউএসএ) সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৫ সালে তার হত্যার আগ পর্যন্ত এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন)
আজ থেকে চব্বিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া ৯/১১ আমাদের সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। সেদিন হাজার হাজার নিরীহ আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছিলেন ইসলামপন্থী জিহাদিদের হাতে। সেদিন আমরা বুঝেছিলাম এই আদর্শ আমাদের দেশ হিসেবে যা কিছু তার শিকড় উপড়ে ফেলতে কত দূর যেতে প্রস্তুত।
সেই দিনটি আমার জীবনও বদলে দিয়েছিল। এই কক্ষে উপস্থিত অনেকের মতোই, আমিও সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম-দেশের ডাকে সাড়া দেবো। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবো এবং যারা আমাদের ধ্বংস করতে চায়, তাদের প্রতিহত করব।
ইসলামপন্থী মতাদর্শই আল-কায়েদা, আইএস, আল-শাবাব, হামাস, বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জ্বালানি। এদের সামরিকভাবে পরাজিত করতেই হবে। কারণ তারা আজও সক্রিয়ভাবে আমাদের ওপর আঘাত হানার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি-এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা, এই মতাদর্শ আমাদের স্বাধীনতার জন্য সরাসরি বিপদ। কারণ এর মূল লক্ষ্য একটি রাজনৈতিক প্রকল্প- একটি বৈশ্বিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা, যার শাসনব্যবস্থা আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
এটি পশ্চিমা সভ্যতার বিরুদ্ধে এক আদর্শিক যুদ্ধ। শরিয়াহ আইনের নামে এক ধরনের শাসন, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই।
আপনি যদি সেই আদর্শে নতিস্বীকার না করেন, আপনি যদি আপনার ঈশ্বরপ্রদত্ত বাকস্বাধীনতা প্রয়োগ করার সাহস দেখান-তবে শুধু সেন্সরশিপ নয়, সহিংসতাও তাদের কাছে ন্যায্য অস্ত্র হয়ে ওঠে।
আমরা যদি এই হুমকিকে চিনতে ব্যর্থ হই, যদি একে তার প্রকৃত নামে ডাকতে ভয় পাই, যদি প্রতিরোধ গড়ে না তুলি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎও ইউরোপ কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো হয়ে উঠবে।
যেসব দেশে রাস্তার কোণে নীরবে প্রার্থনা করলেও গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে-যেমন যুক্তরাজ্যে। যেসব দেশে কেউ যদি এমন কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট করে, যা কোথাও কেউ অপমানজনক মনে করে-তাহলেও গ্রেপ্তার হতে পারে।
এই ইসলামপন্থী মতাদর্শের হুমকি নানা রূপে আসে। আমরা যখন বড়দিনের দিকে এগোচ্ছি, তখন জার্মানিতে এই হুমকির কারণে বড়দিনের বাজার বাতিল করা হচ্ছে। ডিয়ারবর্ন, মিশিগান এবং মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটার মতো জায়গায় ইসলামপন্থী আলেমরা প্রকাশ্যেই এই মতাদর্শ প্রচার করছে, তরুণদের উগ্রবাদে টানার চেষ্টা করছে।
চলতি বছরের শুরুতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, যেখানে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) সহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। সেই সম্মেলন থেকে আমেরিকার আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এটি ভবিষ্যতের কল্পনা নয়।
এটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
এটি ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় শুরু হয়ে গেছে, হিউস্টনের মতো শহরে এবং বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এটি কোনো ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়। এটি এখনই, আমাদের সীমান্তের ভেতরেই ঘটছে।
নিউ জার্সির প্যাটারসন শহর নিজেকে “প্রথম মুসলিম শহর” হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে। সেখানে তারা নিজেদের সরকারে এমন ইসলামি নীতি প্রয়োগের চেষ্টা করছে, যা আইন কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত সত্যটি নির্মম। ইসলামপন্থী মতাদর্শে ব্যক্তিস্বাধীনতার কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি আমাদের জাতির স্বাধীনতার ভিত্তির স ঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
চার্লি বারবার বলেছেন-এটি আমাদের জাতির স্বাধীনতার ভিত্তির সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের স্বাধীনতা আসে রাষ্ট্র থেকে নয়, আমাদের স্বাধীনতা আসে স্রষ্টার কাছ থেকে। আর এই মতাদর্শ সেই সত্যকেই অস্বীকার করে।
আর এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়-আমরা যখন বুঝি যে আমাদের স্বাধীনতা ঈশ্বরের কাছ থেকেই এসেছে, তখন এই ইসলামপন্থী হুমকির গুরুত্বও বুঝি। কারণ তারা অস্বীকার করে যে, ঈশ্বরই প্রত্যেক মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার অধিকার দান করেছেন।
তাহলে আমাদের করণীয় কী? আমাদের, আমেরিকানদের গর্বের সঙ্গে স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে হবে এবং বুঝতে হবে, যে স্বাধীন সমাজ নিজেকে রক্ষা করতে অস্বীকার করে, সে সমাজ টিকে থাকতে পারে না। বাকস্বাধীনতা বাতিল করে তাকে রক্ষা করা যায় না। আরও বেশি কথা বলে, আরও মত প্রকাশের সুযোগ দিয়ে তাকে রক্ষা করতে হয়।
সংবিধান রক্ষা হয় আনুগত্যের মাধ্যমে। গণতন্ত্র টিকে থাকে সেই নেতাদের মাধ্যমে, যারা শুধু স্বাধীনতার কথা বলেন না- নিজেদের জীবনে তা ধারণ করেন। এবং সর্বোপরি আমরা সংবিধান রক্ষা করি সংবিধানের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রক্ষা করি এমন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে, যারা শুধু আমেরিকান মূল্যবোধে বিশ্বাস করে না বরং তা নিজেদের জীবনে ধারণ করে। এমন নেতা, যারা “জনগণের সরকার-জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য”-এই নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবং সর্বোপরি এমন নেতা যারা প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমেরিকান জনগণের স্বাধীনতা, স্বার্থ ও কল্যাণকে সবার আগে রাখে।“
সূত্রঃ Fox News








Leave a Reply