আফগানিস্তানে আজ যদি কোনো নারী তীব্র দাঁতের ব্যথায় ভোগেন, বাস্তবতা হলো—চিকিৎসা পাওয়াটাই তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কারণটি কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সামাজিক নিষেধাজ্ঞা। নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার ফলে তারা দন্তচিকিৎসক হওয়ার সুযোগই পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ দন্তচিকিৎসকদের নারী রোগী চিকিৎসা করার অনুমতি নেই। এই দ্বিমুখী নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে পড়ে নারী রোগীরা কার্যত চিকিৎসাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বর্তমানে আফগানিস্তানে যে অল্পসংখ্যক মহিলা দন্তচিকিৎসক রয়েছেন, তারা মূলত পূর্ববর্তী সময়ে শিক্ষালাভ করা। কিন্তু এই সংখ্যা এতটাই সীমিত যে দেশের কোটি কোটি নারীর মৌলিক চিকিৎসা-চাহিদা পূরণ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। গ্রামাঞ্চল তো দূরের কথা, অনেক শহরেও নারী দন্তচিকিৎসক পাওয়া যায় না। ফলে দাঁতের ব্যথা, সংক্রমণ বা জটিল রোগ নিয়ে নারীদের দীর্ঘদিন কষ্ট সহ্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
এই পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি নারীদের সামাজিক অবস্থানের একটি প্রতীকী চিত্র। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্র থেকেই নারীদের ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য সমাজে যে অনুমতিগুলো কার্যত অবশিষ্ট আছে, তা মানবিক অধিকার নয়; বরং শাস্তি, নিপীড়ন ও নিষেধাজ্ঞার ভাষা। কোথাও পাথর নিক্ষেপের মতো মধ্যযুগীয় শাস্তি, কোথাও অধিকারহীন জীবন, কোথাও সম্পূর্ণ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।
একজন নারীর দাঁতের ব্যথা তাই কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়—এটি আফগানিস্তানে নারীদের উপর আরোপিত কাঠামোগত বৈষম্য, নিপীড়ন এবং মানবাধিকার সংকটের এক নির্মম প্রতিফলন।
কৈফিয়তঃ এই লেখাটি সমসাময়িক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে লেখা। কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো এর উদ্দেশ্য নয়।








Leave a Reply