ইউরোপের বাল্টিক দেশ লাটভিয়ায় একটি নীরব সামাজিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায়। দেশটিতে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুদ্ধ, অভিবাসন, অকালমৃত্যু এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের কারণে বহু পুরুষ দেশ ছেড়েছেন। ফলাফল হিসেবে গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে অবিবাহিত নারীর সংখ্যা বেড়েছে।
এই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে এক অদ্ভুত সামাজিক প্রবণতা। কিছু নারী ‘ভাড়ায় স্বামী’ বা সঙ্গী খোঁজার পথে হাঁটছেন। এটি প্রেম বা স্থায়ী বিবাহের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং সামাজিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক চাপ সামলানো, একাকীত্ব কাটানো বা দৈনন্দিন কাজে সঙ্গ পাওয়ার জন্য অস্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক সঙ্গী ঠিক করা হয়। শর্ত স্পষ্ট—সময়সীমা, দায়িত্ব, এমনকি সামাজিক আচরণও নির্ধারিত থাকে। এতে সম্পর্কের আবেগগত দিক কম, বাস্তব প্রয়োজন বেশি প্রাধান্য পায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতার একটি প্রতিফলন। একই সঙ্গে আধুনিক সমাজে একাকীত্ব, পরিবার কাঠামোর পরিবর্তন এবং অভিবাসনের প্রভাবও এখানে স্পষ্ট। সমালোচকেরা একে সম্পর্কের ‘পণ্যায়ন’ বললেও সমর্থকেরা দেখছেন—এটি প্রয়োজন থেকে জন্ম নেওয়া এক বাস্তববাদী পথ।
লাটভিয়ার এই চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জনসংখ্যা ও সামাজিক কাঠামোর সামান্য পরিবর্তনও মানুষের সম্পর্ক ও জীবনের ধরনকে কতটা বদলে দিতে পারে।
সূত্রঃ ইন্টারনেট








Leave a Reply