Thank you for reading this post, don’t forget to subscribe!
![]() |
| ছবিঃ আনন্দবাজার পত্রিকা |
আমেরিকার স্পেসএক্স কর্তৃক পরিচালিত স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে দূরবর্তী গ্রামাঞ্চল—যেখানে প্রচলিত ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারে না, সেখানে স্টারলিঙ্ক নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করছে। এই প্রযুক্তি এখন একদিকে যেমন আমেরিকার ‘সফট পাওয়ার’-এর হাতিয়ার, অন্যদিকে ভূরাজনীতির নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ঘোষণা করেছে, তারা নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করবে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর এই উদ্যোগ সরাসরি স্টারলিঙ্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া ‘স্ফেরো’ (Sphero) নামের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার আওতায় কয়েকশো ক্ষুদ্র উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হবে। এগুলো দেশব্যাপী এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।
রুশ কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আমেরিকান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে স্টারলিঙ্ক ব্যবহারের ঘটনা এবং এর মাধ্যমে তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন রাশিয়ার জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা এখন নিজস্ব বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে অগ্রসর হচ্ছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। স্টারলিঙ্ক ইতিমধ্যেই মহাকাশে ৬,০০০-এর বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে এবং বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক রয়েছে। রাশিয়ার নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তিগত, আর্থিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিক থেকে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
একটি বিষয় স্পষ্ট—ইন্টারনেট পরিষেবা এখন শুধু বাণিজ্যিক ক্ষেত্র নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। আমেরিকার একাধিপত্য ভাঙতে রাশিয়ার এই ‘স্টারলিঙ্ক বিকল্প’ প্রকল্প নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দ্বার উন্মোচন করছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা








