মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া উচিত—এমন কথা বলছি না। বরং বলছি, এ শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। কারণ জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে যেমন কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুষ্টিবিদ, পরিবেশবিদ, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদ বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, তেমনি কেন একজন মাওলানা হতে পারবেন না? ধর্মীয় শিক্ষাও যদি পদ্ধতিগত ও বিজ্ঞানসম্মত হয়, তবে সেখান থেকেও সর্ববিষয়ে জ্ঞানী মানুষ তৈরি হতে পারে।
Thank you for reading this post, don’t forget to subscribe!আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নবম শ্রেণী থেকে বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য শাখা যেমন আলাদা হয়ে যায়, তেমনি ধর্মীয় শাখাকেও কয়েকটি ধারায় ভাগ করা যেতে পারে—যাতে একজন শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে পারদর্শী হয়। বেসিক শক্তিশালী ও পাঠ্যসূচি যুগোপযোগী হলে, যারা আজ কৃত্রিম আলেম দাবি করেন, তারাও প্রকৃত শিক্ষিত হয়ে সর্বক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হবেন।
শুধু ধর্মীয় গ্রন্থনির্ভর পড়ালেখা নয়, সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চা বাদ দিলে শিক্ষার্থীরা পূর্ণ জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়। বর্তমানে অলিগলিতে গড়ে ওঠা অসংখ্য অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসায় শিক্ষাব্যবস্থার কোনো মান নিয়ন্ত্রণ নেই; সেখানে যার ইচ্ছা, তাই পড়ানো হয়।
আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যসূচি ব্রিটিশ আমলে ১৭৮০ সালে প্রবর্তিত হয়েছিল—অথচ তার পর থেকে কোনো যুগোপযোগী সংস্কার হয়নি। আজও সেখানে ‘ফতোয়া-ই আলমগীরী’ পড়ানো হয়, যা মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের (বাদশাহ আলমগীর) আমলের আইনগ্রন্থ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা অত্যন্ত সন্দেহজনক।
সম্প্রতি মাদ্রাসার এক হুজুর কর্তৃক ১১ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করার ঘটনা, আরেক মাদ্রাসায় ৮ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা এবং রংপুরের মিঠাপুকুরে এক হুজুর কর্তৃক শারীরিক প্রতিবন্দী শিশুকে ধর্ষণ সহ এই জাতীয় বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক ও প্রশাসনিক শূন্যতার প্রতিফলন।
এ ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ জানাব, বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা জরুরি। ধর্মীয় শিক্ষাকে বাতিল নয়, বরং সংস্কার ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী, সর্ববিদ্যায় সমৃদ্ধ ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুনঃ






