সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী; ইসলামী বিধি -বিধান মেনে চলা বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ড। এই তালিকার ৩৩ ও ৪৮ নম্বরে যথাক্রমে মালয়েশিয়া ও কুয়েতের নাম থাকলেও আমাদের নবিজীর জন্মস্থান, যেখান থেকে এই ধর্মের উৎপত্তি সেই সৌদি আরবের অবস্থান ১৩১ নম্বরে।
Thank you for reading this post, don’t forget to subscribe!
অবাক করা বিষয় হলো আমরা যারা ধর্ম নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করি, মারামারি করি, যেমন; বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ইত্যাদি, উক্ত তালিকায় এসব দেশের নামই নাই।
সেজন্যেই পাকিস্তানের বিখ্যাত কবি আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন, “ইউরোপে আমি মুসলিম দেখিনি, তবে ইসলাম দেখেছি; আর মুসলমানের দেশ পাকিস্তানে আমি মুসলিম দেখেছি কিন্তু ইসলাম দেখিনি”।
যুক্তরাষ্ট্রের “জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে”র আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক হুসেইন আসকারি ইসলামের বিধান মেনে চলার ব্যাপারে কোন রাষ্ট্রের অবস্থান কি তা গবেষণা করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। সেই গবেষণায় তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন, বিশ্বের কোন দেশগুলোতে দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের রীতিনীতি বিধিবিধান মেনে চলা হয়।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা তো নামাজ রোজা করি, ওয়াজ মাহফিল করি, কেউ ধর্ম অবমাননা করলে তার বিচার দাবি করে মাঠ গরম করি। প্রকাশ্যে শ্লোগান দেই “একটা একটা “অমুক” ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর”। আবার ধর্ম অবমাননাকারী কাউকে এককভাবে বাগে পেলে পিটিয়ে আধমারা করি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী না যাওয়া পর্যন্ত পেটাতেই থাকি। ততক্ষণে মারা গেলে বালাই শ্যাষ!
কিন্তু ইসলাম তো তা বলে না। আর বলে না বলেই অমুসলিম দেশ ইসলামী নীতি আদর্শ, বিধি বিধান মেনে চলা দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে। কেনো করে তা নিয়ে আমরা কখনও ভেবে দেখিনা। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদেরকে সুধরাবার চেষ্টা করি না। কারণ আমরা নিজে নিজেই নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ধার্মিক মনে করি।
প্রশ্ন হলো, কোন মানদণ্ডে ওইসব অমুসলিম দেশ ইসলামী বিধান মেনে চলা শীর্ষ দেশ হিসেবে গণ্য হয়? গণ্য হয় এ কারণে, তাদের জীবনধারায় যে সব মানবিক গুণাবলী আছে, তারা যে সামাজিক শিষ্টাচার, আচার-আচরণ মেনে চলে তা কোরআনে নির্দেশিত আল্লাহর বিধানের সাথে মিলে যায়।
অথচ আমরা ব্যক্তি জীবনে ইসলামের আইন মেনে না চললেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বিষয়টি আমাদের দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ সহ ওয়াজ নসিহত করেন যারা তাদের গবেষণা করে দেখতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম







