আমরা রাতদিন ইহুদি, নাসারা, অমুক, তমুক বলে গালাগালি করি – ওয়াজের মাঠ গরম করি আর বলি মুসলিম ছাড়া কেউ বেহেশতে যাবে না! কিন্তু কোরআন বলছে ভিন্ন কথা।
পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারা আয়াত নং ৬২ এর মাধ্যমে আল্লাহ পরিষ্কার বলছেন; “যারা ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবিয়ান (সাবিয়ান বা সাবেইন বলতে অগ্নিপুজক বা অন্যান্য পুরাতন ধর্ম হতে পারে)-যে কেউ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে -তাদের সকলের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার রয়েছে।”
এ ব্যাপারে জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী এবং মুফতী তাকি ওসমানী কর্তৃক উক্ত আয়াতের ইংরেজি অনুবাদ ও তার বঙ্গানুবাদ তুলে ধরা হলো।
মওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী:
English
“Rest assured that whosoever from among the Muslims or the Jews or the Christians or the Sabaeans believes in Allah and the Last Day, and performs good deeds, he will have his reward with his Lord and he will have no cause for fear and grief.”-(2:62)
বঙ্গানুবাদ
“নিশ্চিন্ত থাকো যে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান বা সাবিয়ানদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ এবং শেষ দিবসে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং সৎকর্ম করবে, সে তার রবের কাছে তার পুরস্কার পাবে এবং তার কোনো ভয় বা দুঃখের কারণ থাকবে না।”-(২:৬২)
মুফতী তাকী ওসমানী:
English
“Surely, those who believed in Allah, and those who are Jews, and Christians, and Sabians, -whosoever believes in Allah and in the Last Day, and does good deeds – all such people will have their reward with their Lord, and there will be no reason for them to fear, nor shall they grieve.”-(2:62)
বঙ্গানুবাদ
“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এবং যারা ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবিয়ান-যে কেউ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে -তাদের সকলের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের ভয় করার কোনো কারণ থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।”-(২:৬২)
এছাড়াও সুরা মায়েদার ৬৯ নং আয়াতে ঠিক একই কথার পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে। বলা হয়েছেঃ
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে, আর সাবেয়ী ও নাসারাগণের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।“-(৫ঃ৬৯)
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিভাগের প্রফেসর হুসেইন আসকারি এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ইসলামি রীতি মেনে চলা দেশের তালিকার শীর্ষে ইসলামি কোনো দেশের নাম নেই। এমনকি তালিকার ৩৩ নম্বরে রয়েছে মালয়েশিয়া এবং কুয়েত রয়েছে ৪৮ এ। এ তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে আয়রল্যান্ড।
তালিকায় আয়ারল্যান্ড-এর পরে যথাক্রমে ডেনমার্ক, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও বেলজিয়াম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন ৬৪ নম্বরে এবং সৌদি আরব রয়েছে ১৩১ নম্বরে।
অন্যদিকে তথাকথিত ইসলামি দেশগুলোতে মুসলমানরা নামাজ আদায় করেন, রোজা রাখেন, কোরআন-হাদিস পড়েন, নারীরা পর্দা মেনে চলেন, দাড়ি রাখার সংখ্যা বেশি, ইসলামি পোষাক নিয়ে সচেতন; তবে সমাজে দুর্নীতি আর পেশাগত জীবনে অসদুপায় অবলম্বনের নজির চতুর্দিকে।
অতএব, এতে এই ধারণা স্পষ্ট হয় যে, মানুষ- সে যে কোনো ধর্মের হোক, যদি এক আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তাহলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করবেন।
জ্ঞানীরা দয়াকরে মন্তব্য করবেন আমি ঠিক বুঝেছি না ভুল বুঝেছি।
আরও পড়ুনঃ প্রাচীন ইনকা ধর্ম, মিশরীয় ধর্ম ও গ্রিক ধর্ম: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ







Leave a Reply