উৎসগত পার্থক্য
কুরআন মুসলমানদের কাছে আল্লাহর ওহি—এর উৎস ঐশী, ভাষা সংরক্ষিত, এবং মূল বার্তা সার্বজনীন।
অন্যদিকে ফতোয়া-ই-আলমগিরি হলো মানুষের রচিত একটি ফিকহি সংকলন, যেখানে হানাফি মাজহাবের বিভিন্ন আলেমের মতামত একত্র করা হয়েছে। এর উৎস হলো মানুষের ব্যাখ্যা, যুক্তি ও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতা।
এই মৌলিক পার্থক্য সত্ত্বেও বহু সমাজে ফতোয়া-ই-আলমগিরিকে কুরআনের সমপর্যায়ে বা তার “কার্যকর বিকল্প” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা একটি গুরুতর ধারণাগত বিভ্রান্তি।
আইন ও নৈতিকতার প্রশ্ন
কুরআন ন্যায়, দয়া, মানবিকতা ও নৈতিক দায়িত্বকে কেন্দ্র করে কথা বলে। অনেক ক্ষেত্রেই কুরআন নীতিগত নির্দেশনা দেয়, বিস্তারিত আইনি বিধান নয়।
ফতোয়া-ই-আলমগিরি সেই নীতিগুলোকে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোয় রূপ দিতে গিয়ে সময়ের প্রভাবাধীন সিদ্ধান্ত যুক্ত করেছে—যেমন দাসপ্রথা, জিজিয়া, নারী ও অমুসলিমদের সামাজিক অবস্থান সংক্রান্ত বিধান।
উল্লেখ্য, ফতোয়া-ই-আলমগিরিতে নিজ স্ত্রী-কন্যা সম্পর্কে এমন বিধান আছে যা বর্তমান সভ্য সমজে অকল্পনীয় এবং এখানে উদ্ধৃত করা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। দয়াকরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৩৯-৪০। বিবাহ অধ্যায়, মাসআলা নং ১২ পড়ে দেখুন।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এই সময়নির্ভর ফিকহি সিদ্ধান্তগুলোকে কুরআনের মতোই চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় ধরে নেওয়া হয়।
পরিবর্তনশীলতা বনাম স্থিরতা
কুরআন নিজেই মানুষকে চিন্তা করতে, বিবেক ব্যবহার করতে ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে উৎসাহ দেয়।
ফিকহ—এবং ফতোয়া-ই-আলমগিরি—স্বভাবতই পরিবর্তনশীল হওয়ার কথা, কারণ এগুলো মানুষের বোঝাপড়া ও বাস্তবতার ওপর দাঁড়ানো।
কিন্তু ইতিহাসে দেখা গেছে, ফতোয়া-ই-আলমগিরির মতো গ্রন্থকে “স্থির আইন” বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যা কুরআনের গতিশীল আত্মার সাথে সাংঘর্ষিক।
আরও পড়ুনঃ ফতোয়া-ই-আলমগিরি, মাদ্রাসা শিক্ষা ও সমকালীন রাষ্ট্রচিন্তা: একটি পর্যালোচনা






Leave a Reply