ভূমিকা
সাধারণত ইসলামের ভিত্তি হিসেবে পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলা হয়—কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত। যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম সমাজ এই পাঁচটি বিষয়কেই ইসলামের মূল পরিচয় হিসেবে মেনে আসছে। তবে বিভিন্ন ইসলামি চিন্তাবিদদের আলোচনা ও তথ্য তল্লাশি করে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে: কেবল এই পাঁচটি আনুষ্ঠানিক ইবাদতই কি ইসলামের পূর্ণতা, নাকি এর গভীরে আরও কোনো মহান উদ্দেশ্য নিহিত আছে?
ইসলামের ৫ টি স্তম্ভের কথা এসেছে হাদিসে। এর সরল অংক করলে আমাদের ধারণা, এর বাইরে আর আমাদের কিছুই করতে হবে না। এই ৫ টি কাজ করলেই আমরা বেহেশ্তে চলে যাবো। কিন্তু এই ৫ টি কাজ কিভাবে পালন করতে হবে সেটার বর্ণনা আছে পবিত্র কোরআনে।
আনুষ্ঠানিকতা বনাম নৈতিকতা
আমরা অনেক সময় নামাজ, রোজা বা হজের মতো বিষয়গুলোকে কেবল যান্ত্রিক পালনীয় কাজ হিসেবে দেখি। কিন্তু কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী, এই ইবাদতগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের চরিত্র সংশোধন এবং তাকে একজন ‘মুত্তাকি’ বা আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। যদি কারো ইবাদত তার আচরণে পরিবর্তন না আনে, তবে সেই ইবাদতের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
কোরআনের মূল দাবি: বিশ্বাস ও সৎকর্ম বা আমল-এ-সালেহ
পবিত্র কোরআন কেবল পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলে ক্ষান্ত হয়নি। বরং কোরআনের পাতায় পাতায় বিশ্বাস ও সৎকর্ম-এর ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় কেবল তার কপালে নামাজের চিহ্নে নয়, বরং তার সততা, মানুষের প্রতি দয়া এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতার মাঝে প্রকাশ পায়। ইসলামের এই সামাজিক ও নৈতিক দিকটি অনেক সময় আমরা এড়িয়ে যাই।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা
বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক মানুষ নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করছেন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে মিথ্যা, দুর্নীতি এবং অন্যায়ের প্রভাব প্রবল। ধর্মকে কেবল কিছু আচার-সর্বস্ব আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ করে ফেলায় আমরা ইসলামের মূল সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ইসলামের ভিত্তি হওয়া উচিত ছিল ন্যায়বিচার ও মানবতার কল্যাণ।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ হলো একটি ইমারতের কাঠামোর মতো। কিন্তু সেই ইমারতটিকে বাসযোগ্য ও সুন্দর করে তোলে মানুষের চারিত্রিক গুণাবলি এবং ন্যায়পরায়ণতা। কেবল বাহ্যিক ইবাদত নয়, বরং কোরআনের প্রকৃত নির্যাস—অর্থাৎ মানবসেবা, ন্যায়বিচার এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করাই হওয়া উচিত একজন মুসলিমের মূল লক্ষ্য।







Leave a Reply