১। নাগরিকত্ব বনাম ধর্মভিত্তিক পরিচয়
আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি হলো সমান অধিকার।
ফতোয়া-ই-আলমগিরির কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের ওপর—মুসলিম, জিম্মি, দাস ইত্যাদি।
এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক সংবিধান, নাগরিক সমতা ও আইনের চোখে সমানতার ধারণার সাথে সরাসরি সংঘর্ষে যায়।
২। মানবাধিকার প্রশ্ন
আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার একটি স্বীকৃত নৈতিক ও আইনি মানদণ্ড।
ফতোয়া-ই-আলমগিরিতে থাকা অনেক বিধান—বিশেষ করে দাসপ্রথা, নারীর সাক্ষ্য, শাস্তির ধরন—আজকের মানবাধিকার চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এগুলোকে “ইসলামের চূড়ান্ত আইন” হিসেবে প্রচার করলে ইসলাম নিজেই অকারণে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে পড়ে।
৩। রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক
ফতোয়া-ই-আলমগিরি ছিল একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত গ্রন্থ—এর লক্ষ্য ছিল শাসনকে সহজ করা।
আধুনিক রাষ্ট্রে ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা, আর আইন আসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে।
এই দুই কাঠামোর দর্শন এক নয়। ফলে ফতোয়া-ই-আলমগিরিকে সরাসরি আধুনিক রাষ্ট্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করলে সংকট অনিবার্য।
৪। আইন বনাম নৈতিকতা
আধুনিক আইন ন্যূনতম নৈতিক মান নিশ্চিত করতে চায়।
কুরআন মানুষকে সর্বোচ্চ নৈতিকতায় পৌঁছাতে আহ্বান করে।
ফতোয়া-ই-আলমগিরি এই দুইয়ের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক সমাধান ছিল—এটি চিরস্থায়ী নৈতিক মানদণ্ড নয়।
উপসংহার
ফতোয়া-ই-আলমগিরি ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কিন্তু এটি কুরআনের বিকল্প নয় এবং আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানও নয়।
এটি ছিল ১৭শ শতকের ভারতবর্ষের বাস্তবতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি ফিকহি-প্রশাসনিক প্রকল্প।
ইসলামকে সময়োপযোগী ও মানবিকভাবে বোঝার জন্য কুরআনের নৈতিক আত্মা, বিবেক ও যুক্তিবোধকে কেন্দ্রে আনতে হবে—ফতোয়া-ই-আলমগিরিকে ইতিহাসের দলিল হিসেবে সম্মান দিয়ে, কিন্তু অচল আইন হিসেবে নয়।
আরও পড়ুনঃ ফতোয়া-ই-আলমগিরি বনাম কুরআন: উৎস, কর্তৃত্ব ও সীমারেখা






Leave a Reply