সম্প্রতি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিরল ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে — একটি পোষা কুকুরের স্বাভাবিকভাবেই কাউকে চাটার (lick) ঘটনাই এক নারীর জীবন প্রায় সবটাই বদলে দিল।
একজন ৫২ বছর বয়সী মহিলা, যার নাম মানজিত সাংহা, খুব সাধারণ মনে হওয়া এক ঘটনায় আক্রান্ত হন। তার পোষা কুকুরটি তার শরীরের একটি ছোট ক্ষত বা আঁচড়ে চাটল, এবং সেই জায়গা থেকেই তার রক্তস্রোতে একটি ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে।
ডাক্তারদের মতে, এই ব্যাকটেরিয়াটি কুকুরের লালা থেকে তার শরীরে ঢুকে একটি ভয়াবহ সংক্রমণের কারণ হয় — যা সেপসিস (sepsis) নামে পরিচিত।
সেপসিস কী এবং এটি কীভাবে বিপজ্জনক?
সেপসিস হলো শরীরের একটি জটিল ও বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া, যেখানে আমাদের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার বদলে নিজের স্বস্থ শরীরের টিস্যু ও অঙ্গগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর ফলে দ্রুত:
(১) রক্তচাপ কমে যায়
(২) অঙ্গগুলোর রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়
(৩) শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি একেবারে বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যায়
এটা অসাধারণ দ্রুত ঘটে — ঘণ্টার মধ্যে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে নিয়ে যেতে পারে।
কী ঘটেছিলো মানজিতের ক্ষেত্রে?
মানজিত শুধু তার কুকুরকে আদর করছিলেন, খেলা করছিলেন — হঠাৎ করেই তার শরীরে অসাধারণ দ্রুত অবনতি শুরু হয়। কয়েকটি তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিলো:
(১) সে খুব দ্রুত অসুস্থ বোধ করলো
(২) সে অচেতন হয়ে পড়লো
(৩) তার শরীরের রক্তপ্রবাহে সেপসিস ছড়িয়ে পড়ে
(৪) ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার হার্ট অনেকবার থেমে গেলো
(চিকিৎসকরা জানিয়েছেন — কমপক্ষে ৬বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট)
(৫) শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এত খারাপ হয়ে যায় যে
➤ দুটি পায়ের নিচ থেকে ও দুটি হাতও কেটে ফেলতে হয়
(৬) তার টানা ৩২ সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর তিনি বাঁচেন এবং বাড়ি ফিরে আসেন।
কেন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি?
কুকুরের লালায় থাকা ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কুকুরের জন্য কোনো বিপদ সৃষ্টি করে না, কিন্তু মানুষের শরীরের রক্তস্রোতে প্রবেশ করলে তা ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া শুরু করতে পারে — যেমন: Capnocytophaga canimorsus নামক ব্যাকটেরিয়া, যা কুকুরের মুখে স্বাভাবিকভাবেই থাকে।
ব্যাকটেরিয়া একবার রক্তে ঢুকলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় ও দ্রুত সেপসিসের মতো অবস্থার সৃষ্টি করে।
কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
এই ঘটনা থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারি:
(১) পোষা প্রাণীকে ভালোবাসা ঠিক আছে, কিন্তু নিয়ম ও সতর্কতা মঙ্গলবারী থাকা জরুরি।
(২) খোলা ক্ষত বা আঁচড়ে প্রাণীর লালা লাগানো উচিত নয়।
(৩) যদি কোনো ক্ষত লালা দিয়ে ছোঁয়া হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত তা
(ক) সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা
(খ) প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
(গ) সংক্রমণের প্রথম লক্ষণগুলো (জ্বালো, ফোলা, লালচে ভাব) এড়ানো — তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
উপসংহার
হোক সেটা আমাদের প্রিয় পোষা প্রাণী বা ঘনিষ্ঠ অভ্যাস — আবেগে বা অভ্যেসে “চুমা” দেবার মতো ছোট ছোট আচরণ অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। জীবনের প্রতি সম্মান রেখে ভালোবাসা দিলে ভালো — কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকে কখনো অগণ্য করা উচিত নয়।
ভালোবাসা থাকুক,
তবে সতর্কতাও থাকুক।
সূত্রঃ The Economic Times







Leave a Reply