অস্বাভাবিক কোনোকিছুরই ফল ভালো হয় না। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক শাসন, কারচুপি ও একতরফাভাবে রাষ্ট্রপতি ও ক্ষণস্থায়ী সংসদ নির্বাচন ও তার পরিণতি নিয়ে পর্যালোচনাঃ
ভূমিকা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রটি দ্রুত সামরিক ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ ক্ষমতা দখলের শিকার হয়।
এর পরবর্তী দুই দশক মূলত সামরিক শাসন, অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি শাসন, ও কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে চলে।
নিচে সেই সময়ের অস্বাভাবিক শাসন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ক্ষণস্থায়ী সংসদ নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো—যেখানে গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতা রক্ষাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।
১৯৭৫-২০২৪ সালের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বিভ্রান্তি ও বিড়ম্বনার ক্রান্তিকালীন সময়সমূহ
খন্দকার মোশতাক আহমদ (আগস্ট–নভেম্বর ১৯৭৫)
অবস্থা: সরাসরি সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দখল।
ঘটনাবলী:
- বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক সামরিক বাহিনীর সহায়তায় রাষ্ট্রপতি হন, যা ছিল সম্পূর্ণ সংবিধানবহির্ভূত।
- তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে হত্যাকারীদের রক্ষা করেন।
- রাজনৈতিক দলসমূহ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা স্থগিত রাখা হয়।
মূল বিশ্লেষণ: মোশতাকের শাসন গণতান্ত্রিক বৈধতার বাইরে ছিল; তাঁর কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা জনসমর্থন ছিল না। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক বিচ্যুতি।
বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (নভেম্বর ১৯৭৫ – এপ্রিল ১৯৭৭)
অবস্থা: সামরিক হস্তক্ষেপে খন্দকার মোশতাককে অপসারণ করে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের সহায়তায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
ঘটনাবলী:
- সামরিক আইন অব্যাহত রাখেন।
- সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।
- নির্বাচন বা গণভোট কিছুই অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল অস্ত্রের মুখে সায়েমকে সরিয়ে জিয়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
- মূল বিশ্লেষণ: সায়েম ছিলেন মূলত সেনাশাসনের প্রশাসনিক আবরণ; তাঁর সময়কাল কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছাড়াই ক্ষমতার সামরিক পুনর্বিন্যাসের পর্যায়।
জিয়াউর রহমান (এপ্রিল ১৯৭৭ – মে ১৯৮১)
(ক) ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
প্রেক্ষাপট: সামরিক শাসক থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৈধতা অর্জনের প্রচেষ্টা। এর আগে ১৯৭৭ সালে যদিও একটি ভোটার বিহীন গনভোটের মাধ্যমে নিজেকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
বিরোধিতা ও কারচুপির অভিযোগ:
- সামরিক আইন বহাল রেখেই নির্বাচন আয়োজন।
- প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে জিয়ার নিয়ন্ত্রণে।
- প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।
- ফলাফল: জিয়া ৭৬% ভোটে নির্বাচিত বলে ঘোষণা।
- মূল বিশ্লেষণ: এটি ছিল সামরিক শাসনের রাজনৈতিক বৈধতা সৃষ্টির একটি নাটকীয় উদ্যোগ।
(খ) ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন
প্রেক্ষাপট: বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচন।
অভিযোগ: প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব, বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে সুবিধা।
ফলাফল: বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী।
মূল বিশ্লেষণ: নির্বাচন প্রক্রিয়া ফিরলেও এটি ছিল নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের সূচনা মাত্র।
বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী (মে – ডিসেম্বর ১৯৮২)
অবস্থা: ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার স্বল্পকালিন সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি হন। পরে তৎকালিন সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে বিচারপতি এ এফ এম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে বসান।
ঘটনাবলী:
- কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল অস্থিতিশীল ও সামরিক প্রভাবাধীন।
- মূল বিশ্লেষণ: আহসান উদ্দিন চৌধুরীর সময়টি ছিল সামরিক–রাজনৈতিক রূপান্তরের অন্তর্বর্তী পর্ব, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ক্ষমতা পুনর্গঠনের পথ তৈরি করেছিল।
- ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে এরশাদ নিজেই নিজেকে রাস্ট্রপতি ঘোষনা দেন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (১৯৮২ – ১৯৯০)
(ক) ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচন
১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের পর ১৯৮৫ সালে একটি গনভোটের মাধ্যমে এরশাদ তার বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন, যা অনেক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ১৯৮৬ সালে সংসদ ও রাস্ট্রপতি নির্বাচন দেন।
১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচন
অভিযোগ: প্রশাসনিক কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পূরণ, বিরোধী প্রার্থীদের হয়রানি।
ফলাফল: জাতীয় পার্টি জয়ী।
মূল বিশ্লেষণ: অংশগ্রহণমূলক দেখানোর আড়ালে এটি ছিল এককেন্দ্রিক নির্বাচন।
(খ) ১৯৮৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
অভিযোগ: নির্বাচনী কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণ এরশাদের নিয়ন্ত্রণে।
ফলাফল: এরশাদ ৮৪% ভোট পান বলে সরকারি ঘোষণা।
মূল বিশ্লেষণ: ইতিহাসে প্রহসনমূলক নির্বাচনের অন্যতম উদাহরণ।
(গ) ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচন
১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কৌশলগত কারণে অংশগ্রহণ করেছিল। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে নাই। আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করায় এরশাদ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হন। কিন্তু ১৯৮২-৮৬ পর্যন্ত তার অবৈধ কর্মকান্ডের বৈধতা দিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিলো। এদিকে আওয়ামীলীগ সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিএনপি ও অন্যান্য দলের সাথে যুগপৎ আন্দলন চালিয়ে যেতে থাকে। অপরদিকে ক্ষমতা হারালে আইনের আওতায় আসতে হতে পারে, এই আশংকায় ১৯৮৮ সালে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেন, যাতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি সহ সকল দল অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করেন এরশাদ।
প্রেক্ষাপট: বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন।
ফলাফল: জাতীয় পার্টি ২৫০ আসনে জয়ী।
মূল বিশ্লেষণ: এই সংসদ কার্যত এরশাদের রাজনৈতিক নাটকের প্রতীক, যা জনগণের প্রত্যাখ্যানের মুখে ১৯৯০ সালে পতনের পথ তৈরি করে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন
১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ এর নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করে। ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। বিএনপির একতরফা নির্বাচনে সংসদ স্থায়ী ছিল মাত্র ১২ দিন। আন্দোলনের মুখে তত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে ৩০ মার্চ সংসদ ভেঙে দেয়া হয়।
প্রেক্ষাপট: বিএনপি সরকারের অধীনে বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন।
অভিযোগ: ভোটার উপস্থিতি অত্যন্ত কম- মাত্র ২১%। প্রশাসনিক কারচুপি ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়।
ফলাফল: বিএনপি ২৭৮ আসন পায়
মূল বিশ্লেষণ: এই নির্বাচনই ছিল বাংলাদেশের শেষ প্রকাশ্য “একদলীয় প্রহসন”, যার ফলশ্রুতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। তত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবার পর ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ১৪৬ টি আসন লাভ করে এবং তৃতীয়পক্ষের সমর্থনে সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।
২০০৭ সালে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা ব্যর্থ
সকল রাজনৈতিক দলের দাবি উপেক্ষা করে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নবম সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও রাজনৈতিক সংঘাতের মুখে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সেই নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়।
২০১৪-২০২৪ সালের নির্বাচন বিশ্লেষণ
২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামীলীগ ২৩০ টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। নির্বাচনে জিতে আওয়ামীলীগ তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দেয়। উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার যে তত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ করেছিলো, তাতে শর্ত ছিলো, পরীক্ষামূলকভাবে পরপর তিনটি নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের পর সরকার ইচ্ছে করলে তা দীর্ঘায়িত করতে পারে নাও পারে।
২০০৭ সালে বিএনপি সরকারের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজুদ্দিন নিজেই তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে একতরফা নির্বাচন আয়োজন করতে চাইলে বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন। সেই নিরিখেই ২০০৮ সালে ভোটে জিতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের মূল ধারায় ফিরে যায়।
ফলস্বরূপ ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। জনসমর্থন থাকায় প্রতিকূলতা কাটিয়ে আওয়ামীলীগ তার মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন করে মাত্র ৭ টি আসন লাভ করে, ফলে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে এক সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। এবারেও সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হয় আওয়ামীলীগ তার মেয়াদ পূর্ণ করে। আসে ২০২৪ সালের নির্বাচন।
২০২৪ সালের নির্বাচন ও বর্তমান অবস্থা
একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষে ২০২৪ সালের ০৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নতুন নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় ভোট কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়ে। ৬২ টি আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হন।
আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং এর পরপরই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক ভাঙন ও জনঅসন্তোষ তীব্র হয়।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক একচেটিয়াত্ব, দুর্নীতি, দমননীতি ইত্যাদি কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। এরই সুযোগ নেয় পশ্চিমা মদদপুষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। দীর্ঘদিনের ক্ষমতাবঞ্ছিত দলগুলোর সহযোগীতায় ‘সুপরিকল্পিতভাবে’ পরিচালিত সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ০৫ আগষ্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয় এবং সন্ত্রাসী আক্রমণের আশংকায় তিনি সহ দলটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী দেশত্যাগে বাধ্য হন। সৃষ্টি হয় প্রশাসনিক শূণ্যতা। এরই ফলশ্রুতিতে শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
ক্ষমতা গ্রহণ করেই এই সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ও বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস দিলেও দেশে সহিংসতা আরো বেড়ে যায়। মব সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রশাসন, বিচার বিভাগ,পুলিশ বাহিনীতে ব্যপক রদবদলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দুর্বল করে ফেলে। সংবিধানের আওতায় শপথ নিয়ে সংবিধান পরিপন্থি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অবস্থান নেয়। অনধিকারভাবে সংবিধান সংস্কার সহ নানা সংস্কারের আশ্বাসের আড়ালে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে।
নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ ও এর অংগসংগঠনগুলোর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য করে তোলে। ফলে নির্বাচনের পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাস্তবে এখনও অনিশ্চিত। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলও নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে, ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এখনও অন্তর্বর্তী সরকারের হাতেই কেন্দ্রীভূত।
উপসংহার
বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে—অস্বাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা দখল বা নির্বাচন আয়োজন কখনোই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। ১৯৭৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি কারচুপি, গণভোট বা একতরফা নির্বাচনের শেষ পরিণতি ছিল রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বিভাজন।
বর্তমানে যদি আওয়ামী লীগ-বিহীন নতুন কোনো একতরফা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা হয়, তবে তার পরিণতিও আলাদা হবে না। জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতির বাইরে গঠিত কোনো ক্ষমতা কাঠামো টেকসই নয়—এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসের শিক্ষাঃ “অস্বাভাবিক কোনো কিছুরই ফল ভালো হয় না।”








Leave a Reply