—সূত্র: MIT, Nature Geoscience
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর এক দল ভূ-বিজ্ঞানী পৃথিবীর গভীরে এমন কিছু রহস্যময় স্তরের সন্ধান পেয়েছেন, যা সম্ভবত প্রাচীন এক গ্রহ Theia–এর অবশিষ্টাংশ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ও থেয়া নামের ওই গ্রহের সংঘর্ষেই চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল।
পৃথিবীর ভেতরের রহস্য
MIT-এর গবেষকরা উন্নত ভূকম্পন বিশ্লেষণ (seismic tomography) ব্যবহার করে দেখেছেন, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে এমন ঘন শিলাস্তর রয়েছে, যা পৃথিবীর বাকি অংশের তুলনায় রসায়ন ও ঘনত্বে ভিন্ন।
তাঁরা ধারণা করছেন, এই অঞ্চলগুলো পৃথিবীর জন্মলগ্নে সংঘটিত এক ভয়াবহ সংঘর্ষের পর গভীরে চাপা পড়ে থাকা Theia–এর অংশবিশেষ হতে পারে।
MIT-এর ভূ-বিজ্ঞানী ড. স্যামুয়েল জ্যাকবস বলেন—
“আমরা হয়তো পৃথিবীর বুকের গভীরে এমন এক নিদর্শন পেয়েছি, যা সময়ের সীমানা ছুঁয়ে যায়। এটি হারিয়ে যাওয়া এক প্রাচীন পৃথিবীর ছায়া।”
চাঁদের জন্ম রহস্যের নতুন সূত্র
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করে আসছেন, পৃথিবীর সঙ্গে থেয়ার সংঘর্ষের ফলেই চাঁদের সৃষ্টি হয়। নতুন এই গবেষণা সেই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
গবেষকরা বলছেন, এই অবশিষ্টাংশ প্রমাণ করে যে সংঘর্ষের পর থেয়ার একটি বড় অংশ পৃথিবীর গভীরে শোষিত হয়ে গিয়েছিল—আর সেটিই আজও টিকে আছে আমাদের গ্রহের অভ্যন্তরে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
MIT-এর মতে, এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীর ইতিহাসই নয়, বরং গ্রহীয় গঠনের বৈজ্ঞানিক মডেল পুনর্গঠনের জন্যও এক বিশাল পদক্ষেপ।
আগামী বছরগুলোতে আরও উন্নত ভূকম্পন ডেটা ও সুপারকম্পিউটিং ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য আরও উন্মোচন করতে চান।








Leave a Reply