অপরিচিত ধর্মের আলোকে – ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহ (ইসমাইলি শিয়া)

ইসমাইলি শিয়া: ইতিহাস ও বৈশিষ্ট

ইসলামের
ইতিহাসে ইসমাইলি শিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ, যা মূলত শিয়া ইসলামের
শাখা থেকে উদ্ভূত। শিয়া মুসলমানরা হযরত আলি (রাঃ) ও তাঁর বংশধরদের নেতৃত্বকে বৈধ
মনে করেন। তবে ইমামদের উত্তরাধিকারের প্রশ্নে বিভিন্ন মতভেদ তৈরি হয়।

 

ইসমাইলি
শিয়ারা বিশ্বাস করেন, হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রাঃ)-এর পর তাঁর বড় ছেলে ইসমাইল
ইবনে জাফরকেই প্রকৃত ইমাম হিসেবে মানতে হবে। যদিও ইসমাইল অল্প বয়সেই মৃত্যুবরণ
করেন, তবুও তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, ইমামত তাঁর বংশধরদের মধ্য দিয়েই চলবে। এখান
থেকেই ইসমাইলি শিয়া মতবাদের সূত্রপাত।

 

মূল
বৈশিষ্ট্য:

(১) ইসমাইলিরা সাধারণত আধ্যাত্মিকতা, গুপ্ত জ্ঞান ও দর্শনের
ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

(২) ইতিহাসে তারা একসময় রাজনৈতিকভাবেও শক্তিশালী ছিল। মিশরের
ফাতেমীয় খিলাফত (৯০৯–১১৭১ খ্রিঃ) ছিল একটি বিশিষ্ট ইসমাইলি শিয়া সাম্রাজ্য।

(৩) তাদের মধ্যে বিভিন্ন শাখা গড়ে ওঠে, যেমন নিযারী ও
মুস্তাআলী।

(৪) সমসাময়িক সময়ে আগা খান নিযারী ইসমাইলি শিয়াদের
আধ্যাত্মিক নেতা।

 

আজকের
দিনে ইসমাইলিরা ছড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের
বিভিন্ন অঞ্চলে। সংখ্যায় তারা অল্প হলেও নিজেদের একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও
সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রেখেছে।

 

আগের পর্বঃ  নুসাইরি বা আলাওয়ি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top