গণভোট-২০২৬: ভোটের হিসাবে গড়মিল

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যদিও এই গণভোট করার কোনো আইনগত ভিত্তি নাই, তবুও একটু আলোচনা করি। নির্বাচন কমিশন প্রথম যখন গণভোটের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করে তাতে দেখানো হয়ঃ মোট প্রাপ্ত ভোট = ৭,০৬,৪০,০৫৬ এবং ভোট প্রয়োগের শতকরা হার দেখানো হয় ৬০.২৬%। ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে গণভোটের গেজেট প্রকাশিত হলে দেখা যায় অন্য হিসাব। তাতে দেখানো হয়েছেঃ মোট […]

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যদিও এই গণভোট করার কোনো আইনগত ভিত্তি নাই, তবুও একটু আলোচনা করি।

নির্বাচন কমিশন প্রথম যখন গণভোটের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করে তাতে দেখানো হয়ঃ

  1. হ্যাঁ ভোট পড়েছে – ৪,৮০,৭৪,৪২৯ টি
  2. না ভোট পড়েছে – ২,২৫,৬৫,৬২৭ টি

মোট প্রাপ্ত ভোট = ৭,০৬,৪০,০৫৬ এবং ভোট প্রয়োগের শতকরা হার দেখানো হয় ৬০.২৬%।

১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে গণভোটের গেজেট প্রকাশিত হলে দেখা যায় অন্য হিসাব। তাতে দেখানো হয়েছেঃ

  1. হ্যাঁ ভোট পড়েছে – ৪,৮২,০০,৬৬০ টি (আগে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে ১২৬২৩১ বেশি)
  2. না ভোট পড়েছে  – ২,২০,৭১,৭২৬ টি (আগে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে প্রায় ৫ লাখ কম)

মোট প্রাপ্ত ভোট = ৭,০২,৭২,৩৮৬ টি (আগে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে ১২৬২৩১ বেশি)।

এবার আসি শতকরা হিসাবের কথায়

লক্ষ্য করার বিষয় হলো নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২,৭৬,৯৫,১৮৩ জন, যার শতকরা ৬০.২৬ ভাগের সংখ্যা হয় ৭,৬৯,৪৯,১১৭। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভোট কাস্টিং-এর হিসাবে তা থেকে ৬৬,৭৬,৭৩১ টি ভোট কম দেখিয়েছে। তাহলে এই ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩১ জন ভোটার গেলো কোথায়?

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে যা জানা গেছে তাতে বেশিরভাগ ভোটার অর্থাৎ বিএনপি সহ আওয়ামীলীগের যেসব ভোটার সামাজিক নিরাপত্তার খাতিরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তারা সবাই গণভোটে “না” ভোট দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের কোনো ধারা নেই। অন্যদিকে সংসদ বিদ্যমান না থাকলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির যে ক্ষমতা সংবিধানে আছে তাতে সংবিধানের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক বা সংবিধান পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতির জারি করার আইনগত এখতিয়ার নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে থাকা বা অধিবেশন না চলাকালীন জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যার ক্ষমতা সংসদের আইনের মতোই। এটি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জারি করা হয় এবং নতুন সংসদ বসার পর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, নতুবা ৩০ দিন পর তা বাতিল বলে গণ্য হয়।

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতার মূল দিকগুলো:

  1. ভিত্তি: সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ।
  2. সময়: যখন জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলে না বা সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।
  3. শর্ত: জরুরি পরিস্থিতি বা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন থাকলে।
  4. পরামর্শ: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়।
  5. কার্যকারিতা: সংসদের আইনের মতোই সমান ক্ষমতা সম্পন্ন।
  6. মেয়াদ: নতুন সংসদ বসার ৩০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
  7. প্রত্যাহার: রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় অধ্যাদেশটি প্রত্যাহার করতে পারেন। 

তবে, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে এমন কোনো বিধান করা যাবে না, যা সংবিধানের অধীনে সংসদ করতে পারে না। 

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন নিষেধাজ্ঞা ও হাসিনার নির্বাসন: আওয়ামী লীগ কি টিকে থাকতে পারবে?

3 thoughts on “গণভোট-২০২৬: ভোটের হিসাবে গড়মিল”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top