মরমন ধর্ম (Mormonism / Latter-day Saints)
মরমন বা “Church of Jesus Christ of Latter-day Saints (LDS)” হলো খ্রিস্টধর্মের একটি স্বতন্ত্র শাখা, যা ১৯শ শতকে আমেরিকায় জন্ম নেয়। ১৮৩০ সালে জোসেফ স্মিথ (Joseph Smith) নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এই ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি ঈশ্বরের ফেরেশতার কাছ থেকে Book of Mormon নামের এক পবিত্র গ্রন্থ লাভ করেন। এই গ্রন্থ বাইবেলের পাশাপাশি মরমনদের ধর্মীয় ভিত্তি।
মূল বিশ্বাস
- মরমনরা নিজেদেরকে প্রকৃত খ্রিস্টান মনে করেন এবং বাইবেলকে মানেন, তবে সাথে Book of Mormon, Doctrine and Covenants, Pearl of Great Price—এই অতিরিক্ত গ্রন্থগুলোও ব্যবহার করেন।
- তাঁদের মতে, যিশু খ্রিস্ট (আঃ) আমেরিকা মহাদেশেও এসেছিলেন এবং সেখানকার লোকদের শিক্ষা দিয়েছিলেন।
- পরিবার, বিবাহ, দানশীলতা ও সমাজসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- মৃত পূর্বপুরুষদের জন্য বাপ্তিস্ম (baptism for the dead) একটি অনন্য আচার।
সম্প্রসারণ ও উপস্থিতি
- LDS চার্চের সদর দপ্তর সাল্ট লেক সিটি, উটাহ (Utah, USA)–তে।
- বর্তমানে মরমন ধর্মের প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ (১৭ মিলিয়ন) অনুসারী আছে, যারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন।
- শুধু আমেরিকা নয়, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়াতেও মরমনদের উপস্থিতি আছে।
বৈশিষ্ট্য
- মরমনরা নিজেদের “শেষ যুগের সাধু” (Latter-day Saints) হিসেবে পরিচয় দেন।
- তারা প্রচার কাজে (Missionary work) খুব সক্রিয়—প্রায়শই তরুণ-তরুণীরা সাদা জামা-প্যান্ট পরে দরজায় দরজায় গিয়ে মানুষকে ধর্ম সম্পর্কে জানায়।
- তাদের উপাসনালয়কে “মন্দির” (Temple) বলা হয়, যেখানে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইব্রাহিমীয় ধর্মের সাথে সম্পর্ক
মরমনরা খ্রিস্টধর্মের শাখা হওয়ায় তারা সরাসরি ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহের অংশ। তবে বাইবেলের বাইরেও নতুন গ্রন্থ গ্রহণ করায় অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রায়ই তাদেরকে মূলধারার বাইরে রাখে।
সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রভাব
মরমন সম্প্রদায় বিশেষভাবে প্রভাবশালী আমেরিকার উটাহ রাজ্যে, যেখানে তাদের জনসংখ্যা সর্বাধিক। পরিবারপ্রধানতা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মিশনারি কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে প্রভাব রাখছে।
পূর্বের পর্বঃ ইয়াজিদি ধর্ম








Leave a Reply