![]() |
| প্রতীকী ছবি |
অপরিচিত ধর্মের আলোকে | পর্ব ১: মান্দাই ধর্ম
পৃথিবীতে অসংখ্য ধর্ম আছে যা আমদের
অনেকেই জানিনা। প্রধান কয়েকটি ধর্ম যেমন ইসলাম, ইহুদি, খৃষ্টধর্ম,
হিন্দুত্ববা্দ, বৌদ্ধধর্ম ইত্যাদি মুষ্টিমেয় কয়েকটি ধর্ম আমাদের আলোচনায় থাকে।
পরিসংখ্যান মতে পৃথিবীতে ধর্মের
সংখ্যা ৪,১০০। এছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন ধারা মিলিয়ে এর সংখ্যা হবে প্রায় ১০ হাজার। এই
সিরিজে কিছু অপরিচিত ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই শুরু করছি ইব্রাহিমীয় ধর্ম সম্পর্কে।
ইব্রাহিমীয় ধর্মের মূল ৩ টি ধর্ম যথা; ইহুদি, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আমরা
জানি। এর বাইরেও আরো কিছু ধর্ম আছে তারাও মূলতঃ হযরত ইব্রাহীম(আঃ) এর অনুসারী। আজ
এই পর্বে লিখবো “মান্দাই ধর্ম” সম্পর্কে।
মান্দাই ধর্ম
১। উৎপত্তি ও ইতিহাস
মান্দাই
ধর্ম (Mandaeism) একটি প্রাচীন গ্নোস্টিক ধর্ম, যার
অনুসারীদের বলা হয় মান্দিয়ান (Mandaeans)। এ ধর্মের উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের
মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ বলেন এর শেকড় প্রাচীন বাবিল (Mesopotamia)-এ। আবার অনেকে মনে
করেন এটি খ্রিষ্টপূর্ব যুগের ইহুদি বা ইব্রাহীমীয় ধর্মধারার একটি শাখা।
ধর্মীয় কাহিনী অনুযায়ী, মান্দাইরা নিজেদের নবী হিসেবে আদম, শেঠ, নূহ ও ইয়াহইয়া
(জন দ্য ব্যাপটিস্ট)-কে মান্য করেন। বিশেষভাবে তারা ইয়াহইয়াকে (জন দ্য
ব্যাপটিস্ট) সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মনে করে।
২। ধর্মগ্রন্থ ও
বিশ্বাস
মান্দাই
ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো গিনজা রাব্বা (Ginza Rba), যা “মহাগ্রন্থ”
হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কলুস্তা ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানের বই আছে।
মূল বিশ্বাসগুলো হলো:
- বিশ্বে দুটি শক্তি বিদ্যমান – আলো
(সত্য, ঈশ্বরীয় শক্তি) ও অন্ধকার (অশুভ শক্তি)। - মানুষের আত্মা আসলে আলোর জগৎ
থেকে এসেছে, কিন্তু পৃথিবীতে অন্ধকারের প্রভাবে বন্দী হয়ে আছে। - মানুষের জীবনের লক্ষ্য হলো
আত্মাকে শুদ্ধ করে আলোর জগতে ফিরে যাওয়া। - সত্য, সৎকর্ম ও নিয়মিত ধর্মীয়
স্নান (বাপ্তিস্ম) এর মাধ্যমে মুক্তি অর্জন সম্ভব।
৩। উপাসনা ও ধর্মীয়
প্রথা
মান্দাই
ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো বাপ্তিস্ম (মাসবুতা)। তারা প্রায়ই
প্রবাহমান পানিতে (বিশেষত নদীতে) ডুব দিয়ে আত্মাকে শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন
করে।
তাদের ধর্মীয় নেতা বা পুরোহিতকে বলা হয় তর্মিদা (Tarmida)।
তারা আগুন বা মূর্তি পূজা করে না। উপাসনায় পানি, আলো এবং সত্যের প্রতীক বিশেষভাবে
গুরুত্ব পায়।
৪। আধুনিক অবস্থা
আজকের
দিনে মান্দাই সম্প্রদায় খুবই ক্ষুদ্র। প্রধানত ইরাক ও ইরানের
দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বসবাস ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে
তারা ব্যাপকভাবে সিরিয়া, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাতে
ছড়িয়ে পড়েছে। মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৬০–৭০ হাজারের বেশি নয়।
এ কারণে ইউনেস্কো ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদেরকে সংখ্যালঘু বিপন্ন
ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
৫। প্রভাব ও
উত্তরাধিকার
মান্দাই
ধর্মকে অনেক গবেষক ইব্রাহীমীয় ধর্মসমূহের বাইরে এক বিশেষ গ্নোস্টিক শাখা হিসেবে
চিহ্নিত করেন। তাদের ধর্মে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও জরথুস্ত্রী প্রভাবের মিশ্রণ
দেখা যায়।
জন দ্য ব্যাপটিস্টকে (ইয়াহইয়া নবী) সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে মান্য করার কারণে
খ্রিষ্টান ও ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে মান্দাই ধর্মের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক যোগসূত্র
রয়েছে।









Leave a Reply