![]() |
| প্রতীকী ছবি |
‘অপরিচিত ধর্মের আলোকে’ সিরিজের এই পর্বে আমরা আলোচনা করবো ‘বাহাই’
ধর্ম সম্বন্ধে। এর উৎপত্তি, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, আধুনিক অবস্থা ও প্রভাব। ইতিহাস
ও ধর্মতত্ত্বে আগ্রহীদের জন্য একটি তথ্যবহুল বিশ্লেষণ।’
বাহাই
ধর্ম: উৎপত্তি ও ইতিহাস
বাহাই
ধর্মের সূচনা উনবিংশ শতাব্দীর ইরানে। ১৮৪৪ সালে প্রথমে সাইয়্যেদ আলী মুহাম্মদ
শিরাজী নিজেকে “বাব” (দরজা) হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি এমন একজন মহাপুরুষের
আগমনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন যিনি মানবতার জন্য নতুন পথ নির্দেশ করবেন। সেই মহাপুরুষ
হিসেবে ১৮৬৩ সালে হাজী মির্জা হুসেইন আলী নূরী (১৮১৭–১৮৯২) বা বাহাউল্লাহ্
নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত দূত হিসেবে ঘোষণা করেন। এখান থেকেই বাহাই ধর্মের সূচনা।
ধর্মগ্রন্থ ও বিশ্বাস
বাহাই
ধর্মের প্রধান গ্রন্থ হলো কিতাব-ই-আকদাস। এছাড়াও বাহাউল্লাহ্ ও পরবর্তী
নেতাদের নানা রচনা বাহাই সাহিত্য হিসেবে সমাদৃত।
তাদের মূল বিশ্বাসগুলো হলো:
(১) সমগ্র মানবজাতি এক
পরিবার, সবার ঈশ্বর একই।
(২) ধর্মের বিকাশ ধারাবাহিক—ইবরাহিম, মূসা, যিশু, মুহাম্মদ
(সা.), এবং বাহাউল্লাহ্ একই ধারার নবী।
(৩)পুরুষ-নারীর সমান অধিকার।
(৪) বিশ্বজনীন শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, ন্যায়ভিত্তিক একক
বৈশ্বিক সমাজ গঠন।
(৫) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ধর্মভেদ—সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানব ঐক্য।
উপাসনা ও ধর্মীয় প্রথা
(১) বাহাইরা দিনে তিনবার নামাজ আদায় করে, যা ব্যক্তিগতভাবে
সম্পন্ন করা হয়।
(২) তাদের জন্য উপবাসের একটি মাস রয়েছে (১৯
দিনব্যাপী—ফেব্রুয়ারি-মার্চে)।
(৩) কোনো স্থায়ী পুরোহিত নেই, তবে প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।
(৪) নববর্ষ বা নওরোজ বাহাইদের অন্যতম প্রধান উৎসব।
বর্তমান অবস্থা
আজকের
দিনে বিশ্বের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার বাহাই ধর্মের অনুসারী আছে। বাহাইরা ২০০টিরও
বেশি দেশে বিস্তৃত। সবচেয়ে বেশি বাহাই আছে ভারত, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও
লাতিন আমেরিকায়।
ইরানে বাহাইরা আজও নিপীড়নের শিকার হয়, কারণ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র তাদের বৈধ ধর্ম
হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
প্রভাব ও উত্তরাধিকার
বাহাই
ধর্ম বিশ্ব ঐক্য, নারী-পুরুষ সমতা ও মানবতাবাদী আদর্শ প্রচার করে চলেছে। অনেক
গবেষকের মতে, বাহাই ধর্ম হলো আধুনিক যুগের একটি ইব্রাহিমীয় ধর্ম, যা
প্রাচীন ধর্মগুলোর মৌলিক শিক্ষা নতুনভাবে মানবসমাজে প্রয়োগের চেষ্টা করছে।









Leave a Reply