খ্রিষ্টধর্মের তিনটি প্রধান ধারার একটি হলো প্রোটেস্ট্যান্ট (Protestantism)। ষোড়শ শতাব্দীতে মার্টিন লুথার (Martin Luther)–এর নেতৃত্বে ইউরোপে যে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়, সেটিই প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের জন্ম দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল—রোমান ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও বাইবেল-বহির্ভূত আচার-বিধির প্রতিবাদ।
উৎপত্তি ও মূলনীতি
প্রোটেস্ট্যান্টরা বিশ্বাস করে যে—
- মুক্তি শুধুমাত্র বিশ্বাসের মাধ্যমে (Sola Fide)
- ধর্মীয় সত্য কেবল বাইবেল থেকেই আসে (Sola Scriptura)
- ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে কোনো মধ্যস্থ প্রয়োজন নেই (Priesthood of All Believers)
অর্থাৎ, ঈশ্বরের সঙ্গে প্রত্যেক বিশ্বাসীর সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে; পোপ বা পুরোহিত অপরিহার্য নয়।
প্রধান শাখাসমূহ
প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম নিজেই অনেকগুলো শাখায় বিভক্ত, যেমন—
- লুথেরান (Lutheran): মার্টিন লুথারের শিক্ষানুসারী; জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় প্রভাবশালী।
- ক্যালভিনিস্ট/রিফর্মড (Calvinist/Reformed): জন ক্যালভিনের অনুসারী; সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে জনপ্রিয়।
- অ্যাংলিকান (Anglican): ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মধ্যপন্থী প্রোটেস্ট্যান্ট ধারা।
- ব্যাপটিস্ট, মেথডিস্ট, প্রেসবাইটেরিয়ান, পেন্টেকস্টাল ইত্যাদি শতাধিক সম্প্রদায় রয়েছে।
ধর্মাচার ও উপাসনা
প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চে ধর্মাচারের সংখ্যা সাধারণত দুইটি—
- বাপ্টিসম (Baptism)
- পবিত্র ভোজ বা ইউক্যারিস্ট (Lord’s Supper)
উপাসনা সাধারণত সরল, সংগীতনির্ভর ও উপদেশকেন্দ্রিক। বাইবেল পাঠ, সমবেত প্রার্থনা ও স্তোত্রগানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চার্চ কাঠামো
প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চগুলোতে কেন্দ্রীয় পোপতন্ত্র নেই। প্রতিটি সম্প্রদায় নিজস্বভাবে পরিচালিত হয়—কোথাও বিশপ নেতৃত্ব দেন, আবার কোথাও নির্বাচিত পাদ্রী বা প্রবীণদের পরিষদ (Elders’ Council) কর্তৃত্বে থাকে।
সমাজে প্রভাব
প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার ইউরোপে শিক্ষা, বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আধুনিক পাশ্চাত্য সমাজের নৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো অনেকাংশে এই ধর্মীয় পুনর্জাগরণের ফল।
উপসংহার
প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাচার মূলত বিশ্বাসের সরলতা, ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং ঈশ্বরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রতীক। আজও এটি বিশ্বের প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মানুষের বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।








Leave a Reply