আজকের নয়াদিল্লি ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হলেও ব্রিটিশ শাসনামলের শুরুতে ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা। তবে ঠিক ১১৪ বছর আগে, ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার হঠাৎ করেই ঘোষণা দেয়—ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন ছিল না; এর পেছনে ছিল গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা, কৌশলগত হিসাব এবং ঐতিহাসিক প্রতীকী ভাবনা।
কলকাতার রাজনৈতিক অস্থিরতা
বিশ শতকের শুরুতে কলকাতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)–এর প্রতিবাদ, স্বদেশি আন্দোলন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ব্রিটিশ নথিপত্র অনুযায়ী, কলকাতাকে রাজধানী হিসেবে ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল।
দিল্লির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে ভারত শাসনের প্রতীক ছিল। মুঘলসহ বহু সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে দিল্লির ঐতিহাসিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক।
ব্রিটিশ শাসকরা দিল্লিকে রাজধানী করে নিজেদেরকে আগের শাসকদের উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল—যা শাসনের বৈধতা জোরদার করত।
কৌশলগত ও ভৌগোলিক সুবিধা
কলকাতা ছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। বিপরীতে দিল্লি ছিল উত্তর ও মধ্য ভারতের সংযোগস্থলে।
বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল ও পাঞ্জাবের দিকে নজরদারির জন্য দিল্লিকে অনেক বেশি উপযোগী মনে করেছিল ব্রিটিশ সরকার।
বঙ্গভঙ্গ বাতিল ও রাজনৈতিক ভারসাম্য
১৯১১ সালের একই ঘোষণায় ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বাতিলের সিদ্ধান্তও জানায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানী স্থানান্তর ও বঙ্গভঙ্গ বাতিল ছিল একে অপরের সঙ্গে যুক্ত কৌশল—যার লক্ষ্য ছিল জনরোষ প্রশমন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
দিল্লি দরবার ও রাজকীয় ঘোষণা
১৯১১ সালের দিল্লি দরবারে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ স্বয়ং রাজধানী পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি ও কর্তৃত্ব প্রদর্শনের একটি প্রতীকী মুহূর্ত।
উপসংহার
কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর ছিল ব্রিটিশ শাসনের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত.। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে নয়াদিল্লিকে আধুনিক ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত করে।








Leave a Reply to AI Logo Generator Cancel reply