ফারিসি ও সাদুসি — প্রাচীন ইহুদি ধর্মের দুই প্রভাবশালী শাখা
ইহুদি ধর্মের ইতিহাসে ফারিসি (Pharisees) ও সাদুসি (Sadducees) ছিল দুই প্রভাবশালী সম্প্রদায়, যারা খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে যিশু খ্রিস্টের সময় পর্যন্ত ইহুদিদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ফারিসি সম্প্রদায়
- “Pharisee” শব্দটির অর্থ “বিচ্ছিন্ন” বা “পৃথক”। তারা ধর্মীয় আইন, আচার ও রীতিনীতির কঠোর অনুসারী ছিল।
- ফারিসিরা বিশ্বাস করত, তওরাত (Torah) ছাড়াও ঈশ্বর নবীদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে আরও অনেক শিক্ষা দিয়েছেন, যাকে পরে তালমুদ আকারে সংরক্ষণ করা হয়।
- তারা মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্ব, ফেরেশতা, পুনরুত্থান এবং ঈশ্বরের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করত।
- ফারিসিদের মধ্য থেকেই পরবর্তী সময়ে রাব্বিনিক জুডেইজম (Rabbinic Judaism) বিকাশ লাভ করে, যা আজকের মূলধারার ইহুদি ধর্ম।
সাদুসি সম্প্রদায়
- “Sadducee” নামটি এসেছে সম্ভবত যেরুজালেমের যাজক জাদোক (Zadok)–এর নাম থেকে।
- সাদুসিরা কেবলমাত্র লিখিত তওরাতকেই ধর্মীয় সত্য হিসেবে স্বীকার করত; মৌখিক আইন বা তালমুদ তারা মানত না।
- তারা ফেরেশতা, আত্মা বা মৃত্যুর পর জীবনের ধারণা অস্বীকার করত।
- এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা সাধারণত ধনী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং যেরুজালেমের মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিল।
- খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালে রোমানদের হাতে মন্দির ধ্বংসের পর সাদুসিদের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
তুলনামূলক পার্থক্য
| বিষয় | ফারিসি | সাদুসি |
| ধর্মগ্রন্থ | লিখিত ও মৌখিক তওরাত | শুধু লিখিত তওরাত |
| পরকাল ও আত্মা | বিশ্বাস করে | বিশ্বাস করে না |
| সামাজিক অবস্থান | মধ্যবিত্ত, শিক্ষক, পণ্ডিত | অভিজাত ও যাজক শ্রেণি |
| ঐতিহ্য | তালমুদ-ভিত্তিক | মন্দিরকেন্দ্রিক |
| পরিণতি | বর্তমান ইহুদি ধর্মের ধারক | বিলুপ্ত |
ধর্মীয় প্রভাব
ফারিসিরা পরবর্তী যুগে ইহুদি ধর্মের মুখ্য ধারায় পরিণত হয়, যেখানে সাদুসিদের কঠোর আচারভিত্তিক বিশ্বাস ইতিহাসে মিলিয়ে যায়। দুই সম্প্রদায়ের এই মতবিরোধ ইহুদি ধর্মে চিন্তার স্বাধীনতা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছিল।
উপসংহার
আজকের ইহুদি ধর্ম (Judaism) মূলত ফারিসি ধারার উত্তরাধিকার বহন করে—যেখানে তালমুদ, নৈতিক শিক্ষা ও সমাজভিত্তিক উপাসনা প্রধান। অন্যদিকে সাদুসি সম্প্রদায়ের প্রভাব কেবল ইতিহাস ও গ্রন্থসমূহে সীমাবদ্ধ।
দুই দলের মতবিরোধই ইহুদি ধর্মকে একটি গতিশীল ধর্মে রূপ দিয়েছিল, যেখানে বিতর্কই ছিল বিশ্বাসের বিকাশের প্রধান অনুঘটক।








Leave a Reply