দীর্ঘ আন্দোলন ও সংঘাতের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হবার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নতুন প্রজন্ম বা Gen-Z। দীর্ঘদিনের দুই-দলীয় প্রভাবের বাইরে এসে তারা এখন ক্ষমতার কাঠামোতে জায়গা খুঁজছে—তবে পথটা সহজ নয়।
গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক মাধ্যম ও সড়কে গড়ে ওঠা তরুণদের নেতৃত্ব আন্দোলনের মুখ হিসেবে আলোচনায় ছিল। বর্তমান পর্যায়ে তারা সেই আন্দোলনকে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, উৎসাহ থাকলেও এই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এখনো দুর্বল এবং নেতৃত্ব এখনো তরল।
যুবশক্তির উত্থান
তরুণদের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ বিশ্লেষকরা তুলে ধরেন।
প্রধান দুটি হলো—পরিবর্তনের দাবি এবং প্রচলিত নেতৃত্বের প্রতি হতাশা।
সোশ্যাল মিডিয়া তাদের সংগঠন গঠনের প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে আন্দোলনের ডাক, পোস্টার ও বিবৃতি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে মাঠের রাজনীতিতে সেই গতি ধরে রাখা এখন তাদের মূল পরীক্ষা।
চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট
ভোট এবং বাস্তব রাজনীতিতে সংগঠিত শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা এই মুহূর্তে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো বহু বছর ধরে সংগঠন, অর্থায়ন ও নেতৃত্বের ধারা বজায় রেখেছে। নতুন প্রজন্মকে সেই পুরনো কাঠামোর পাশ কাটিয়ে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থায়ী কমান্ড প্রয়োজন হবে।
তাছাড়া তরুণদের ভেতরে মতপার্থক্য ও বিভাজনও দেখা যাচ্ছে। কেউ সংস্কারপন্থী, কেউ আবার রক্ষণশীল মনোভাবের, যা ভবিষ্যতে অভিন্ন নীতি তৈরি কঠিন করে তুলতে পারে। একাধিক পর্যবেক্ষক বলছেন—সড়ক থেকে সংগঠনে যেতে গেলে নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ ফরম্যাটে দাঁড় করানোই হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।
ভবিষ্যৎ কোথায়
তরুণ নেতৃত্ব রাজনীতিতে স্থায়ী শক্তি হয়ে উঠতে চাইলে তাদের সামনে কয়েকটি শর্ত রয়েছে—
- সংগঠিত দল ও নেতৃত্ব কাঠামো
- নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা
- নীতি-ঘোষণা, রোডম্যাপ ও জনগণের আস্থার প্রমাণ
- অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সমাধান
এই শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের হাতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যথায় এটি আন্দোলনের উচ্ছ্বাসেই সীমিত থাকার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্রঃ রয়টারের প্রতিবেদন অবলম্বনে








Leave a Reply to সত্যবাণী Cancel reply