বাংলাদেশের রাজনীতিতে অচলাবস্থা: নির্বাচনী বর্জনের হুঁশিয়ারি ও প্রতিবাদে নিহতদের জন্য ক্ষমা চাওয়ায় শেখ হাসিনার অস্বীকৃতি
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সম্প্রতি দুটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। একদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, তিনি তার দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে গণবর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন; অন্যদিকে The Independent জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংসতায় নিহতদের জন্য তিনি ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হলে, সেই নির্বাচন কখনোই বৈধতা পাবে না। বাংলাদেশের মানুষ এমন প্রহসনে অংশ নেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জনগণের জন্য লড়েছি, অপরাধীদের কাছে মাথা নত করবো না।” এই বক্তব্য দুই প্রান্তে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—একদিকে তিনি নিজেকে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করছেন, অন্যদিকে আন্দোলন ও সহিংসতার দায় প্রত্যাখ্যান করছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করেছে ইউনুস রেজিম। সরকার দাবি করছে—এটি হবে “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মুক্ত নির্বাচন”। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া আসলে একধরনের “নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের অভিনয়” যেখানে জনপ্রিয় দলগুলোকে বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগের মত দলকে নির্বাহী আদেশে সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ—তিন পক্ষই বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
- ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি।”
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।”
- জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
দুই দিকের টানাপোড়েন
শেখ হাসিনার আপোষহীন অবস্থান তার সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ়তা সৃষ্টি করলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন, নাকি সংঘাতমুখী রাজনীতি বেছে নিতে বাধ্য হবেন? কারণ
অন্তর্বর্তী সরকারও পিছিয়ে আসছে না। তাদের বক্তব্য, “আইনের শাসন ও শান্তি বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—সরকারের একপেশে নীতির কারণে দেশের রাজনীতি ক্রমেই সংকীর্ণ পথে গিয়ে ঠেকছে, যেখানে জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক অস্থির সন্ধিক্ষণে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন টেকসই বা গ্রহণযোগ্য হবে না—এ কথা আন্তর্জাতিক মহলও জানে। একইসঙ্গে সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ছাড়া সহসা সহজে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। প্রশ্ন রয়ে গেছে—দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র কি পুনরুজ্জীবনের পথে যাবে, নাকি আরও গভীর বিভাজনের দিকে?
Reference:








Leave a Reply