| প্রতীকী ছবি |
ধর্মীয় বিষয়
নিয়ে চিন্তা করতে করতে মনে হলো পৃথিবীর মানুষ এতো ধর্মে বিভক্ত কেনো আর যেসব
অন্যান্য ধর্ম আছে তারা কোন নবীর অনুসরণ করে, কিভাবে ধর্ম পালন করে একটু খোঁজ নিয়ে
দেখি। খোঁজ নিতে গিয়ে গুগল ঘেঁটে যেসব ধর্মের নাম পাচ্ছি তার নাম কোনোদিন আমরা শুনিনি।
শুধু ইব্রাহীম(আঃ)-এর উত্তসূরীদের মধ্যেই মানুষ বিভিন্ন ধর্মে, আবার একই ধর্মের
মানুষ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। এই পর্বে আলোচনা করবো সামারিটান ধর্মের অনুসারীদের
নিয়ে।
সামারিটান
(Samaritanism) ধর্মের উৎপত্তি ও ইতিহাস
সামারিটান
ধর্ম হলো প্রাচীন ইসরায়েলিদের একটি ধারাবাহিক সম্প্রদায়। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে ইসরায়েলের
উত্তরাঞ্চল আসিরীয় সাম্রাজ্যের দখলে গেলে ইহুদি ধর্ম থেকে আলাদা হয়ে যায় সামারিটানদের
পথ। তারা নিজেদেরকে ইসরায়েলের বারো গোত্রের উত্তরসূরি মনে করে, বিশেষ করে যোসেফ বা
ইউসুফ গোত্রের।
ধর্মগ্রন্থ ও বিশ্বাস
(১) সামারিটানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো সামারিটান তওরাত,
যা ইহুদি তওরাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে কিছু ভিন্নতা রয়েছে।
(২) তারা বিশ্বাস করে কেবল মুসা (আঃ)-ই ছিলেন আল্লাহর সত্য নবী,
অন্য কেউ নয়।
(৩) তাদের উপাসনার কেন্দ্র হলো মাউন্ট গেরিজিম, যাকে তারা
ঈশ্বরনির্ধারিত পবিত্র স্থান মনে করে—ইহুদিদের মতো জেরুজালেম নয়।
ধর্মীয় প্রথা
(১) তারা ইহুদিদের মতোই অনেক ধর্মীয় আইন পালন করে—যেমন খৎনা, কোরবানি,
পাসওভার উৎসব।
(২) তবে তাদের রীতিনীতি ও প্রার্থনাপদ্ধতি ইহুদিদের থেকে ভিন্ন।
বর্তমানে সামারিটানদের অবস্থা
আজকের দিনে
সামারিটানদের সংখ্যা অত্যন্ত কম—মাত্র ৮০০ জনের মতো। তারা ইসরায়েল ও পশ্চিম
তীরে বসবাস করে, বিশেষত নাবলুস ও হোলন এলাকায়।
প্রভাব ও উত্তরাধিকার
সামারিটান
ধর্ম মূলত ইহুদি ধর্মের একটি সমান্তরাল ধারা, যা বাইবেল ও কোরআন উভয় জায়গাতেই উল্লেখিত
হয়েছে। আজও তারা নিজেদের পরিচয় ধরে রেখেছে, যদিও সংখ্যায় খুবই ক্ষুদ্র।
আগের পর্বঃ সাবিয়ান ধর্ম







Leave a Reply