“পাদ পাদ পাদেশ্বর, পাদ নাই যার পোড়া কপাল তার”– কিংবা গ্রামের নতুন নতুন বৌ শ্বাশুড়ীর সামনে পাদ এসেছে। লজ্জায় পাদের শব্দের সাথে বসার পিঁড়ি নড়িয়ে সেই শব্দের সাথে মেশানোর চেষ্টা করছে। শ্বাশুড়ী স্লোক কাটছে – “ভেরভেরির সাথে প্যারপেরি মিশালে, গন্ধ মিশাবে কোথায়?” গ্রামের মানুষের মাঝে প্রচলিত এইসব রম্য প্রবাদটগুলির গ্রুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার সময় আসছে। একদিন হয়তো মানুষ পাদের জন্য আফসোস করবে, ‘আমার পাদ নেই কেনো’!
পাদ—মানুষের জীবনের এমন এক অনিবার্য সত্য, যা নিয়ে কথা বলতে সবাই অস্বস্তি বোধ করে, কিন্তু ভোগে সবাই। সভ্যতার যত অগ্রগতি, স্মার্টফোন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সবই হয়েছে, কিন্তু পাদের দুর্গন্ধের স্থায়ী সমাধান? এতদিন ছিলো না।
অবশেষে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে মাঠে নেমেছেন এক ফরাসি উদ্ভাবক ক্রিশ্চিয়ান পোয়েন্টচেভাল (Christian Poincheval) —আর তাঁর দাবি শুনে বিজ্ঞানও খানিকটা লজ্জা পাচ্ছে!
উদ্ভাবকের ঘোষণা অনুযায়ী, শিগগিরই এমন দিন আসতে পারে, যখন পাদ দিলে পাশের মানুষ নাক চেপে ধরবে না; বরং মনে মনে ভাববে—“এটা কি চকলেটের ঘ্রাণ?” নাকি গোলাপের?
পাদের গন্ধ বদলাবে কীভাবে?
না, এতে কোনো সুগন্ধি স্প্রে বা ‘পাদ-ডিও’ ব্যবহার করতে হবে না। উদ্ভাবকের দাবি, এটি এক ধরনের খাদ্য বা ক্যাপসুল, যা খেলে অন্ত্রে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস আর আগের মতো আচরণ করবে না।
গ্যাস থাকবে, পাদও থাকবে—কিন্তু গন্ধ হবে ভদ্র, সভ্য এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য!
বিজ্ঞানের নাকে সন্দেহের ভাঁজ
তবে বিজ্ঞানীরা এটা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁদের প্রশ্ন—“অন্ত্র কি পারফিউমের দোকান?”
কারণ পাদের গন্ধ তৈরি হয় সালফারজাত গ্যাস থেকে, আর সেই জটিল রসায়নকে গোলাপ-চকলেটে রূপ দেওয়া কাজটা মোটেও সহজ নয়।
তবু বিজ্ঞানীরা এটুকু মানছেন—গন্ধ কমে যাওয়া সম্ভব। আর গন্ধ কমে গেলেই তো অনেকটা শান্তি, স্বস্তি!
আগেও চেষ্টা হয়েছে
পাদ নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে- বাজারে এসেছে চারকোল ট্যাবলেট, গন্ধহীন অন্তর্বাস, এমনকি ‘অ্যান্টি-ফার্ট টি’। কিন্তু সেগুলো দুর্গন্ধ লুকিয়েছে—
আর এই ফরাসি উদ্ভাবক চাইছেন দুর্গন্ধকে সরাসরি সুগন্ধে রূপান্তর করতে। সাহস কম নয়! মানুষের উৎসুক এখন তার দিকে।
সমাজের জন্য বিপ্লব?
ভাবুন তো—বাসে, লিফটে বা অফিস মিটিংয়ে কেউ পাদ দিলো, আর আশপাশে কেউ অস্বস্তিতে নয়—বরং একচিলতে হাসি! এটা যদি সত্যিই কাজ করে, তাহলে এটাকে হয়তো একদিন বলা হবে—“মানবসভ্যতার সবচেয়ে সুগন্ধি আবিষ্কার”।
শেষ কথা
পাদের গন্ধ গোলাপ নাকি চকলেট হবে—সেটা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে ফরাসি উদ্ভাবক অন্তত একটা কাজ করেছেন নিশ্চিতভাবে—একটা বিব্রতকর বিষয়কে এনে ফেলেছেন হাসি, কৌতূহল আর আলোচনার কেন্দ্রে।
“জয় হোক পাদ মহারাজের”
আরও পড়ুনঃ








Leave a Reply