লুসাই বা মিজো হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি প্রধান আদিবাসী জনগোষ্ঠী। এরা বর্তমানে প্রধানত মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে বসবাস করে। ঐতিহাসিকভাবে তাদের একটি অংশ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও বসতি স্থাপন করেছিলো।
পরিচয় ও নামের উৎপত্তি
“লুসাই” শব্দটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বেশি ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে তারা নিজেদের পরিচয় হিসেবে “মিজো” নাম গ্রহণ করে। মিজো অর্থ আনুমানিকভাবে “পাহাড়ি মানুষ” (Mi = মানুষ, Zo = পাহাড়/উঁচু ভূমি)। বর্তমানে “মিজো” নামটিই বেশি প্রচলিত ও স্বীকৃত।
ভাষা
লুসাই বা মিজোদের ভাষা মিজো বা লুসাই ভাষা নামে পরিচিত, যা তিব্বত-বর্মী ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ভাষাটি রোমান হরফে লেখা হয়। এটি ব্রিটিশ মিশনারিদের প্রভাবের ফল।
ধর্ম
ঐতিহাসিকভাবে তারা প্রকৃতির উপাসনা ও লোকবিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলো। তবে ১৯ শতকের শেষভাগ ও ২০ শতকের শুরুতে খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমনের পর অধিকাংশ লুসাই/মিজো জনগোষ্ঠী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। বর্তমানে মিজোদের বড় অংশই খ্রিস্টান।
সমাজ ও সংস্কৃতি
লুসাই সমাজ ঐতিহ্যগতভাবে গোত্রভিত্তিক ছিলো এবং প্রধান (Chief)-নেতৃত্বাধীন গ্রাম ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো। তাদের সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমবায়ের চর্চা ছি্লো প্রবল। “জুম” চাষ (ঝুমচাষ) ছিলো তাদের প্রধান জীবিকা।
তাদের নিজস্ব লোকসংগীত, নৃত্য (যেমন বাঁশের নৃত্য) ও উৎসব রয়েছে। “চাপচার কুট” (Chapchar Kut) তাদের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা ঝুমচাষের মৌসুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে উপস্থিতি
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে লুসাই জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ এখনো বসবাস করে, বিশেষত বান্দরবান অঞ্চলে – যার আনুমানিক সংখ্যা ২ হাজার। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
লুসাই বা মিজো জনগোষ্ঠী উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতিগত পরিচয় বহন করে, যারা ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে সমৃদ্ধ এবং স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ।







Leave a Reply