![]() |
| ডব্লিও এএস ওডারল্যান্ড |
বাটা কোম্পানি ইসরায়েলিও না, এর মালিক ইহুদিও না। ইসরায়েলি কোম্পানি না হওয়া সত্ত্বেও বাটা কোম্পানির প্রতি ক্ষোভের কারণ, কোম্পানির তৎকালীন ম্যানেজার ডব্লিও এএস ওডারল্যান্ড ছিলেন বাংলাদেশের একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নয়, তিনি একজন উঁচু মাপের গোয়েন্দাও ছিলেন। তিনিই একমাত্র বিদেশি যিনি “বীর প্রতীক” খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
ডব্লিও এএস ওডারল্যান্ড (১৯১৭-২০০১) ১৯১৭ সালে নেদারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।ওডারল্যান্ড ছিলেন একজন ওলন্দাজ-অস্ট্রেলীয় সামরিক কমান্ডো অফিসার। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭০ সালে তিনি বাটা স্যু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে প্রথম ঢাকায় আসেন। ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে বাটা জুতার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে টঙ্গীর কারখানায় নিয়োগ পান।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীর প্রতীক প্রদান করে। তিনিই একমাত্র বিদেশী বাংলাদেশী যিনি মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “বীর প্রতীক” খেতাব পান।
বাংলাদেশের প্রতি অপরিমেয় ভালবাসার জন্য বাঙ্গালী জাতির কাছে তিনি বিশেষভাবে সম্মানিত ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি রাস্তা তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে গণহত্যা চালায়। সে সময় তিনি সেই রাতের ভয়াবহতার কিছু ছবি তুলে পাঠান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
বাটা স্যু কোম্পানীর মত একটি জনপ্রিয় বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়াতে তার অবাধ চলাচল ছিল সর্বত্র। সেই সুযোগে তিনি সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিক্কা খান, রাও ফারমান আলী, নিয়াজিদের সাথে। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্নেল এমএজি ওসমানীর সাথে যোগাযোগ রাখতেন। পাকবাহিনীর সব তথ্য তিনি কর্নেল ওসমানীকে দিতেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা হিসেবে পাকবাহিনীর নির্মম গণহত্যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এরপর তিনি নিজেই বাটার শ্রমিকদেরকে সংঘবদ্ধ করে টঙ্গীসহ সেক্টর ১ এবং ২ নম্বরের অধীনে গড়ে তোলা গেরিলা বাহিনীকে নিজ দায়িত্বে প্রশিক্ষণ দেন। একজন বিদেশী হয়েও নিজের প্রতিষ্ঠিত জীবন বিপন্ন করে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তিনি বাঙ্গালী যোদ্ধাদের নিয়ে টঙ্গী-ভৈরব রেললাইনের ব্রীজ, কালভার্ট ধ্বংস করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে তোলেন।
সে সময় তিনি ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনের গোপন সহযোগিতা পেতেন। রক্তক্ষয়ী নয়মাস মুক্তিযুদ্ধের শেষে টঙ্গীতে ফিরে আসেন বিজয়ীর বেশে।
১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন তিনি। তারপর নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। এই মহান মানুষটি ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
![]() |
| ডব্লিও এএস ওডারল্যান্ড |
“বাংলাদেশে বাটা কোম্পানির শোরুম ভেঙে, জুতা চুরি ও লুটপাট করে অকৃতজ্ঞ বেঈমান পাকিস্তানের দোসররা তারই প্রতিশোধ নিলো।”









Leave a Reply