| জাগ্রত হোক বিবেক, জয় হোক মানবতার |
“যদি কেউ কাউকে হত্যার প্রতিশোধ
হিসেবে নয় অথবা (এবং) ভপৃষ্ঠে বিপর্যয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয় – বিনা অপরাধে
হত্যা করে, তাহলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করল, আর যদি কেউ কারও জীবন রক্ষা করে,
তাহলে যেন সে সমস্ত মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।”(৫:৩২)
এখানে মানব্জাতির কথা বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের কথা
বলা হয়নি।
মূল নিবন্ধঃ
বাংলাদেশের মোট আয়তনের
২২ হাজার ১৫৫ কিলোমিটার হচ্ছে নদী। ৫৭ টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪ টির উৎপত্তি
হচ্ছে ভারতে। ভারত থেকে আসা পলিমাটি থেকেই আজ থেকে ১২ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি
হয়েছে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড। পলি মাটি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও
জনপদ। ভারত থেকে আসা ৫৪ টি নদী থেকে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে আরও ২৩০ টি নদী।
সাধারণত নদীর উৎপত্তি হয় হিমবাহ বা উচ্চ পর্বতমালা থেকে। অধিক সংখ্যক নদীর জন্য
আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। বাঙালি এটাই আমাদের পরিচয়।
গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী
থেকে উৎপত্তি হয়েছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। এই
ব-দ্বীপের এক খন্ডে আমাদের বাংলাদেশ ও অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশের
বগুড়া, জয়পুরহাট ও কুমিল্লায় প্লাইসটোসিন যুগের মানব সভ্যতার প্রমাণ পাওয়া
গেছে, যা প্রায় ১২ হাজার থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো। পৃথিবীতে ধর্ম এসেছে
বড়জোর পাঁচ থেকে ছয় হাজার বছর আগে। তার মানে পৃথিবীতে ধর্মের উৎপত্তি হওয়ার
প্রায় ৬ হাজার বছর আগে থেকেই এই ব-দ্বীপে মানব বসতি ছিল।
মানুষকে
ধর্ম দিয়ে নয়, মানুষকে মানবতা দিয়ে বিচার করুন। মানব
বসতির জন্য এই অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা হচ্ছে বরেন্দ্রভুমি ও চট্রগ্রামের
লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল। এই অঞ্চলে আর্যদের আগমনের পূর্বে প্রোটো – অস্ট্রালয়েড,
তিব্বতীয় – বার্মিজ, সিনো – তিব্বতীয় জাতিগোষ্ঠীর বিচরণ ছিলো। বাংলাদেশে
বসবাসকারী সবচেয়ে পুরাতন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পুন্ড্রু, বঙ্গ এবং
সুহ্ম।
সম্রাট অশোক, গুপ্ত,
মৌর্য, আর্য, মোঘল, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান থেকে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১ লক্ষ
৪৭ হাজার কিলোমিটারের বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড। এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের জন্মদাতা হচ্ছেন
শেখ মুজিবুর রহমান। সারাবিশ্বে আজ বাঙালি ও বাংলাদেশের যে পরিচয় সেই পরিচয়ের
মহানায়ক হচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকার করা মানে
হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা।
বাঙালির ডিএনএ এর মধ্যে
আর্য, গুপ্ত, মৌর্য, মোঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ডিএনএ মিউটেশন হওয়ার ফলে এই
অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে আর্য, গুপ্ত ও মৌর্যদের সময়ের পরিশ্রমী বাঙালি যেমন দেখতে
পাবেন, ঠিক তেমনি একটু টাকা-পয়সা হয়ে গেলেই এদের মোঘলী চরিত্রটাও খুব কাছ থেকে
দেখতে পাবেন। এই বাঙালির ডিএনএতে খুনী, ধর্ষক ও নারী লোভী চরিত্রগুলো এসেছে মুলত
মোঘল শাসক ও পাকিস্তানীদের কাছ থেকে।
ব্রিটিশরা দুইশো বছর
আমাদের শাসন করলেও আমাদের কোন প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করে যায়নি। কিন্তু ব্রিটিশরা
খুব সুক্ষ্মভাবে বাঙালির পরিবেশগত রেডিয়েশন ও জেনেটিক ক্রুটি এসব বুঝতে পেরে
বাঙালির মগজে হিন্দু ও মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার বীজ খুব কৌশলে রোপণ করে গেছে। কিছু
হলেই এই অঞ্চলে হিন্দু মুসলিম বৈষম্য তৈরি করে মুল বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি
সরিয়ে নেন রাজনীতিবীদেরা। রাজনীতির সবচেয়ে নোংরা এই খেলাটির নাম হচ্ছে ধর্ম
খেলা। এর থেকেই জন্ম নিয়েছে এই দেশে একদল ভন্ড রাজনীতিবীদ, সাহিত্যিক ও
বুদ্ধিজীবী। যাদের পরবর্তী প্রজন্ম মানুষ না হয়ে হয়েছে মরুভূমির উট। চীনের দুঃখ
যেমন হুয়াংহো নদী, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের শত শত বছরের দুঃখ হচ্ছে এই মরুভূমির উট
প্রজন্ম।
স্বাধীনতার স্বপক্ষের
শক্তি আওয়ামীলীগের আজকে দেশছাড়া হওয়ার পেছনে দায়ী হচ্ছে এই মৌলবাদী উট
প্রজন্ম। তিনটি গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকের সমান ১৩০ লিটার পানি দশ মিনিটে যে উট খেয়ে
ফেলতে পারে সে উট প্রজন্মের জানা উচিত ছিল, এই জলটা বাংলাদেশে কোথা থেকে আসে?
কিন্তু তারা তা কখনোই অধ্যায়ন করেনি। বাঙালির ইতিহাস না পড়েই তারা বাংলাদেশী বলে
ফাল দেয়। সেই বাংলাদেশ যিনি সৃষ্টি করে দিলেন তার কথা শুনলেই আবার তাদের গায়ে
ফোস্কা পড়ে। এর কারণ হচ্ছে জন্ম বাংলাদেশের পলিমাটিতে হলেও এদের ডিএনএ এসেছে
পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি থেকে। এদের যত জ্ঞান দিন না কেন এদের উট মগজ
কখনোই মানুষের মত চিন্তা ভাবনা করতে পারবে না। এরা এতোই জঘণ্য যে ওরা যে
পাকিস্তানের জন্য মায়াকান্না করে সেই পাকিস্তানীরা আমাদের দেশের ত্রিশ লক্ষ নিরীহ
মানুষকে হত্যা করেছে। পৃথিবীর একমাত্র জাতি হচ্ছে এই মৌলবাদী উট, যারা নিজ দেশের
মানুষের জন্য না কেঁদে পৃথিবীর অন্যতম অভিশপ্ত রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য কাঁদে। যারা
নিজেদের জন্ম পরিচয় ভুলে যায় এদের ধ্বংস সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইরাক ও ফিলিস্তিনের
মধ্যবর্তী মরুভুমি অঞ্চলের ট্রান্স জর্দানে সাদ্দূম নগরীতে একটি জাতির জন্ম
হয়েছিল। ইতিহাসে যাদের লুত জাতি বলা হয়। এরা পুরুষে পুরুষে যৌনাচারে লিপ্ত ছিল।
এদের অধিকাংশই এখনো সমকামিতার রোগে ভুগে। পত্রিকার পাতা ও টিভিতে চোখ রাখলে প্রায়
সময়ই শিশুদের বলাৎকারের রিপোর্ট দেখতে পাবেন বাংলাদেশে। দূর্ভাগ্যর বিষয় হচ্ছে
এই পটুখোররাই এখন দেশে জ্ঞান বিতরণ করে। এদের হাতেই সমগ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও
সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে গেছে।
এরা ভারত থেকে শিল্পী আনা
হারাম প্রচার করে পাকিস্তান থেকে তিন কোটি টাকা দিয়ে শিল্পী এনে উদাম নৃত্য করে।
অথচ, গান ও বাজনা এই দুটোই আমাদের ধর্মে সম্পূর্ণ হারাম বলে প্রচার করেন তারা।
এদের মগজে একটাই উপাদান আছে সেটা হচ্ছে ভারত বিরোধিতা। এদের এই ভারত বিরোধিতার
সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ১৯৭১ সালে ভারত এদের পটু মেরে দিয়েছিলো। সেই ক্ষত আরও
হাজার বছরেও এই লুত জাতির বংশধরেরা ভুলতে পারবে না।
এই উট প্রজন্ম হচ্ছে একদল
মানসিক অসুস্থ সিজোফ্রোনিয়া রোগী। এরা সবসময় মুক্তিযুদ্ধ ফোবিয়া, ভারত ফোবিয়া
ও শেখ হাসিনা ফোবিয়ায় ভুগেন। এরা কখনোই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানতে
রাজি নয়। কারণ তিনি একজন নারী এবং তেনাদের কাছে নারী নেতৃত্ব হারাম। কিন্তু এরাই আবার
খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী মানতে কোন আপত্তি করে না। মুলত এদের সমস্যা কিসে তা
এরা নিজেরাই জানে না। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম বড় কারন হচ্ছে এই উট
প্রজন্মকে চিহ্নিত করতে না পারা, এদের মানসিক সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করা। একটা
জাতির বড় একটা অংশই যদি মানসিক রোগী হয়ে যায় তবে এটা একটা অসম্ভব কাজও বটে।
কিন্তু এই সমস্ত রোগীদের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।
একটা জাতিকে সুশিক্ষায়
শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে শিক্ষক। এই শিক্ষক নিয়োগ থেকে
শুরু করে তাদের প্রশিক্ষণ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের
সকল সরকার। যার ফলে আজকের এই বাংলাদেশ নামক মরুভূমিতে যেমন খুশি তেমন উটের চাষ
হয়েছে। এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে এই জাতিকে লুত জাতির মত ধ্বংস করে
দেওয়া। এর থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে এদের মগজে মিউটেশন ঘটিয়ে দেওয়া। এদের সমুলে
নিশ্চিহ্ন করা ছাড়া জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।
উট একটি নিরীহ প্রাণী।
কিন্তু যে সব উট মগজ পলিমাটির বাংলাদেশ তথা তার জাতিগত পরিচয় ভুলে ধর্মীয় পরিচয়
সামনে এনে অভিশপ্ত পাকিস্তানের গোলামী করে ওরা মানসিক অসুস্থ কীট। এদের সঠিক
চিকিৎসা ছাড়া কখনোই মানবজাতির মুক্তি সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ পলিমাটির দেশ।
এই দেশ আরবের মরুভূমি নয়। বাংলাদেশকে ভালোবাসুন, পাকিস্তানকে ঘৃণা করুন। পৃথিবীতে
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে বাঙালি হয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করে পাকিস্তানকে
ঘৃণা না করলে আপনি পশু ছাড়া আর কিছুই নন।
আমি মানুষ, আমি বাঙালি ।
আমরা মরুভুমি উট নই, আমরা মানুষ। মানুষ কোনদিন হিন্দু মুসলমান ধর্মযুদ্ধ করতে পারে
না, মানুষ কখনো জ-ঙ্গী হতে পারে না, মানুষ কখনো সাম্প্রদায়িক উন্মাদ হয় না। এসো,
মরুভুমির উট না হয়ে আমরা মানুষ ও বাঙালি পরিচয়ে বাঁচি।।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লিখেছেনঃ লুসিড ড্রিম (শুভ)-আংশিক
সংযোজিত
এই নিবন্ধের সম্পূর্ণ
কৃতিত্ব লেখকের







Leave a Reply