![]() |
| প্রতীকী ছবি |
হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর তিনজন স্ত্রী
ছিলেন—সারা, হাজেরা এবং কেতুরা। তাঁর দুই খ্যাতনামা পুত্র হচ্ছেন ইসহাক (আঃ) ও
ইসমাইল (আঃ)। সারা থেকে জন্ম নেন ইসহাক (আঃ), আর হাজেরার গর্ভে জন্ম নেন ইসমাইল
(আঃ)। এছাড়াও, কিছু মতানুসারে কেতুরার গর্ভে ইব্রাহিম (আঃ)-এর আরও ছয়জন পুত্র ছিলো।
সারার
হিংসার কারণে ইসমাইল (আঃ) ও তাঁর মা হাজেরাকে মক্কার দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আর
ইসহাক (আঃ) থেকে যান সারার কাছে। পরবর্তীতে ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র ইয়াকুব (আঃ)-এর ১২
জন পুত্রের বংশধারা থেকেই ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম এবং তাদের নানা শাখা-প্রশাখার
উৎপত্তি ঘটে।
অন্যদিকে,
ইসমাইল (আঃ)-এর বংশধারা থেকে আসে ইসলাম ধর্ম, যার বিস্তারিত আলোচনায় আমরা পরে যাবো।
তবে এই
পর্বে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো রাসতাফারি ধর্ম—একটি
তুলনামূলকভাবে আধুনিক ইব্রাহিমীয় ধারার শাখা, যা আফ্রিকান ও ক্যারিবীয় প্রেক্ষাপটে
বিকশিত হয়েছে।
রাসতাফারি ধর্ম
(Rastafari)
উৎপত্তি ও ইতিহাস
রাসতাফারি
আন্দোলনের জন্ম হয় ১৯৩০-এর দশকে জামাইকায়। ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলি সেলাসি
প্রথম (যার আসল নাম রাস তাফারি মাকোনেন) সিংহাসনে বসলে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান
তাকে মেসায়া বা ঈশ্বরের প্রতিফলন মনে করে। এখান থেকেই “রাসতাফারি” নামের উৎপত্তি।
ধর্মগ্রন্থ ও বিশ্বাস
(১) তারা বাইবেলকে পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে মানে, তবে আফ্রিকান
ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাখ্যা করে।
(২) তাদের প্রধান বিশ্বাস হলো—
(ক) কৃষ্ণাঙ্গরা ঈশ্বরের নির্বাচিত জাতি।
(খ) আফ্রিকা, বিশেষত ইথিওপিয়া, তাদের প্রতিশ্রুত ভূমি।
(গ) পশ্চিমা সভ্যতা (যাকে তারা “Babylon” বলে) হলো দমন ও
অন্যায়ের প্রতীক।
(৩) হাইলি সেলাসিকে তারা “Jah” বা ঈশ্বরের রূপ হিসেবে শ্রদ্ধা করে।
ধর্মীয় প্রথা
(১) গাঁজা (Cannabis) ব্যবহার তাদের ধর্মীয় আচার ও ধ্যানের অংশ।
তারা এটিকে ঈশ্বরপ্রদত্ত উদ্ভিদ মনে করে।
(২) চুলে ড্রেডলক রাখা রাসতাফারিদের পরিচিত চিহ্ন, যা তারা বাইবেলের
নাযিরাইট শপথের সাথে যুক্ত করে।
(৩) তারা আফ্রিকান সংগীত ও বিশেষত রেগে (Reggae)-কে ধর্মীয়
আধ্যাত্মিকতার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
রাসতাফারি ধর্মের বর্তমান অবস্থা
আজকের দিনে
রাসতাফারি অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ, যারা মূলত জামাইকা, আফ্রিকা,
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বসবাস করে। বিশ্বখ্যাত গায়ক বব মার্লে এই ধর্মের অন্যতম
প্রভাবশালী প্রতিনিধি ছিলেন।
প্রভাব ও উত্তরাধিকার
রাসতাফারি
কেবল ধর্ম নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনও, যা আফ্রিকান পরিচয়, কৃষ্ণাঙ্গদের মুক্তি
ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা দেয়। রেগে সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে এটি
বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে।
পূর্বের পর্বঃ সামারিটান ধর্ম









Leave a Reply